টেকনাফে মা ও নবজাতকের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু করলো সেভ দ্য চিলড্রেন
কক্সবাজার প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফে গর্ভবতী মা, প্রসূতি নারী ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষায়িত মা ও শিশু হাসপাতাল চালু করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন। বৃহস্পতিবার থেকে টেকনাফের চাকমারকুল এলাকায় চালু হওয়া এই হাসপাতালটি স্থানীয় জনগোষ্ঠি ও রোহিঙ্গা মা ও নবজাতকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারের পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, সেভ দ্য চিলড্রেন পরিচালিত এই হাসপাতালটি ২৪ ঘণ্টা জরুরি ও নিরাপদ প্রসূতি সেবায় কাজ করবে। এছাড়া এই হাসপাতাল রেফারেল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণে স্থানীয় অংশীদার ও সরকারের সাথে সমন্বয় করবে।
তিনি জানান, ৬০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে চলমান প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সিজারিয়ান অপারেশন, জরুরি নবজাতক সেবা ও রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা চালু করা হবে। চলমান সেবাগুলোর মধ্যে বহিঃবিভাগ ও অন্তঃবিভাগ সেবা, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা, ওষুধ সরবরাহ, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিকিৎসা সেবা, গর্ভকালীন পরিচর্যা, পুষ্টি সেবা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকারদের জন্য সেবা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফারেল ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হাসপাতালের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলেন, “রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় মা ও শিশুর নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সেভ দ্য চিলড্রেনের এ উদ্যোগ সময়োপযোগী। সরকার এই হাসপাতালের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করবে।“
অনুষ্ঠানে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারের পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, “প্রতিটি মায়ের নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার এবং প্রতিটি শিশুর সুস্থ জীবনের সূচনা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কক্সবাজারে অনেক নারী গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের সময় প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকির মুখে পড়েন। এই হাসপাতাল সেই বিশেষায়িত সেবাকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে এসেছে। আমরা বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি, যাতে এই হাসপাতালটি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য একটি শক্তিশালী ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠতে পারে।
২০২৫ সালে বৈদেশিক সহায়তা ও দাতা অর্থায়ন হ্রাস পাওয়ায় কক্সবাজারে একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ অন্যান্য মানবিক সহায়তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন এই হাসপাতালটি উখিয়া ও টেকনাফের স্বাস্থ্যসেবায় একটি বড় শূন্যতা পূরণ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে এবং কক্সবাজারে ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার প্রকল্প চালাচ্ছে।



