শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৮ ১৪২৬   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

স্বাক্ষরছাড়া ব্যালট নিয়ে আইনজীবীদের মাঝে তোলপাড়

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : চলতি মাসের ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ২০১৯-২০ সনের কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচনে সমিতির মোট ৯২৬ জন ভোটারের মধ্যে ৯১০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তবে নির্বাচনে এবার ব্যালটে সিগনেচ্যার (স্বাক্ষর) কিংবা টিপসই না থাকায় না নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে আইনজীবীদের মধ্যে। আওয়ামী কিংবা বিএনপি প্যানেলের প্রার্থীরাসহ আইনজীবীরাও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন তুলছেন।

তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচন কিংবা স্থানীয় নির্বাচন সব নির্বাচনেই ব্যালট দেয়ার আগে ভোটারের স্বাক্ষর কিংবা টিপসই নেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়। আইনজীবীদের মতো বিজ্ঞজনদের নির্বাচনেও অতীতে এমন ব্যবস্থা ছিলো। কিন্তু এবার নির্বাচনের দিন নির্বাচন কমিশন ব্যালটে ভোটারদের স্বাক্ষর কিংবা টিপসই নেয়ার প্রয়োজন  মনে করেননি। ফলে আইনজীবীদের মধ্যে নানা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তারা প্রশ্ন রাখেন, ৯২৬ জন আইনজীবীদের মধ্যে কেউ যদি প্রশ্ন তোলেন যে, তিনি তাঁর ভোটটি দিতে পারেননি, অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে তবে তার কোন ব্যবস্থা বা সুরাহা করার উপায় নেই নির্বাচন কমিশনের। এতো সংখ্যক আইনজীবীদের চিনে রাখাও সম্ভবপর নয়। নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করলে তাঁরা কোন ব্যবস্থা গ্রহণও করতে পারবেননা। 

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন বলেন, স্বাক্ষর কিংবা টিপসই ছাড়া এর আগে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে কিনা সেটি আমি বলতে পারবোনা। অফিসে খোঁজ নিলে জানা যাবে। এটি অফিসিয়াল ম্যাটার।
যদি কোন আইনজীবী ভোট দিতে পারেননি এমন অভিযোগ তুললে আপনারা কিভাবে প্রমাণ করবেন তিনি ভোট দিয়েছেন নাকি দেননি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার কাছে এমন কোন অভিযোগ এখন পর্যন্ত আসেনি। অভিযোগ পেলে কমিশনে বসতাম। যাই হোক আমি এখন ব্যস্ত আছি।

এর উত্তর মেলেনি সহকারী নির্বাচন কমিশনারদের কাছেও। সহকারী নির্বাচন কমিশনার আশরাফ হোসেইন বলেন, এবারের মতো বহু বছর ধরেই স্বাক্ষর কিংবা টিপসই ব্যতিত নির্বাচন হচ্ছে। গতবছরও হয়েছে। তিনটি ব্যালট পেপারে সই কিংবা টিপসই নিতে গেলে অনেক ভীড়, ঠেলাঠেলি হয়, সময় নষ্ট হয়, নির্বাচনে ডাবল সময়ের প্রয়োজন হয়। তাই নেয়া হয়নি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি কোন সময়ই নেয়া হয়নি।

কেউ যদি বলে ভোট দিতে পারেননি এমন অভিযোগ তুললে আপনাদের কি করণীয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের বাইরে ছিলাম। ভেতরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কশিনাররা ছিলেন। কেউ এখনো বলেনি আর যদি বলতো তাহলে আমরা তদন্ত করে দেখতাম। কিভাবে তদন্ত করতেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা দেখতাম সময়ের অভাবে পারেনি, নাকি কোন ভুল হয়েছে। স্বাক্ষর কিংবা টিপসই নেই তাহলে প্রমাণ হতো কি করে তিনি ভোট দিয়েছেন কি দেননি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা দুই পক্ষের পোলিং এজেন্টদের ডাকতাম, নং মিলিয়ে দেখতাম তখন ধরা পড়লে হয়তো সে ব্যবস্থা করা হতো। 

একই প্রশ্নে সহকারী নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মেরিনা বেগম বলেন, এটা নির্বাচন আইনে বাধ্যতামূলক কোন কিছু নয়। কোন কমিশন রাখে। আবার কোন কমিশন রাখেনা। ব্যালটে স্বাক্ষর কিংবা টিপসই ব্যতিত নির্বাচন এর আগেও বহুবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিষয়টি অপশনাল।  

তবে গত বছর (২০১৮-১৯) আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, গতবছর নির্বাচনে ভোটপ্রদানের সময় নিবন্ধিত আইনজীবীদের স্বাক্ষরের ব্যবস্থা ছিলোনা এমন তথ্যটি সঠিক নয়। অবশ্যই সেই নির্বাচনে নিয়ম অনুযায়ী ভোটাররা স্বাক্ষর দিয়ে ব্যালট সংগ্রহ করে ভোট প্রদান করেছেন। 

এবারের ২৪ জানুয়ারি আইনজীবী সমিতির নির্বাচন জজ কোর্টের ৩য় তলায় অর্থঋণ আদালতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগণনা শেষে ফলাফলে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ মনোনীত হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও মোহসীন মিয়ার নেতৃত্বাধীন পরিষদ ১৭টি পদের মধ্যে ১৬টি পদে দাপুটে জয় লাভের মধ্য দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে।  বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেল হতে একজন সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন। এবারের নির্বাচন কমিশনে সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম এবং অ্যাডভোকেট সুখচান বাবুও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট শওকত আলী, অ্যাডভোকেট রমজান আলী ও অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক তারাজউদ্দিন। 

এই বিভাগের আরো খবর