Logo
Logo
×

রাজধানী

৩৭ ঘণ্টার চেষ্টায় পুরোপুরি নিভল মুনসুর খান প্লাজার আগুন

Icon

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

৩৭ ঘণ্টার চেষ্টায় পুরোপুরি নিভল মুনসুর খান প্লাজার আগুন

রাজধানীর চকবাজারে মুনসুর খান প্লাজায় লাগা আগুন ৩৭ ঘণ্টার চেষ্টায় পুরোপুরি নেভাতে পেরেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এক বার্তায় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় ‘আগুন নির্বাপণ সম্পন্ন’ করতে পেরেছে তারা।

সোমবার বিকাল ৫টার দিকে মুনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের চেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু তা পুরোপুরি নেভাতে আরো ২৫ ঘণ্টা সময় লেগে গেল।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, প্রচণ্ড তাপ, পুরান ঢাকার সরু গলি, পানির ঘাটতি, গুদামের পণ্য এবং শাটারের তালা কাটার মত জটিলতা আগুন নিয়ন্ত্রণে নেভানোর কাজ অনেক ‘কঠিন’ করে তুলেছে।

তিনি জানান, মার্কেটের ষষ্ঠ তলায় ৭-৮টি গুদাম ছাতা, কসমেটিকস, আতরসহ বিপুল পরিমাণ পণ্যে পূর্ণ ছিল। মঙ্গলবার ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও সেসব মালামালগুলোর নিচে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল।

পানির ধারা বন্ধ করে দিলে ওই ধোঁয়ার উৎস আর তাপ থেকে আগুন আবার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। সে কারণে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের ঘোষণা দিতে পারছিলেন না ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

নজমুজ্জামান বলেন, “আমরা এসে দেখি ছয়তলা এবং সাততলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া এবং প্রচণ্ড হিট। হিটের ভেতরেই আমরা আমাদের ফায়ার সার্ভিসের যে টেকনিক, সেসব অ্যাপ্লাই করে আমরা আগুন নিভানোর চেষ্টা করি।

“কিন্তু ছয়তলার মধ্যে যে গুদামগুলো ছিল, সবগুলো ছিল শাটার এবং তালা মারা। এই ধোঁয়া এবং হিটের ভেতরে আমরা…এক একটা গুদামে চারটা-পাঁচটা তালা। আবার ভেতর দিয়ে কলাপসিবল গেইটের তালা।

“এই ধোঁয়া এবং হিটের ভেতরে এই তালাগুলোকে আমাদেরকে কাটতে হয়। কাটার পরে আমরা ফায়ার ফাইটিং করি এবং আগুনটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি।”

তবে এই কাজে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা তুলে ধরে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, “যথাসময়ে আমাদের গাড়িগুলো পৌঁছানোর কথা, সেগুলো পৌঁছতে একটু সময় নিছে। যেহেতু চকবাজার রাস্তা অত্যন্ত সরু থাকে, যার কারণে গাড়িগুলো আসতে একটু সময় লাগছে।

“দ্বিতীয় কথা হল—এই ভবনের যে ধোঁয়াগুলো আছে সেগুলো বের হওয়ার কোনো রাস্তা নাই। যার কারণে আমাদের ফায়ার ফাইটাররা প্রচণ্ড হিটের ভেতরে কাজগুলো করছে এবং আগুন নেভানোর জন্য কার্যক্রম আমাদের চলমান ছিল।”

তাছাড়া পানিরও ঘাটতি ছিল জানিয়ে কাজী নজমুজ্জামান বলেন, “আশেপাশে যে রিজার্ভার ছিল, রিজার্ভগুলোর পানিগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছিল বারবার। যার কারণে আমাদের পাম্প চেঞ্জ করে অর্থাৎ রিজার্ভার চেঞ্জ করে করে আরেকটা রিজার্ভারে নিয়ে আমরা আগুনটা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলমান রেখেছি।”

তবে ওই মার্কেটে আগুন কীভাবে লাগল, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সে বিষয়ে কিছু বলতে চাননি কাজী নজমুজ্জামান।

তিনি বলেন, “আমরা যাদের সাথে আলাপ করছি কেউ বলতে পারেনি আগুনের কারণটা। যেহেতু এখানে বৈদ্যুতিক লাইন ছিল, একটা সম্ভাবনা থাকতে পারে শর্ট সার্কিটের। তদন্ত করার পর বোঝা যাবে আগুনটা কেন লাগছে।” 

আর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “মালামালগুলো যে মালিক কর্তৃপক্ষ আছে, তারাই বলতে পারবে তার কত টাকার মাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটা একটু সময় সাপেক্ষে ব্যাপার।”

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন