রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩ ১৪২৬   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

সোনারগাঁয়ে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক সংস্কারের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০১৯  

সোনারগাঁ (যুগের চিন্তা ২৪) : সোনারগাঁয়ের অলিপুরা থেকে শান্তিরবাজার পর্যন্ত সড়ক নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার কাজ করার কারণে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে। সঠিক মানের কাজ না করলে যে কোন সময় বারদী-শান্তিরবাজার সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন।


তবে সোনারগাঁ উপজেলা প্রকৌশলী আলী হায়দার খাঁন নিন্মমানের কাজের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কাজের সাইডে গিয়ে সঠিক মানের সামগ্রী ব্যবহারের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। 

 

জানা যায়, বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে ৬ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ১০.২২ কিলোমিটার সড়কের কার্যাদেশ পান এমআর এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ পাওয়ার পর গত সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শুরু করেন।


আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে সোনারগাঁ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি) কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। কাজ শুরু করার পর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক নিন্ম মানের পাথর, ইট, সুরকি, খোয়া, পিচ এ সড়কে ব্যবহার করা হয়েছে। ঢালাই করা দুই কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজ দেখে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে। তাদের দাবি সঠিক মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে এ সড়ক সংস্কার করা। সঠিক মানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার করা না হলে তারা সড়ক অবরোধের ঘোষনা দেন।

 

এলাকাবাসী জানায়, অলিপুরা থেকে শান্তির বাজার পর্যন্ত সড়ক দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চলাচল। দীর্ঘ ১৫ বছর পর এ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। যে মানের সামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে এতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের ইট সুরকি উঠে গিয়ে সড়ক ভেঙ্গে যাবে। সড়কের দু’পাশের বাড়িঘর রয়েছে। বৃষ্টি হলে বাড়ি ঘরের পানি সড়কের মধ্যে গিয়ে পড়ে। ঢালাই কাজে যে পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে অল্প বৃষ্টিতে পানি জমে সড়ক ভেঙ্গে যাবে। ফলে আমাদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হবে।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শান্তিরবাজার থেকে দৌলরদী বাগেরপাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে পিচ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। বাগেরপাড়া গ্রামের পাশের শ্রমিকরা ঢালাই কাজ করছেন। ঢালাই কাজে যে পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার করা উচিত সেই পরিমাণ ব্যবহার হচ্ছে না। তাছাড়া সংস্কার কাজে ব্যবহৃত ইটের সুরকি হাতে নিয়ে চাপ দিলেই গুড়ো হয়ে যাচ্ছে। 

 

বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল করিম জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর পর এ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। গত ৮-১০ বছর ধরে এ সড়ক দিয়ে মানুষ কষ্ট করে চলাচল করেছে।ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিন্ম মানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার কাজ করছে। অল্প পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহারে সড়কে একটু পানি পেলেই সড়ক ভেঙ্গে যাবে।

 

আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সাব্বির রহমান বলেন, নিন্ম মানের সামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক সংস্কার হচ্ছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ভেঙ্গে যাবে। সঠিক মানের সামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সঠিক মানের সামগ্রী ব্যবহার না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের নামা হবে।


বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারে সড়ক সংস্কার হচ্ছে বলে এলাকাবাসী আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি সোনারগাঁ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ইঞ্জিনিয়ারকেজানিয়েছি।


ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমআর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. টুটুল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ইঞ্জিনিয়ার সাইডে নিয়ে পরীক্ষা করে কাজ করছি। তবে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে না।


সোনারগাঁ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি) প্রকৌশলী আলী হায়দার খাঁন বলেন, কিছু ম্যাটারিয়াল খারাপ এসেছিল। আমরা সাইডে গিয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। পরে সঠিক মানের সামগ্রী ব্যবহার করে সংস্কার করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর