খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় কিশোরগঞ্জে দোয়া মাহফিল
কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে কিশোরগঞ্জে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ হিলালীর উদ্যোগে জেলা শহরের শোলাকিয়া এলাকার স্কলারস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মাঠে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবকসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন চরশোলাকিয়া দারুস সালাম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুল হামিদ। একই সঙ্গে তার জীবনের সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানানো হয়। পাশাপাশি মোনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়। শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।
দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ সুলতান মিয়া, যুবদলের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম সুজন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি সাইদ সুমন, সহ সভাপতি সোয়েব সাদেকিন বাপ্পি, সাবেক সহ সভাপতি মোহাম্মদ সোয়ান, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনিক রহমান, আবদুল আলী প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্যাতিত, আপসহীন ও সাহসী জননেত্রী, দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন এমন একজন নেতৃত্বের প্রতীক, যিনি স্বামী, সন্তান ও নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হারানোর গভীর বেদনা বুকে ধারণ করেও কখনও স্বৈরাচারী শক্তির কাছে মাথা নত করেননি। নির্যাতন, শোষণ ও সীমাহীন বাধার মধ্যেও তিনি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে আজীবন ছিলেন অবিচল।
তারা আরও বলেন, আজ শুধু বিএনপির নেতাকর্মীরাই নয়, দেশের সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্মরণ করছে এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছে। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা সবাই যেন দেশের গণতান্ত্রিক মুক্তি, ন্যায় ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে পারি।
সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ হিলালী বলেন, এই শহীদ জিয়ার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আমাদের সেই আদর্শ আছে, আমরা সবাই শুধু খাই খাই করি। দলাদলি করি, জিন্দাবাদ করি অমুকের অমুকের। আমরা একবারও ভাবি না এক মহান আল্লাহ ছাড়া আমাদের ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারবে, পারবেনা। আজ যদি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিটি নেতাকর্মী সৎ, নামাজী হতো তাহলে দেশের এই অবস্থা হতো না। আমি ৫০টি বছর এ দল করেছি আমার বাড়ি ঘরের কোন উন্নতি নেই।
তিনি আরও বলেন, আজকে যারা বিএনপি করেন বড় বড় কথা বলেন সেদিন কোথায় ছিলেন। সমালোচনা করবেন না। আল্লাহ শুনে ফেলেছে হাসিনারে ধরেছে সামান্য কথার জন্য। তার পরিণতি দেখলেন ৮-১০ দিনের মধ্যে একটা লৌহ মানব, লৌহ শাসক বিদায় হয়ে গেল। কেউ রক্ষা করতে পারল না কেনো? সেদিন ছাত্ররা জেগেছিলো। আমাকে থানা কমিটিতে রাখে নাই, পৌর কমিটিতে রাখে নাই, জেলা কমিটিতে রাখে নাই এমনকি একটা সম্মেলন হলো সেখানেও দাওয়াত করে নাই। এটা কি এমন কোন দল যেটা না করলে আমি মারা যাবো, আমাকে পরকালে কৈফিয়ত দিতে হবে! তাই সরে এসেছিলাম। এখনকার নেতৃবৃন্দ যে হুংকার দেন আমরা যদি রাস্তায় নামি পাস তো দূরের কথা জামানতই পাবেন না। আমাকে বাধ্য করবেন না, দেয়ালে পিঠ যদি থেকে যায় আমি অন্য কিছু চিন্তা করব না।
উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।
পরদিন বুধবার বিকেল ৩টার পরপরই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।



