Logo
Logo
×

সারাদেশ

সোনারগাঁয়ে অটোরিকশাচালক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেপ্তার ৫

Icon

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

সোনারগাঁয়ে অটোরিকশাচালক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেপ্তার ৫

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী অটোরিকশা চালক মো. সোহেল মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনার চারদিন পর রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। 

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ  প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত হলেন- মো. সুজন মিয়া (৩৩), মো. শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯)। তাদের সহযোগী মো. দুলাল মিয়া (৪৫), মো. আব্দুর রহিম মিয়া (৫৫) ও মো. আবুল কাশেম (৪০)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি রূপগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, নিহত সোহেল শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। এরপর আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশে একটি লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পরিবার। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা লাশটি সোহেলের বলে শনাক্ত করে তার পরিবার। লাশের নাক, মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. মহসিন মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআই অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।

পিবিআই প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, অর্থের অভাবে আসামি সুজন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম হীরা পরিকল্পিতভাবে সোহেলকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার বিকেলে তারা সোহেলের অটোরিকশা ভাড়া করে স্থানীয় একটি বাজারে যান। সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে সোহেলকে খাওয়ানো হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে তাকে মুছারচর এলাকার একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সোহেলের হাত, নাক ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে মোড়িয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের পর ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি রূপগঞ্জ এলাকার একটি গ্যারেজে রাখা হয়। পরে তা বিক্রি করা হয়। অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত তিন আসামি জিজ্ঞাসাবাদে চোরাই অটো কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইকৃত ও চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলেও জানিয়েছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম হীরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য তিনজন ছিনতাইকৃত অটো কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন