মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

হায়রে নারায়ণগঞ্জ !! 

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২০  

১৬ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সেই বুঝা গেলো মন্ত্রী, মেয়র , এমপি এবংজেলার শীর্ষ আওয়ামীলীগ নেতারা নারায়ণগঞ্জের করোনা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরতে ব্যার্থ হয়েছেন।  

অথচ ৮মার্চ দেশে প্রথম নারায়ণগঞ্জে করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ১৫ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত সরকারীভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ২১৪জন। এরমধ্যে একদিনের আক্রান্ত হয়েছে ৫০ জন। ১৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মারা যাওয়ার সংখ্যা ১৬ ছাড়িয়েছে। 

আক্রান্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালের ১৬ চিকিৎসক। প্রতিদিন আশংকাজনকহারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মতে, করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জ। করোনা পরিস্থিতিতে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জকে। 

গত ৮ এপ্রিল থেকে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষনা দেয় আইএসপিআর। আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনাও বলেছেন, বিভিন্ন জেলায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গিয়েছেন। 

তাহলে বাংলাদেশে কোন জেলায় বা শহরে করোনা টেস্টের জন্য ল্যাব স্থাপনের আগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নারায়ণগঞ্জে ল্যাব স্থাপন করা জরুরী ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের। 

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে একজন ডাক্তার বলেছেন, ডাক্তারসহ হাসপাতালের ১৬ জন কর্মকর্তা কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত , তাই তিনি জরুরি ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জে একটি ল্যাব চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে কথা বললে স্বাস্থ্য বিভাগ বলেন নারায়ণগঞ্জে ল্যাব স্থাপনের জায়গা নেই। বাহ!! কি উত্তর অস্বাস্থ্য বিভাগের!!!

হায়রে নারায়ণগঞ্জ!! জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখা জেলা। মরণব্যাধি করোনা পরিস্থিতিতেও তুই অবহেলিত। ইয়া আল্লাহ তুমি ছাড়া আমাদের কেউ নাই, তুমি আমাদের রক্ষা করো, হেফাজত করো। আমিন।  

লেখক: 
বিল্লাল হোসেন রবিন
সাংবাদিক ও মানবধিকার কর্মি