মিয়ানমারের সংঘাতে পালিয়ে এলো রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৯ সদস্য
কক্সবাজার প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্টি আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্টির মধ্যে সংঘাতের জের ধরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৯ সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজারে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত দিয়ে আসা রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর এসব সদস্যরা এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। যেখান থেকে বিজিবি তাদের হেফাজতে নিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও বিজিবি।
এর আগে রবিবার সকাল ৯ টায় টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্টি আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্টির মধ্যে সংঘাতের জেরে ছোঁড়া গুলিতে বাংলাদেশি এক শিশু নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র।
তবে বিকাল পৌনে ৩ টার দিকে তিনি জানান শিশুটি এখনও বেঁচে আসে। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।
নিহত শিশু আফনান (৭) একই এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
খোকন চন্দ্র রুদ্র বলেন, রোববার সকালে টেকনাফে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকা সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে বিদ্রোহী গোষ্টি আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্টির মধ্যে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে দুইপক্ষের মধ্যে অন্তত ঘন্টাব্যাপী গোলাগুলির হয়। এক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্টির সদস্যরা সীমান্তের শূণ্যরেখার দিকে পিছু হটে অবস্থা নেয়। এতে সকাল ৯ টার দিকে আবারও উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এসময় মিয়ানমার দিক থেকে ছোঁড়া গুলি সীমান্তের বাংলাদেশি এক বসত ঘরে আঘাত হানে। এতে বাংলাদেশি এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। শুরুর দিকে শিশুটি মারা গেছে বলে সব দিকে প্রচার শুরু হয়। শিশুটির পিতা-মাতাও বুঝতে না পেরে শিশুটির মৃত্যু সংবাদ প্রচার করে। পরে দেখা গেছে শিশুটি বেঁচে আছে। তাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল থেকে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, দুপুরের দিকে ওপারের সংঘর্ষে টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৯ সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এসময় বিজিবি ও পুলিশসদস্যরা তাদের হেফাজতে নিয়ে আসে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলি এক বাংলাদেশি শিশু আহত হওয়ার পর আশংকাজনক হওয়ায় মারা গেছে বলে প্রচার হয়। এতে স্থানীয় লোকজন সড়ক অবরোধ করেছে। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ জনপ্রতিনিধি পরিস্থিতি শান্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে শিশুটি মারা যায়নি। তাকে আশংকাজনক চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। এদিকে পালিয়ে আসা ৪৯ জন এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। বিজিবি তাদের হেফাজতে নিয়ে যাবে।



