Logo
Logo
×

সারাদেশ

কুড়িগ্রাম খাদ্য গুদামে দুদকের অভিযান, ৫২১ টন ধান উধাও

Icon

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

কুড়িগ্রাম খাদ্য গুদামে দুদকের অভিযান, ৫২১ টন ধান উধাও

ছবি : সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে ভয়াবহ অনিয়ম, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার চাঞ্চল্যকর চিত্র উদ্ঘাটন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জেলার বিভিন্ন খাদ্য গুদামে সরেজমিন অভিযান চালিয়ে ৫২১ মেট্রিক টন ধান এবং সাড়ে ৩৫ মেট্রিক টনের বেশি চালের কোনো বাস্তব অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে গুদামে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ চাল পোকাধরা ও মানুষের খাওয়ার সম্পূর্ণ অনুপযোগী অবস্থায় পাওয়া গেছে।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে দিনভর দুদকের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী।

তিনি বলেন, “খাদ্য গুদামে মজুদ, চালের মান ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযানে ১২টি গুদামের মধ্যে ৪টি গুদামে ১ হাজার ১৭৬ বস্তা চালের ঘাটতি পাওয়া গেছে। কাগজপত্রে ৫২১ মেট্রিক টন ধান ও ৫০ কেজি ওজনের ২ হাজার ৪০৭ বস্তা চালের হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি একটি গুদামে সংরক্ষিত চালের বড় অংশই পোকায় নষ্ট হয়ে গেছে, যা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়।”

দুদক জানায়, অভিযানে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছেব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ, নতুন বস্তার পরিবর্তে পুরোনো বস্তা ব্যবহার এবং গুদামের খাদ্যশস্য বাইরে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ।

ধান মজুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘাটতির তথ্য পাওয়া গেছে একটি নির্দিষ্ট গুদামে। দুদক জানায়, ৭ নম্বর ধান গুদামে থাকার কথা ছিল ৭২১ মেট্রিক টন ধান, কিন্তু সরেজমিন গণনায় সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ১৯০ মেট্রিক টন। বাকি ৫২১ মেট্রিক টন ধানের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী মিল মালিকদের কাছে ধান সরবরাহ করা হয়েছে। তবে তারা সেই দাবির পক্ষে কোনো রেজিস্টার, হিসাব বই কিংবা প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

অভিযানে পাওয়া তথ্য ও প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জানান দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে কথা হলে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক জানান, "দুদকের অভিযান চলছে। অসঙ্গতির বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত বলতে পারবো। তার আগে কোন মন্তব্য করা সম্ভব হচ্ছে না।"

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন