ডিসি পার্কে ফুল উৎসব: জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা সিনিয়র সচিবের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
আকর্ষণীয় ও বর্ণিল সাজে নতুন রূপে সেজে ওঠা ডিসি পার্কে আয়োজিত দেশের বৃহত্তম ফুল উৎসবকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সুপরিকল্পিত ও বৃহৎ কর্মযজ্ঞের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, যারা অত্যন্ত পরিশ্রম করে এই আয়োজন বাস্তবায়ন করেছেন—বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও তাঁর সহযোগীবৃন্দ—তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজ এখানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত আছেন। তাঁদের মাধ্যমে সারাদেশে এই উৎসবের খবর ছড়িয়ে পড়বে বলে আমি আশা করি।
সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি আরও বলেন, আপনাদের সম্মিলিত সহযোগিতায় এই আয়োজন আরও গৌরবান্বিত ও আনন্দমুখর হবে—এই প্রত্যাশা রাখছি।
সিনিয়র সচিব বলেন, আজ আমরা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অত্যন্ত উচ্চমানের একটি আয়োজন করা হয়েছে, যা মাসব্যাপী চলবে। চট্টগ্রাম সফরের এই সুযোগে এমন একটি বড় ও ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত বোধ করছি।
তিনি বলেন, একসময় আমরা দেশটিকে ‘বারো মাসের তেরো পাবন’ বলতাম। এখন দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে—এটি আমাদের জন্য আনন্দের।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যার যার অবস্থান থেকে সবাই এই জাতীয় নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও আনন্দময় করে তুলতে ভূমিকা রাখবেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে জাতিকে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এর আগে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে সাগরপাড়ে অবস্থিত ১৯৪ একর আয়তনের ডিসি পার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় মাসব্যাপী দেশের বৃহত্তম ফুল উৎসব “চট্টগ্রাম ফুল উৎসব–২০২৬”। উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “এটি শুধু চট্টগ্রামের জন্য নয়, বরং সারাদেশের মানুষের জন্য আনন্দের বিষয়।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, “শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের অন্যান্য জেলার মানুষও ডিসি পার্কে এসে নির্মল আনন্দ উপভোগ করবেন।” জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য জেলার জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মাসব্যাপী এই ফুল উৎসবে দেশি-বিদেশি প্রায় ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহ রয়েছে। এবছর দর্শনার্থীদের জন্য নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে জিপ লাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, ট্রি হার্ট, বিগ ফ্লাওয়ার ট্রি, আমব্রেলা ট্রি ও ফ্লাওয়ার টানেল। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এছাড়াও উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ ও মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে একটি সচেতনতামূলক স্টল স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থান কর্নার।
উল্লেখ্য, আজ থেকে শুরু হওয়া এই মাসব্যাপী চট্টগ্রাম ফুল উৎসব–২০২৬ চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব সাধারণ দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। জেলা প্রশাসক জানান, প্রতিদিন অর্ধলক্ষাধিক দর্শনার্থীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



