শুক্রবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

সিন্ডিকেটের নেপথ্যে এমপি শ্যালক

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৪  

 

# রানার পরিচয় মিলেছে, কুর্কীতি নিয়েও মুখ খুলছে মানুষ
# আতঙ্কে সার্ভেয়ার মিল্টন, এডিসি (রাজস্ব) ওএসডি

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বড় করে লেখা থাকে এই অফিস দুর্নীতি মুক্ত। এমনকি জেলার সদর এসিল্যান্ডে বড় করে লিখা রয়েছে এই অফিসে কোন দুর্নীতি হয় না। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে এখানে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি চলে। তবে তারা ধরা ছোয়ার বাইরে থাকেন। বিশেষ করে জেলা প্রশাসকের ভুমি অধিগ্রহন শাখার সার্ভেয়ার এবং এসিল্যান্ডের সার্ভেয়ারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে তারা টাকা ছাড়া ফাইল ছাড়েন না।

 

ফাইল আটকিয়ে বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তারা আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে যান। তাদের মাঝে দুই একজন যখন ধরা পড়ে তখন তারা আলোচনায় আসেন। সেই সাথে তাদের সাথে যারা জড়িত থাকেন তাদের নামও উঠে আসে। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার কাউসার আহমদকে ৪২ লাখ দুদকের জালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তা নিয়ে টক অব দ্যা টাউণে পরিণত হয়েছে। এমন ঘটনা দুই একটি অপরাধ ধরা পরার পর তোলপাড়ের সৃষ্টি হলেও আবার থেমেও যায় হঠাৎ করেই।

 

এর পিছনে কারা জড়িত রয়েছেন তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও নাম বের হয়ে আসছে। কেননা ভুক্তভোগী মানুষ তাদের নাম প্রকাশ করতে শুরু করেছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সার্ভেয়ার কাউসার আহমদ ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের প্রাক্তন আউটসোর্সিং কর্মচারী জাহিদুল ইসলাম সুমন দুদকের জালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তা নিয়ে শহর ছাড়িয়ে পুরো জেলা সহ ঢাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এই ঘটনায় রানার পরিচয়ও মিলেছে। 

 

অভিযোগ রয়েছে ভুমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দুর্নীতিতে একেকজন ধনদেবতা। ভূমি কর্মকর্তা ছাড়াও একেকজন ওমেদার কি পরিমাণ দুর্নীতির সাথে জড়িত তা অনুমান করাও কঠিন। পিয়ন পেশকার থেকে শুরু করে শীর্ষ কর্তাদের অনেকেই (ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা) কি পরিমাণ অপরাধের সাথে জড়িত তা প্রায় সকলের জানা থাকলেও কেউ টু শব্দটিও করতে সাহস করে না। কেননা তাদের হাত নাকি অনেক উপরে। তারা কাউকে তোয়াক্কা করেন না।

 

জানা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে ঘুষের ৪২ লাখ টাকা ভর্তি কার্টন উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ডিসি অফিসের সার্ভেয়ার মো. কাওসার আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে হস্তান্তর করা হয়। এই মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্বের সাবেক আউট সোর্সিং কর্মচারি জাহিদুল ইসলাম সুমনকে আসামী করা হয়। ৪২ লাখ কার্টুন ভর্তি টাকা তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

এর আগে গত ১০ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে কার্টন সহ এক ব্যক্তি ধরা পড়েন। এরপর বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হলে তার নির্দেশে কার্টনসহ ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই কার্টন খুলে ৪২ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এই টাকা গণনা শেষে জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ওই টাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ট্রেজারিতে জমা রাখা হয়। পরে গত ১৪ জানুয়ারি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক দুদকে চিঠি দেন। তবে ইতোমধ্যে এই ঘটনার বিষয়ে তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমি বাইন হিরার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়।

 

পলাতক থাকা সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সাবেক আউট সোর্সিং কর্মচারী জাহিদুল ইসলাম সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ব্যাবসয়ী রানার নাম প্রকাশ করেন। তার নাম প্রকাশ হওয়ার পর থেকে তার পরিচয় নিয়ে কৌতুহর বসেছে মানুষের মাঝে। প্রশ্ন উঠেছে কে এই রানা, কি ই বা তার পরিচয়। বিশ্বস্ত সুত্র জানান, রানা নামের এই ব্যবসায়ীর পুরো নাম হলো এম এম রানা। তিনি নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সহ সভাপতি হিসেবে রয়েছেন। সেই সাথে এই রানা মাদার প্রিন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক।

 

