Logo
Logo
×

সারাদেশ

ইব্রাহিমের সাফল্যের গল্প

করতোয়ার জেগে ওঠা চরে সবজি চাষে ভাগ্য বদল

Icon

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

করতোয়ার জেগে ওঠা চরে সবজি চাষে ভাগ্য বদল

বগুড়ার শেরপুরে করতোয়া নদীর জেগে ওঠা চরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ইব্রাহিম মণ্ডল (৪০)। শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের বাংড়া পদ্দার পাড়া গ্রামের এই কৃষক প্রমাণ করেছেন— সুযোগ আর পরিশ্রম এক হলে প্রতিকূলতাও জয় করা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, করতোয়ার বিস্তীর্ণ জেগে ওঠা চরে ইব্রাহিম মণ্ডল চাষ করছেন পেঁয়াজ, মিষ্টি আলু, গাজর, ধনেপাতা, ফুলকপি, পাতাকপি, মুলা, ভুট্টা, পালং শাক ও রসুন। ফসল রক্ষায় শিয়াল ও ছাগলের আক্রমণ ঠেকাতে জমির আইলের পাশে বেড়া হিসেবে সরিষার চাষও করেছেন তিনি—যা একদিকে সুরক্ষা, অন্যদিকে বাড়তি আয়ের পথ খুলে দিয়েছে।

ইব্রাহিম মণ্ডল জানান, ভাগ্য ফেরানোর আশায় সৌদি আরব যাওয়ার জন্য দালালকে টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হন তিনি। এতে বিদেশযাত্রা বন্ধ হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পড়লেও হাল ছাড়েননি। বিকল্প পথ হিসেবে তিনি নদীর জেগে ওঠা পরিত্যক্ত চরে সবজি চাষে মন দেন।

প্রথমে তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে চাষ শুরু করেন। পরে জেগে ওঠা আরও দুই বিঘা চরে চাষ সম্প্রসারণ করেন। ধারাবাহিক পরিশ্রম আর পরিকল্পিত চাষাবাদের ফলেই আজ তিনি স্বাবলম্বী।

ফসল উৎপাদনের হিসাব তুলে ধরে ইব্রাহিম জানান, প্রতি শতকে পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদন হয় প্রায় এক মণ করে। এক বিঘা জমিতে গাজর ও ফুলকপি হয় ৩০ থেকে ৪০ মণ, পাতাকপি হয় প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার পিস। মিষ্টি আলু হয় বিঘা প্রতি ৫০ থেকে ৬০ মন, মুলা ৩০ থেকে ৪০ মন এবং ধনেপাতা এক বিঘায় প্রায় ১০ মন।

তবে ভালো ফলন হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, নদীতে বিভিন্ন কলকারখানা, দোকানপাট ও রেস্টুরেন্টের আবর্জনা ফেলায় পানি দূষিত হচ্ছে, এতে জেগে ওঠা চরের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। চরে আটকে পড়া পলিথিন বাছাই করতে অতিরিক্ত শ্রম ও সময় ব্যয় করতে হয়।

তিনি নদীর তলদেশ ভরাট ও পানি দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের পাশাপাশি জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ফারজানা আক্তার জানান, প্রান্তিক কৃষকদের চাষাবাদে সহায়তা, ফসল রক্ষা ও ভালো ফলনের জন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদীচরের চাষাবাদে আধুনিক ও টেকসই পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও জানায় দপ্তরটি।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন