শনিবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১১ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

সেন্ট্রাল ঘাট দিয়ে নদী পারাপারে ভোগান্তি

প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারি ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : শীতলক্ষ্যা নদী পারাপারে, শহর ও বন্দরবাসীর জন্য ১নং সেন্ট্রাল খেয়াঘাট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মূলত বন্দরে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকায় এলাকাটির প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই ঘাট দিয়েই মূল শহরে অবস্থিত নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পাড়ি জমায়। এ সময় প্রতিদিন ১নং খেয়াঘাট দিয়ে নদী পারাপারের সময় যাত্রীদের কাছ থেকে ঘাট ভাড়া (টোল) হিসেবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু ঘাট কর্তৃপক্ষকে সাধারণ মানুষের সেবায় দায়বদ্ধ থাকার কথা থাকলেও তাঁদের উদাসীনতার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শীতলক্ষ্যার দুইপারের মানুষকে।

 

জানা যায়, ঘাট মেরামতসহ বিভিন্ন কাজের জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া আছে। রোজ মোটা অংকের পারিশ্রমিকও প্রদান করা হয় এসব কর্মীদের। কিন্তু তাতেও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে ১ নং সেন্ট্রাল ঘাট দিয়ে নদী পারাপার হওয়া যাত্রীদের।

 

সোমবার (৬ জানুয়ারি) বন্দর ১নং সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ যাত্রীদের নানা দুর্ভোগের চিত্র। ঘাটে অবস্থিত লোহার জেটি (পল্টন) থেকে নিচের দিকে ঝুঁকে ট্রলারে নামতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা। এছাড়া ঘাটে সাধারণ মানুষের সাথে ইজারাদারদের খারাপ আচরণও ছিলো চোখে পড়ার মতো। 

 

দেখা যায়, ঘাট ভাড়া (দুই টাকা) রাখার জন্য কেউ ১০০ অথবা ৫০০ টাকার নোট দিলেই ইজারাদারদের তোপের মুখে পড়ছেন লোকজন। আবার অনেক সময় ঘাট ভাড়ার টাকা না থাকলে ভবঘুরে এবং সাধারণ মানুষকে লাঞ্ছিত করছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

 

এ সবিষয়ে সেলিনা নামে এক পোশাক শ্রমিক বলেন, আমি এবং আমার সহকর্মীরা প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে পার হয়ে বন্দর থেকে শহরের নয়ামাটিতে একটি হোসিয়ারিতে কাজে যাই। কিন্তু ঘাটের জেটি (পল্টুন) থেকে ট্রলারে উঠতে আর নামতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। কারণ জেটি থেকে নৌকা অনেক নিচে থাকে এতে অনেক সময় আমরা পা ফসকে পরেও যাই!  

 

বন্দরের বাসিন্দা সজিব বলেন, অনেক সময় আমাদের কাছে খুচরা টাকা থাকেনা। তখন বড় নোট দিলেই ঘাটের লোকজন আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। তাই এই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সেলিম ওসমানের কাছে আবেদন করছি যে, তিনি যদি এই ঘাটের নানা দুর্ভোগের বিষয়টির দিকে নজর দিতেন তাহলে আমাদের অনেক ভালো হতো।

 

কামরুল নামে একজন বলেন, এই ঘাট দিয়ে যাতায়াতের সময় আমাদের সব সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়। আর এই ভোগান্তি বৃদ্ধ এবং মহিলাদের জন্য বেশি কষ্টের। কারণ বর্তমানে যেই জেটি রয়েছে (যেখান থেকে ট্রলারে উঠতে হয়) সেটা বেশি উঁচু তাই বৃদ্ধরা সহজেই এটা দিয়ে ট্রলারে ওঠা-নামা করতে পারেনা। দেখা যায় এ সময় তারা বিভিন্নভাবে আহত হয়। তাই আমারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এটা পরিবর্তন করার দাবি জানাচ্ছি।

 

এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ১নং খেয়া ঘাটের ইজারাদার মোহাম্মদ দিদার বলেন, বর্তমানে আমাদের ঘাটে যেই জেটি থেকে লোকজন নৌকা এবং ট্রলারে উঠানামা করছে তাতে এখন একটু কষ্ট হচ্ছে; কিন্তু এটা বেশিদিন থাকবে না। কারণ বিআইডব্লিউটিএ বন্দরের এক ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেটিটি (পল্টুন) পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই জেটিটি হবে আনুমানিক ৩ ফুট উচ্চতার যেটা ট্রলারের সমান উচ্চতার। তাই তখন আর সাধারণ মানুষকে নৌকা এবং ট্রলারে উঠানামা করতে সমস্যা হবে না।

এই বিভাগের আরো খবর