Logo
Logo
×

সারাদেশ

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মহড়া

Icon

কক্সবাজার প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মহড়া

সকাল বেলা। কক্সবাজার বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। ওপাশ থেকে জানানো হয়, ‘ব্লুওয়েব এয়ারওয়েজের’ বিডব্লিউএ-৭৮৯ ফ্লাইটের ভেতরে একটি বোমা রাখা হয়েছে যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। মুহূর্তেই পাল্টে যায় বিমানবন্দরের দৃশ্যপট। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে দ্রুত বিষয়টি বিমানবন্দর পরিচালক ও এভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে জানানো হলে পুরো বিমানবন্দর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়।

অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র‍্যাব, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, আনসার ও ডগ স্কোয়াড দ্রুত অবস্থান নেয়। প্রস্তুত রাখা হয় ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স।

এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, বরং কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত একটি বিশাল নিরাপত্তা মহড়ার খণ্ডচিত্র।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ১০ মিনিটে শুরু হয় মূল উদ্ধার অভিযান। প্রথমে বিমানটি ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিমান থেকে ৮ জন যাত্রী ও ২ জন কেবিন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার চলাকালীন এক যাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর বোম ডিসপোজাল ইউনিট বিমানের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে একটি ব্রিফকেসে থাকা বোমাটি শনাক্ত করে এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা নিষ্ক্রিয় করে। শেষে সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের ডগ স্কোয়াড পুরো বিমানে তল্লাশি চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে দুপুর ১২টায় শেষ হয় এই সফল মিশন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আয়োজিত এই মহড়াটি প্রতি দুই বছর অন্তর আয়োজনের নিয়ম থাকলেও কক্সবাজারে এটিই ছিল প্রথম। বেবিচকের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবালের নেতৃত্বে এই উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়।

এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, 'এই মহড়ার প্রধান লক্ষ্য ছিল আমাদের প্রস্তুতির সার্বিক অবস্থা যাচাই করা এবং কোথায় কী ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করা। এই ঘাটতিগুলো নিয়ে একটি ইভালুয়েশন টিম গঠন করা হয়েছে যারা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। এছাড়া এপিবিএন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশসহ সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।'

মহড়াটি পর্যবেক্ষণ করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, 'যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা যাচাই করতেই এই আয়োজন। আসন্ন আইকাও অডিটে এই মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের অডিটে ইতিবাচক ফলাফল আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি।'

তিনি আরও জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করার কাজ এবং অত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব কাজ শেষ হলে পর্যটন নগরীর ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন