শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৯ ১৪২৬   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

১৮০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪): সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বী বলেছেন, আজকে আমাদের কন্যা, নাতি-নাতনি বয়স সম শিশুদের নিয়ে মানবন্ধনের দাড়িয়ে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে। এটা যে কতটুকু লজ্জার, কতটুকু ক্ষোভের এটা বলা অপেক্ষা রাখে না।

 

মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে দেশকে যখন স্বাধীন করা হয়েছিলো তখন আমরা কল্পনা করতে পারিনি যে এ বাংলাদেশে স্বপরিবারে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য ধর্ষণের বিচার ও ধর্ষকদের হাত থেকে রক্ষার পাওয়ার জন্য এভাবে রাস্তায় দাড়াতে হবে। 
 


আমাদের নারায়ণগঞ্জে গত সাড়ে ৬ মাসে ১০১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে ৮৯টি ধর্ষণের ঘটনা, ধর্ষণের মধ্য হত্যা করা হয়েছে ৩ জনকে। এখন কথা হচ্ছে হঠাৎ করে আমাদের দেশের মানুষ ধর্ষণের প্রারঙ্গম হয়ে উঠেছে এটা কিন্তু নয়। সরকারের পরোক্ষ মদদেই এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

 

কেননা অপরাধীরা যদি অপরাধ করে পার পেয়ে যায়, যদি প্রশাসন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পায় এতে করে অপরাধীরা অপরাধটাকে অপরাধ মনে করে না। 


 
আদালত বলছে ধর্ষণের অপরাধে ধর্ষণের বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু বিষয়টা হলো সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেটা মৃত্যুদন্ড হোক আর যাবজ্জীবন যাই হোক। 

 

পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনার পর থানায় মামলাটি সঠিকভাবে দায়ের করা হচ্ছে কিনা। যদি মামলা গ্রহণে কোনো গাফিলতি থাকে থানার সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


 
শনিবার (২০ জুলাই) নারী ও শিশুদের উপর  যৌন নির্যাতন, হত্যা, গুম বন্ধ ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে জেলা খেলাঘর আসর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এ সকল কথা বলেন।


 
রফিউর রাব্বী বলেন, এই যে দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে তা সরকারের মদদে,পৃষ্ঠপোষকতায় ঘটছে। কিন্তু সরকার নিশ্চয়ই তো কাউকে দেয় না  তোমরা ধর্ষণ কর। তবে যে ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটছে মামলা হচ্ছে  যারা ঘটাচ্ছে তাদের পিছনে সরকার দাড়িয়ে যায়।

 

বিচার ব্যবস্থা ভঙ্গুর ও অকার্যকর হওয়ায় অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে সারা দেশে ধর্ষণ,গণধর্ষণ ও ধর্ষনের পর হত্যার ঘটনায় ৪ হাজার ৬’শটি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে বিচার হয়েছে কেবল পাঁচ জনের। 


 
পুলিশ বলছে তাদের করার কিছু নেই  যদি আদালত  থেকে তাদের জামিন দেয়। আর আদালত বলছে  পুলিশ যে আইনে যে রুজুতে মামলা করা হয় সে আইনে তাদের ধরে রাখার কোনো সুযোগ নেই। এর অর্থটা আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি। যে অপরাধ সংগঠনে  সামাজিক যখন আন্দোলন গড়ে উঠে তখন পুলিশ প্রশাসন মামলা নিতে  বাধ্য হয়। সাথে সাথে রাস্তা করে দেয় যে কিভাবে বের হতে হবে। 
 
আজকের শিশু আগামী দিনের বাংলাদেশ। আজকে এ শিশুদের ধর্ষণের মধ্যে দিয়ে পঙ্গু করে দিচ্ছে।  নিরাপত্তার অভাবে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। তার ঘরের মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠছে। আর এ প্রজন্মের হাতেই আমরা বাংলাদেশটাকে দিয়ে যাচ্ছি। এটা কি করে সম্ভব?


এ সময় মানবন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বী, মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সহ সভাপতি রীনা আহমেদ,খেলাঘর আসর নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সাধারণ সম্পাদ ফারুক মহসিন, নারায়ণগঞ্জ সাস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিকী, ন্যাপ নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি এড. আওলাদ হোসেন, সমমনা নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি দুলাল সাহাসহ নারায়ণগঞ্জ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন খেলাঘর আসর নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি রথীন চক্রবর্তী।
 

এই বিভাগের আরো খবর