জলমহাল দখল নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিল মাকসা নামের একটি জলমহাল দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেলসহ চারজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের লাউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন- উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল (৩৫), তাকবীর (২৮), মীর রাফি (২৩) ও রিমন (৩৫)।
আহতদের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অষ্টগ্রাম সদর ও আশপাশ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, জলমহালটির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়ন চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের অনুসারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর সোহেল ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনের ওপর হামলা চালায়।
ছাত্রদল নেতাকে রক্ষা করতে গেলে তাদেরকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে তাদের উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় গুরুতর আহতদের কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আহত তিতুমীর হোসেন সোহেল বলেন, উপজেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ নির্দেশে তার লোকজন এই হামলা চালিয়েছে। আমরা দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে সাঈদ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। আজ তার বাহিনী দিয়েই ছাত্রদল আহ্বায়কসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অষ্টগ্রাম থানার ওসি সোহেব খান বলেন, ঘটনার বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



