শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৯ ১৪২৬   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

সোনারগাঁয়ে পুলিশের মারধরে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ : সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সোনারগাঁয়ে পুলিশের মাধরে আব্দুল বাদশা (৪৮) নামের এক সয়াবিন তেল ব্যবসায়ীর মুত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিকেলে সোনারগাঁ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদ ও কনষ্টেবল তুষার ওই ব্যবসায়ীর তেলের দোকানে গিয়ে  চাঁদা দাবি করে। 

 

চাঁদা না দেওয়ায় তারা আব্দুল বাদশাকে  মারধর করে গুরুতর আহত করে। পর তেল ব্যাবসায়ীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখি এলাকায়। 

 

নিহত  আব্দুল বাদশা নানাখি উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে ও স্থানীয় মসজিদের সভাপতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সয়াবিন তেলের ব্যবসা করে আসছিলেন। 

 

এদিকে পুলিশের দাবি আব্দুল বাদশা (৪৮) একজন চোরাই তেল কারবারী। সে আগে থেকেই অসুস্থ ছিলো। চোরাই তেল ব্যবসা নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে মেডিকেলে নেয়ার পথে মারা যায়। 

 

অপরদিকে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী নয়াপুর-পঞ্চমীঘাট সড়ক অবরোধ করে এবং অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিচারের দাবীতে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত সাড়ে ৮টায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ চলছিল।

 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,  গত সোমবার বিকেলে সোনারগাঁ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদ তার দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ীক কাগজপত্র দেখার নাম করে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে আসে। 

 

তারপর শুক্রবার সাদা পোশাকে ওই এএসআই কনস্টেবল তুষারকে নিয়ে পুনরায় ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিহত আব্দুল বাদশাহর ছেলে মিঠু দোকানে বসা ছিল। এসময় মিঠুর কাছে এএসআই মাসুদ ও কনস্টেবল তুষার কাগজপত্র দেখতে চান। মিঠু কাগজপত্র তার বাবার কাছে রয়েছে বলে জানান। 

 

মিঠু তার বাবাকে ফোন দিলে ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশার আসতে দেরি হয়। পুলিশ সদস্যরা পুনরায় ওই ব্যবসায়ীর কাছে টাকা দাবী করলে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশা দোকানে আসে। 

 

পুলিশ সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশা ও ছেলে মিঠুকে চড় থাপ্পর ও মারধর করে। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই ব্যবসায়ী মারা যায়।

 

নিহত ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশাহর ছেলে মিঠু জানান, একজন পুলিশ সাদা পোশাকে ও তুষার নামের একজন পোশাক পড়ে আমাদের দোকানে আসে। এসময় আমার কাছে তারা কাগজপত্র দেখতে চান। আমি কাগজপত্র বাবার কাছে রয়েছে বলে জানালে আমার কাছে টাকা চান।

 

পরে আমি বাবাকে ফোন দিলে ওই সময়ে বাবার কাছে তারাও টাকা চাইলে তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে আমাকে ও বাবাকে চড় থাপ্পর মারে। বাবা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয় আমাদের আত্মীয় স্বজনরা। পরে জানতে পারি বাবা আর নেই। 

 

নানাখি গ্রামের ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম ও আবু সুফিয়ান জানান, সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমাদের ব্যবসা করা অতি কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে। 

 

কোন কিছুর অজুহাত পেলেই আমাদের কাছে টাকা দাবি করে পুলিশ। টাকা না দিলেই আমাদের মারধর ও মামলার হুমকি দিয়ে থাকে। এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবী করছি।

 

সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লা জানান, আমি ঘটনা শুনে এলাকায় গিয়ে এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলেছি। এলাকার লোকজনের ভাষ্যমতে, পুলিশের মারধরে ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

অভিযুক্ত সোনারগাঁ থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক ( এএসআই ) মাসুদের সঙ্গে ০১৭৩৭৪৩৩৪১৮ এ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে আমি আমাদের সার্কেল এডিশলানএসপি (খ’ অঞ্চল) খোরশেদ স্যারকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলেছি। নিহত আব্দুল বাদশা এর আগেও দুইবার স্ট্রোক করেছিলেন। 

 

গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে নিহত অব্দুল বাদশা চোরাই তেলের ব্যবসার সাথে জড়িত। তার এখানে চোরাই তেল মজুদ করা হয়েছে। এখবর পেয়ে পুলিশ সেখানে তদন্তে যায় এবং এর কিছু আলামতও পায়।

 

এ বিষয়ে তার সাথে কথা বলার সময় তিনি মাটিতে ঢলে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়। এখানে কোনো মারধর বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি।   
 

এই বিভাগের আরো খবর