শীতলক্ষ্যা তামাক পট্টি এলাকায় তার এই প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থাকলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ভুমি অধিগ্রহণ শাখার চিহ্নিত দালাল। একটি প্রভাবশালী পরিবারের আশীর্বাদে রানা গত কয়েক বছরে বিশাল অর্থ কামিয়ে বিত্তশালী বনে গেছেন। প্রভাবশালী এমপির প্রভাবশালী শ্যালকের ব্যাবসায়ী পার্টনার বলে পরিচয় দেন এই ভুমির দালাল রানা। তার বিরুদ্ধে ভুমিদস্যুতার অভিযোগ রয়েছে। তবে সেই প্রভাবশালী এমপির প্রভাবশালী শ্যালকও কম যান না।

 

এই প্রভাবশালী এমপির প্রভাবশালী শ্যালকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই জমি বেচাকেনা, ব্যাংকের জমি কম দামে কেনা বেচা, নাল জমিকে বানিজ্যিক দেখিয়ে বিক্রি করা, দুই তলা বাড়িকে ছয় তলা দেখিয়ে বিক্রিসহ অর্থ উত্তোলণের নানা কথা শহরময় আলোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্ভেয়ার থেকে ৪২ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনাতে ওই প্রভাবশালী এমপির প্রভাবশালী শ্যালকের নাম আসায় বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হককে সাধুবাদ জানাচ্ছেন শহরবাসী।

 

তারা বলছেন, অতীতে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এই চক্রটি বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়া ও লুটপাটের যে সকল অভিযোগ উঠেছে তা নতুন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক আসার পর তার নজরে পড়েছে। বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ব্যাপারটিও তার চোখে পড়েছে। তাছাড়া সূত্র জানিয়েছে, দুদকও বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রকে ধরার জন্য ওঁত পেতে ছিল।

 

গোয়েন্দা তথ্যে, প্রভাবশালী এমপির প্রভাবশালী শ্যালকের নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেটের লুটপাটের বিষয়টি জানলেও প্রভাবশালী এমপির প্রভাবশালী শ্যালকের জন্য বিষয়টি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল এতোদিন। তবে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হকের দৃঢ়তায় বিষয়টি সামনে এসেছে এবং তা জোর আলোচনা হচ্ছে শহরময়।

 

কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, শুন্য হাতে থাকা সেই প্রভাবশালী এমপির প্রভাবশালী শ্যালক এখন শত কোটি টাকার মালিক। নিউইউর্কেও সেই প্রভাবশালী এমপির প্রভাবশালী শ্যালক বেশ কয়েকটি বাড়ি কিনেছেন বলে জানা গেছে। অথচ বাংলাদেশে তার কোন বৈধ ব্যবসা আছে বলেও জানা নেই। 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রভাবশালী এমপির প্রভাবশালী শ্যালকের আশীর্বাদে বিত্তশালী রানার বিরুদ্ধে নানা অপকর্ম আর অভিযোগের পাহাড় রয়েছে। দুদকের জালে ৪২ লাখ টাকার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া কান্ডে রানার নাম প্রকাশ হওয়ায় তার অপকর্ম নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে মানুষ। জেলার পঞ্চবটি মুক্তারপর ফ্লাইওভার নির্মানের জন্য একোয়ার করেছে সেখানে ভুমি মালিকদের নানাভাবে ভুল বুঝিয়ে তাদের থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

 

যাদের জমি বাণিজ্য নয় অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশে তা বাণিজ্য দেখিয়ে বেশি বিল তৈরী বিশাল অর্থ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া জায়গা একোয়ার হওয়া ভুমি মালিকদের গাছের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বেশি গাছ দেখিয়ে বিল তৈরী করেছেন। কারো জায়গা তার নামে বায়না করে বেশি বিল পাইয়ের দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বিশাল টাকা হাতিয়ে নেন। আর এই ভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাত করে নেয়ার অভিযোগ উঠে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, গোগনগর এলাকার ইয়াদ আলী নামের এক ব্যক্তির ৬২ শতাংশ জায়গা দখল করে রেখেছে মাদার প্রিন্টের মালিক এস এম রানা। ভুক্তভোগি জায়গার মালিক ওয়ারিশদের আইডি কার্ড দলিল করে নিবে বলে তার নামে জাল দলিল বানান বলে অভিযোগ রয়েছে। এই জায়গার মূল্য আছে প্রায় ৫ কোটি টাকার মত হবে। গোগনগরবাসী বলছে দুদকের জালে গ্রেপ্তার কৃত সার্ভেয়ার কাউসার ও মামলাল আসামী সুমনের মুখে নাম প্রকাশ হওয়ায় এই রানাই সেই রানা।

 

এছাড়া আরও একাধিক ব্যক্তি জানান, পঞ্চবটি থেকে মুক্তাপুর ফ্লাইভার প্রকল্পের একোয়ারের জায়গায় ৮০ ভাগ জায়গার বিল রানার সহযোগি হিসেবে পরিচিত রনির মাধ্যমে কন্ট্রাক্ট করা হত। এই রনি রাজস্ব সার্কেলে অস্থায়ী নিয়োগে কাজ করতেন। এই সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব এসিল্যান্ডের সাবেক সার্ভেয়ার ইকাবালের মাধ্যমে দুদকে গ্রেপ্তার হওয়া জেলা সার্ভেয়ার কাউসারকে ম্যানেজ করতেন। এছাড়া পঞ্চবটি প্রধান পাম্পের বিল থেকে রানার সিন্ডিকেট চক্র ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

