জোটের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনসিপির তুষারের বিরুদ্ধে
নরসিংদী প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে জোটের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোটভুক্ত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)কে আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. আমজাদ হোসাইন শেষ পর্যন্ত তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে এই সিদ্ধান্ত না আসায় জোটের ভেতর আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জামায়াতের নেতাকর্মীরা বলছেন, মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার আগেই নরসিংদী-২ পলাশ নির্বাচনী এলাকার কিছু কর্মী-সমর্থক নরসিংদী-১ সদর আসনের শহরের গাবতলী এলাকায় আমজাদ হোসাইনের বাসায় জড়ো হন। এ সময় তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করেন এবং বাসার গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেন। কর্মীদের স্লোগান ও অবস্থানের কারণে তিনি বাসা থেকে বের হতে না পারায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি।
এদিকে বিষয়টিকে ‘নাটক’ আখ্যা দিয়ে জোটের সিদ্ধান্ত অবমাননার অভিযোগ তুলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছেন জোটের অপর প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, জামায়াতের প্রার্থী আমজাদ হোসেন একটি নাটক মঞ্চস্থ করে দলীয় ও জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করার মাধ্যমে জোটের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। এ বিষয়ে আমরা জোটের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ব্যালটের মধ্যে এই আসনের জামায়াতের প্রতীক যেনো না আসে সেই সংক্রান্ত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলীয় নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাকে নানাভাবে চাপ দিয়েছেন যেন আমি প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়াই। উনার কর্মীসমর্থকদের একটি অংশ অনলাইনে ব্যাপক ভাবে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করেছে, আমাকে মানসিক চাপের মধ্যে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতেও আমি ও আমার দল সহনশীল আচরণ করেছি। আমাদের জোটের মূল লক্ষ্য একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু জোটের ভেতরেই যদি ঐক্য বজায় না থাকে, তাহলে বৃহত্তর ঐক্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা আশা করবো তার বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এব্যাপারে নরসিংদী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুসলেহ হুদ্দিন ও জেলা জামায়াতের সক্রেটারী ও নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আমজাদ হোসেন এর সাথে বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ কারার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জেলা জামায়াতের এসিস্টেন্ট সেক্রেটারী ও নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জামায়াতে ইসলামী যা বলে তাই করে, আজকে তো মার্কার জন্য যায়নি, আমরা সিদ্ধান্তে অটুট। আমরা যাকে সমর্থন দিয়েছে তিনিই নির্বাচন করবেন।



