শহীদদের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে: অপু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেছেন, আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক শোষণমুক্ত, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। শহীদদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব।
ফ্যাসিবাদী আমলে গুমের শিকার আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে অপু জুলাই আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ হওয়া সকলকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, যে চেতনা ধারণ করে এবং যে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে আমরা আন্দোলন করেছিলাম, সেই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। শহীদদের যে ত্যাগ রয়েছে, সেই ত্যাগকে মূল্যায়ন করে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদদের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, অর্থনৈতিক শোষণমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা যেন একটি সুন্দর, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি, সেজন্য সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তার সারাদিন অনুষ্ঠানে থাকার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সংসদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলমান থাকায় তাকে আগেই চলে যেতে হচ্ছে। এ জন্য তিনি উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এ সময় তিনি নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ছিলাম। আমার শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ সময় এখানে কেটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইট-পাথরের সঙ্গে আমার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আজকের অনুষ্ঠানে থেকে প্রিয় প্রতিষ্ঠানকে আরও সময় দেওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু বিশেষ কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। ইনশাআল্লাহ আবারও আসব।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের আবেগঘন সম্পর্কের কথা তুলে ধরে অপু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ক্যাম্পাসের নানা স্মৃতি এখনও তাকে আন্দোলিত করে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর সাংগঠনিক শক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, একসময় ছাত্রদল ছিল একটি শক্তিশালী ছাত্রসংগঠন। আগামী দিনেও সংগঠনটি আরও শক্তিশালী ও আদর্শিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংগঠনের আদর্শ ও পতাকার প্রতি আস্থা রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সবার প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. রইছ উদ্দীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সামসুজ্জামান সুরুজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেক তালুকদার, আব্দুস সাত্তার, ফয়সাল আহমেদ সজল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ছাত্রনেতা কামরুল হাসান তালুকদার খোকন, এমরান হোসেন মানিক, যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মামুন ভূইয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এবিএম মহসিন বিশ্বাস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আরেক সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিফুর রহমান বিপ্লব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সমবায় সম্পাদক এসএম মোশারেফ হোসেন মুশু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সহ-সভাপতি মো. আব্দুল জলিল ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিতসহ ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা।



