হিষ্কৃত হয়েও মঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে, যা বললেন সাক্কু
অনলাইন ডেস্ক :
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (কুসিক) দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার হন মনিরুল হক সাক্কু। বিএনপি থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলেও কুমিল্লায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমাবেশের মঞ্চে উঠে আসন পেয়েছেন তিনি। গত দুই দিন ধরে এসব ছবি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
নেটিজেনরা বলছে, সাক্কুর বহিষ্কারাদেশ কি প্রত্যাহার হচ্ছে? তিনি কিভাবে তারেক রহমানের সমাবেশ মঞ্চে ঠাঁই পেলেন? ফেসবুকে এবং নগরজুড়ে আলোচনা ও কৌতূহলের উত্তর দিয়েছেন খোদ সাক্কু। তিনি বলেছেন- দলের সবুজ সংকেত পেয়েই আমি মঞ্চে উঠেছি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকায় বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ মঞ্চে উঠেন সাক্কু। রাতে তারেক রহমান বক্তব্য দেওয়ার সময়েও সাক্কুকে মঞ্চে দেখা যায়।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় সাক্কু আজীবনের জন্য বিএনপি থেকে বহিষ্কার হন। তবে এবারের সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকে তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন উঠে। মনোনয়নপত্রও কেনেন। পরে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীকে সমর্থন জানিয়ে আর মনোনয়নপত্র জমা দেননি। এখন মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে কাজ করছেন। দলীয় সূত্র বলছে, সাক্কুর দলে ফেরার বিষয়টি যে কোনো সময় চিঠি আসতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সাক্কু দলে ফিরছেন- এমন গুঞ্জনের মাঝেই গত ২৬ অক্টোবর ঢাকার গুলশানে তিনি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেন। কুমিল্লায় ফিরে সাক্কু মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে প্রচারে অংশ নেন।
দলীয় সূত্র বলছে, তারেক রহমানের সমাবেশে সাক্কুর অংশগ্রহণের বিষয়ে সপ্তাহখানেক আগেই দলের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত এসেছে।
এ বিষয়ে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই আমি বিএনপি এবং শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী একজন মানুষ। জীবনে কখনো আদর্শচ্যুত হইনি। দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি দল ছাড়িনি। দলীয় আদর্শ থেকেই প্রিয় নেতা তারেক রহমানের সমাবেশে গিয়েছি। আমি বিএনপির সঙ্গেই আছি। দল কখন বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করবে সেটা দলের বিষয়। আমি আমার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সাক্কু বিএনপিকে ভালোবাসেন। তিনি এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি। এটা দলের জন্য তার অনেক বড় ত্যাগ। তাই সাক্কুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক চিঠি সময়মতো আসবে ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, মনিরুল হক সাক্কু বিএনপি থেকে অব্যাহতি নিয়ে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আফজল খানকে হারিয়ে নাগরিক কমিটির ব্যানারে মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ তিনি বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে আফজল খানের কন্যা নৌকার প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। তবে ২০২২ সালের ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় ওই বছরের মে মাস থেকেই তিনি আজীবনের জন্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হন নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর রিফাতের মৃত্যুর পর ২০২৪ সালের ৯ মার্চ কুমিল্লা সিটির উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র পদে সাক্কু নির্বাচনে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হন সদর আসনের তৎকালীন এমপি আকম বাহাউদ্দিনের মেয়ে ডা. তাহসিন বাহার সূচনা।



