মানিকগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণ, ২ আনসার সদস্য আটক
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর স্বামী সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজস্ব ব্যাটারিচালিত ভ্যানে স্ত্রীকে নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নানার বাড়িতে যাচ্ছিলাম। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসতে রাত ১টা বাজে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আসি। সেখানে দুই আনসার সদস্য আমাদের পরিচয় নিয়ে দু-তলায় বসতে বলেন। পরে আমার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের দু-তলায় যাই।
রাত আনুমানিক ৪টার দিকে দুই আনসার সদস্য আমাদের কছে এসে বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা আমাকে নিচতলায় নিয়ে আসে। সেখানে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন এক আনসার সদস্য বলেন, তুই যা বললি তা সত্য কিনা তোর স্ত্রীর কাছে শুনে আসি। এ বলে এক আনসার সদস্য আমার স্ত্রীর কাছে যায়, অন্যজন আমার সঙ্গে থাকে। কিছুক্ষণ পরে আমার স্ত্রীর কাছ থেকে এসে আমাকে বলে, তুই মিথ্যা কথা বলেছিস। এ বলে অন্য আনসার সদস্য আবার আামর স্ত্রীর কাছে যায়।
কিছুক্ষণ পরে ওই আনসার সদস্য ফিরে এসে বলে, তোরা তো রাতে কিছুই খাস নাই। যা খাবার কিনে তোর স্ত্রীর কাছে যা। সকালে চলে যাইছ। পরে আমি কিছু খাবার কিনে আমার স্ত্রীর কাছে যাই। তখন আমার স্ত্রী আমাকে বলে এখান থেকে আমাকে নিয়ে চলো। তাকে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছিল। আমি আর কিছু না ভেবে আনসার সদস্যদের কাছে বলে স্ত্রীকে ভ্যানে নিয়ে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলে আসি। তখন স্ত্রীকে বলি কি হয়েছে আমাকে বলো। তখন আমার স্ত্রী কেঁদে আমাকে জড়িয়ে বলে, দুই আনসার সদস্য জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণ করেছে। এ কথা শুনে আমি তাৎক্ষণিক আমার স্ত্রীকে নিয়ে সদর থানায় এসে ঘটনা বলি।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সদর উপজেলার অফিসার (আনসার) শামীমাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তার কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর পরই অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা চাই অভিযুক্তদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।
জেলার ২৫০ বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানার পরেই হাসপাতালে দায়িত্বরত সকল আনসার সদস্যদের ডেকে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সারওয়ার বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী ওই নারী যেন সঠিক চিকিৎসা পায় সেই বিষয়টি দেখার জন্য হাসপাতালে এসেছি। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।



