সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬   ১৪ সফর ১৪৪১

স্ত্রী ও সন্তানদের রক্তে ভিজে বাকরুদ্ধ সুমন

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ছোট দুটি মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে ছোট্ট একটি পরিবার ছিল সুমন মিয়ার। হাসি-খুশি আর হাজারো স্বপ্নে মাখা সংসারটি এক রাতেই শেষ। রাতের ডিউটি শেষে সকালে দরজা খুলেই নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্ততার সম্মুখীন হয় সুমন মিয়া। রক্তে ভেজা ৩টি নিথর দেহ হয়ে পড়ে আছে।


নিজের আপন জনের রক্তে তার পুরো ঘর রক্তের সাগর হয়ে আছে। পরিবারের সবার রক্তাক্ত মৃত দেহে দেখে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন সে। তাদের রক্তের উপর বসেই নিজের প্রিয়মুখগুলোর চেহারার দিকে তাকিয়ে আছেন।


বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)  সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের সিআই খোলা এলাকার বহুতল ভবনের ৬ তলায় এমনই এক দৃশ্য দেখা যায়। সুমন মিয়ার স্ত্রীসহ তার দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করেছেন তার স্ত্রীর দুলাভাই আব্বাস।


এই ঘটনায় আব্বাস তার নিজেরই মেয়ে সুমাইয়াকে (১২) হত্যা করার চেষ্টা করেন। সে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে চাক্ষুষ সাক্ষী। সে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহতরা হলো সুমন মিয়ার স্ত্রী নাজনীন বেগম (২৬), তাঁর মেয়ে নুসরাত (৮) ও খাদিজা (২)।


এদিকে নিজের পরিবারকে এভাবে হারিয়ে সুমন মিয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কথাবলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। পুলিশ তাকে সুস্থ করার জন্য খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে পাঠিয়েছেন।  


নিহতের স্বজনেরা জানান, আব্বাস মিয়া প্রায়ই মাদক সেবন করত। মাদক সেবন করে সকলকে মারধর করত। গতকাল রাতেও মাদক গ্রহণ করে সে সকলকে মারধর করে। পরে তার মেয়ে সুমাইয়া তার খালার (নাজনীন) বাসায় চলে আসে। সেই জন্যই আব্বাস এই বাসায় এসে বাসার সবারই গলা কেটে হত্যা করে। নিজের মেয়েকে মৃত ভেবে চলে যান।   


ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, প্রাথমিকাভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরেই তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।আজ সকালে ৮ টায় ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এ হত্যাকাণ্ডের ঘাতক হলেন আব্বাস। আব্বাসের সাথে তার স্ত্রীর বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের কারণে জিদ করে আব্বাসের স্ত্রী শ্যালিকার বাসায় চলে আসে। সে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে।

 

বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় চলে যায়। শ্যালিকার সঙ্গে আলাপকালে কোন বিরোধের জের ধরেই শ্যালিকা ও তার দুই মেয়েকে হত্যা করেছে। সে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও জখম করেছে। ইতিমধ্যে আব্বাসকে ধরতে অভিযান চলছে। 

এই বিভাগের আরো খবর