হাড়কাঁপানো শীত ও কুয়াশায় জবুথবু রাজধানী, তবু থেমে নেই জীবিকার লড়াই
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে রাজধানী ঢাকা। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় শীতের দাপট অনেকটাই বেশি। টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ ও সূর্যের দেখা না মেলায় শীতল অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। তবে এই বিরূপ প্রকৃতির মাঝেও থেমে নেই শহরের কর্মমুখী মানুষের জীবনযুদ্ধ। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করেই প্রতিদিন রাজপথে নামছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। ভোরের আলো ফোটার আগেই কাজের আশায় অলিগলি ও সড়কের মোড়ে অবস্থান নিতে হচ্ছে তাদের। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রিকশাচালক, পরিবহনকর্মী ও অফিসগামী মানুষের পদচারণায় ধীরে ধীরে মুখর হয়ে ওঠে নগরী। জীবিকার তাগিদে শীতের শারীরিক কষ্টকে গৌণ হিসেবেই দেখছেন তারা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় এবং দিনের বড় অংশে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাস।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর উত্তরা হাউজ বিল্ডিং, আজমপুর ও জসিমউদ্দীনসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীত উপেক্ষা করেই রাস্তায় নেমেছেন মানুষ। দিনমজুরেরা জবুথবু শরীরে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কাজের অপেক্ষা করছেন। রিকশা ও অটোরিকশা চালকেরা ভারী পোশাকে নিজেদের মুড়িয়ে পথে নেমেছেন। ভ্রাম্যমাণ হকারদেরও দেখা গেছে পণ্য সাজিয়ে বসতে।
কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর আব্দুল মজিদ আকন্দ বলেন, শীতের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকাটা খুব কষ্টের। কিন্তু ভোরে না দাঁড়ালে সারাদিন কাজ মেলে না। তাই কষ্ট হলেও ভোর থেকেই এখানে অপেক্ষা করতে হয়।
আরেক শ্রমিক রুবেল মিয়া জানান, কাজে নেমে গেলে ঠান্ডা তেমন লাগে না, কিন্তু কাজের অপেক্ষার সময়টাই সবচেয়ে কষ্টের।
পরিবহনকর্মী নাঈম হোসেনও একই কথা বলেন। ভিআইপি-২৭ বাসের এই হেল্পারের ভাষায়, শীতে শরীর অবশ লাগে, হাত জমে যায় টাকা ধরতে। তবু টাকার জন্য কাজ করতেই হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সহসাই এই পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। সারাদেশের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ শতভাগ থাকায় সেখানে অনুভূত তাপমাত্রা আরও কমে গেছে।



