ধান ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ মণ্ডল হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। জমি নিয়ে বিরোধ ও সন্দেহের জেরে আপন দুই ভাতিজা মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তাদের চাচাকে। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অভিযানে নেমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন- শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের ফেরদৌসের ছেলে রাকিবুল হাসান সিয়াম (১৬) এবং একই গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে আতিক হাসান (২১)। তারা নিহত আব্দুল হামিদ মণ্ডলের আপন ভাতিজা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুল হামিদ মণ্ডল (৪৫) ভবানীপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় একজন ধান ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি বাজারের উদ্দেশ্যে ধানের টাকা সংগ্রহে বের হন। তবে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
রাতভর স্বজন ও প্রতিবেশীরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয়রা জামালপুর গ্রামের রাস্তার পাশের একটি জমিতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশ জানায়, নিহতের জানাজা শেষে এক ভাতিজার অস্বাভাবিক আচরণ ও কাঁপতে থাকা শরীর পুলিশের সন্দেহের জন্ম দেয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দুই ভাতিজাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও চাচার প্রতি সন্দেহ থেকেই তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। পরিকল্পিতভাবে চাচাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
শেরপুর থানার ওসি মো. ইব্রাহীম আলী বলেন, খুনের ঘটনায় প্রাথমিক অবস্থায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হবে।



