শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

সুনশান নীরবতা জেলা আওয়ামী লীগে

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার পরে নির্বাচনের আগ মুহুর্ত্ব পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকার বিরল নজির ছিলো জেলা আওয়ামী লীগে।

 

জেলার পাঁচটি আসনে নৌকার দাবির পক্ষে জোর আওয়াজ তুলেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সেক্রেটারি আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদল, সহসভাপতি ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী, মিজানুর রহমান বাচ্চু, আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, আবু জাফর চৌধুরী বীরু, ইকবাল পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ানসহ জেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা। এমন ঐক্য জেলা আওয়ামী লীগের অতীত কমিটিগুলোতেও দেখা যায়নি।

 

এরসাথে একাত্মতা ছিলো মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের, সাথে ছিলো জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ। তবে নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবিভক্ত হতে দেখা যায়। 


সভাপতি ও সেক্রেটারির বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ উঠে গতবছর জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে ইফতার মাহফিল আয়োজন নিয়ে। কমিটির বেশির ভাগ সদস্যের অভিযোগ ছিলো কাউকে জানানো ব্যতিরেকে সভাপতি ও সেক্রেটারি এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। এবং এর অর্থায়ন কোথা থেকে হয়েছে তাও প্রশ্ন রাখেন।

 

সেই ইফতার মাহফিলে জেলা আওয়ামী লীগের ৬৮ সদস্যের মধ্যে মাত্র ১৬ জন উপস্থিত ছিলেন। এই শুরু। এরপর সভাপতি ও সেক্রেটারির বিরুদ্ধে কাউকে না জানানো ব্যতিরেকে সিদ্ধান্ত নেয়ার অভিযোগ বেশ কয়েকবার উঠে। বিভক্ত শুরু হতে করে জেলা আওয়ামী লীগ। কখনো বর্ধিত সভায়, কখনো বা কর্মসূচিতে জেলা আওয়ামী লীগের বিভক্তির চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করে।

 

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারি নির্বাচনের আগে লাঙ্গলের বিরুদ্ধে জোর স্লোগান তুলতে তাদের সাথে ঐক্যমত্য হয়ে আবারও একত্রিত হন জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। সভাপতি ও সেক্রেটারির সাথে এই খুনসুটি জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে চলতে থাকলেও মাঝে মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ছাড় দেয় দুপক্ষই।

 

এরমধ্যে এক বর্ধিত সভায় কাউন্সিলের মাধ্যমে থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। কথা মত রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগের কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।


 রূপগঞ্জে গাজী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক) এমপি এবং আড়াইহাজারে এমপি নজরুল ইসলাম বাবু সভাপতি নির্বাচিত হন। বিপাক বাঁধে সোনারগাঁয়ে হুট করে আহবায়ক কমিটি ঘোষণা দেয়া।  ১৬ জুলাই দপ্তর সম্পাদক এমএ রাসেলের মাধ্যমে সভাপতি, সেক্রেটারির স্বাক্ষর নিয়ে এই কমিটি প্রকাশ করা হয়। এরপর ফুঁসে উঠে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

অভিযোগের তীর সভাপতি, সেক্রেটারিরর বিরুদ্ধে। এই কমিটি কাউকে না জানিয়ে চুপিসারে করা হয়েছে এবং নানা অভিযোগের পর অভিযোগ উঠতে থাকে। সভাপতি ছিলেন দেশের বাইরে। এর মধ্যে সভাপতি ও সেক্রেটারির এমন কাজের বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের চল্লিশজন সদস্য স্বাক্ষরিত অভিযোগ পত্র নিয়ে যান আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে।

 

তিনি ফোনে সেক্রেটারিকে ভৎসনা করে সোনারাগা উপজেলা আওয়ামী লীগের আগের কমিটিই পুনর্বহাল থাকবে বলে জানান। অভিযোগ তুঙ্গে উঠলে সেক্রেটারি ও দপ্তর সম্পাদকও দেশের বাইরে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যান। এরমধ্যে সোনারগাঁ ও জেলা আওয়ামী লীগের আন্দোলন তীব্র হতে থাকে।

 

এতে পাত্তাই পায়নি সভাপতি ও সেক্রেটারির দেয়া আহবায়ক কমিটি। তবে তাদের সাথে যে জেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দের দুরুত্ব বাড়ে তা স্পষ্ট হয়। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে শোকসভা আয়োজন করলে কমিটির অধিকাংশ নেতার অভিযোগ এটাও সভাপতি ও সেক্রেটারির নিজ সিদ্ধান্ত। কাউকে জানাননি তারা।

 

এই সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পূর্বের ন্যায় সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেই সম্বোধন করেন। এই ছিলো জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সর্বশেষ কার্যক্রম।

 

এই সভার পর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সেক্রেটারিসহ অন্যান্যরা আর কোন বিষয়ে একত্রিত হননি কিংবা কোন কার্যক্রমে নিজেদের জড়াননি। ফলে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখন চলছে সুনশান নীরবতা।  
 

এই বিভাগের আরো খবর