বুধবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১৫ ১৪২৬   ০৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

হঠাৎ করে ২২ মাস পরে কেন লাফালাফি ? : শামীম ওসমান

প্রকাশিত: ৭ ডিসেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪): হকার ইস্যুতে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভীর উপর হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, ওইদিন মেয়রকে শিবিরের ক্যাডাররা ঘিরে রেখেছিলো। এরপর নাটক করা হলো। বলা হলো, উনাকে (মেয়র আইভী) মারার চেষ্টা করা হয়েছে। হঠাৎ করে ২২ মাস পরে কেন লাফালাফি?


শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ফতুল্লার লামাপাড়ায় নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল এমিউজম্যান্ট (নম) পার্কে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে এই কথা বলেন।     


এ সময় মামলার প্রধান আসামি নিয়াজুল প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বক্তব্যে বলেন, নিয়াজুল ওইদিন ওখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো। নিয়াজুল কে? আওয়ামী লীগের একসময়ের তুখোড় নেতা এবং পরবর্তীতে পারিবারিক চাপের কারণে রাজনীতি থেকে মোটামোটি সরে গিয়েছিলেন  সংসারের দায়িত্ব নেবার ফলে।

 

কেন নিয়াজুলকে প্রধান আসামি করা হয়? নিয়াজুলের পরিচয় হচ্ছে নিয়াজুলের বড় ভাই নজরুল ইসলাম সুইট ২০০১ সালে ফ্যাসিস্ট খালেদা জিয়া যখন নারায়ণগঞ্জে আসে তখন এই সাহসী সুইট একা দাঁড়িয়ে কালো পতাকা প্রদর্শন করেছিলো। পরে তাকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছিলো। কোর্ট থেকে তাকে রিমান্ড করা হয়েছিলো। সুইট রিমান্ডের আসামি হওয়ার পরেও রিমান্ডে থাকা অবস্থায় জেলখানা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। 


এরপরদিন নিয়াজুলের ভাই সুইটের লাশ আমরা রাস্তায় দেখতে পাই। ১৯৯৫ সালে নারায়ণগঞ্জকে যখন প্যালেস্টাইন বানিয়ে ফেলেছিলো বিএনপি নেতারা তখন ১৫ দিনে ১২ জনকে হত্যা করা হয় তখনও প্রতিবাদী ছিলো নিয়াজুল। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ওই ঘটনার সময় নিয়াজুল রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম দেখে আসরের নামায পড়তে গাড়ি থেকে নেমে যায়।

 

কেউ হামলা করতে গেলে একা যাওয়ার কথা নয়। রাজনীতি করা ছেলে নিয়াজুল যখন দেখেছে গরীব মানুষকে মারা হচ্ছে তখন সে প্রতিবাদ করেছিলো এবং বলেছে মারছো কেন ভাই? মেরোনা! এই কথা বলার অপরাধে নিয়াজুলের উপর হামলা করা হয়েছে।  সেই দিন অনেক আওয়ামী লীগ নেতা তাকে বাধা দিলেন।

 

আইভীকে যদি হত্যার চেষ্টা করা হয় তবে আওয়ামী লীগ নেতা কাদির তো আইভীর বোনের জামাই। কাদিরের তো নিয়াজুলকে মারতে বাধা দেয়ার কথা না। প্রথমে নিয়াজুলকে মেরেছে শিবিরের একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। নিয়াজুল হতচকিত হলো। সে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুবার প্রতিবাদ করলো। নিয়াজুলকে উপর্যুপুরি হামলা করলো।

 

লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়াজুল বের করলেও সে গুলি করে নাই। কিন্তু তার অস্ত্র ছিনতাই করা হলো। নিয়াজুল তখনো অর্ধমৃত। সেময় জুয়েলসহ অনেকে তাকে উদ্ধার করতে দৌঁড়ে গেলো।
 

এই বিভাগের আরো খবর