 

এছাড়া গোগনগর ইউনিয়নের  সৈয়দপুর ফকিরবাড়ি এলাকার ২১৬ নং দাগে প্রায় ১৮ শতাংশ জমির বিল রানার সহযোগী রনির মাধ্যমে হাতিয়ে নেন। ৪২ লাখ টাকাও তাদের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে গোগনগর এলাকার মানুষের মাঝে। স্থানীয়দের অভিযোগ রানা শহরের প্রভাবশালী এমপি পরিবারের আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে বেরান। অথচ ওই এমপি বিভিন্ন ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান। কিন্তু কাজের বেলায় কিছুই না।  

 

এলাকাবাসী জানান, পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর জায়গা একোয়ার করায় এখানকার জায়গা গুলো কাশিপুর এবং গোগনগর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের আওতায় পরে। কাশিপুর ভুমি অফিস এবং গোগনগর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের আওতাধীন সকল জায়গা নারায়ণগঞ্জ সদর এসিল্যান্ডের মাধ্যমে নামজারি করা হয়। আর এতে করে এখানকার ভুমি অফিসের নায়েবদের জরিত থাকার নামে অভিযোগ রয়েছে। একই সাথে এসিল্যান্ডের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ফাইল আটকিয়ে দুর্নীতি করে বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় ভুমি মালিকদের।

 

কেননা ভুমি অফিসের কিছু অমেদার জমির মালিকদের সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসিল্যান্ডের সার্ভেয়ার মিল্টনের সহযোগী কামালের মাধ্যমে কন্ট্রাক করে নামজারি করে দেয়ার কথা বলে বিশাল অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে জানান জমি মালিকরা। তাছাড়া এই রানার এসিল্যান্ডে অবাধে চলাচল রয়েছে বলে জানান একাধিক ভুমিক মালিকরা।

 

কেননা একোয়ারে থাকা কোন ভুমি মালিকের নামজারি না থাকলে তা দ্রুত অল্প সময়ে এসি ল্যান্ডের সার্ভেয়ারের মাধ্যমে তা তিনি দ্রুত সময়ে করিয়ে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ উঠে। এখানে তার লোক অস্থায়ী নিয়োগকৃত রনি বাকিদের ম্যানেজ করতেন। এতে করে ভুক্তভোগি ভুমি মালিকদের থেকে সদর এসিল্যান্ড সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও তার সহযোগি কামাল দুর্নীতির মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। এসিল্যান্ডে বলা বলি হয় সার্ভেয়ারের হয়ে কামাল সকল কন্ট্রাক করেন।

 

এই ভাবে পঞ্চবটি মুক্তারপুর একোয়ারের জায়গা মালিকদের থেকে দুর্নীতি করে তারা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিশাল টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া এই কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে কারো মিস কেস হলে বাদী বিবাদীর বাড়ি গিয়ে তাদের সাথে টাকার বিনিয়ে রায় পাইয়ে দেয়ার কন্টাক করেন। তাদের সাথে কন্টেকে না গেলে তাকে নানা তারিখ দিয়ে হেনস্থা করেন। দুদকে গ্রেপ্তার হওয়া জেলা সাভের্য়ার কাউসারের সাথে এসিল্যান্ড সার্ভেয়ারদের সাথেও ভালো সখ্যতা রয়েছে।

 

একই সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়াররা এই অপকর্মের সাথে জরিত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী উঠেছে ভুক্তভোগি ভুমি মালিকদের থেকে। সেই সাথে গ্রেপ্তারকৃত সার্ভেয়ার কাউসারকে জিজ্ঞাসাবদ করলেওই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

 

এ বিষয়ে এস এম রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমার নামে অভিযোগ থাকলে সেটা নেন। আমি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি। আপনি যা করার করেন বলে ফোনকল কেটে দেন।’

 

এই ঘটনার তদন্তে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মৌসুমি বাইন হীরার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি, অফিসে এসে বক্তব্য নেয়ার জন্য বলেন তিনি।

 

নারায়ণগঞ্জ সদর এসিল্যান্ড সার্ভেয়ার মিল্টন রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

 

উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে সিদ্দিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের আউট সোর্সিংয়ের সাবেক কর্মচারী মো. জাহিদুল ইসলাম সুমনের কাছে একটি কার্টন পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী রিফাত হোসেন নেজারত ডেপুটি কালেক্টরকে ঘটনাটি অবহিত করেন। সুমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ কার্টনে নগদ টাকা থাকার কথা স্বীকার করেন।

 

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জব্দ তালিকা তৈরি করে দেখা যায়, কার্টনে ৪২ লাখ টাকা পাওয়া যায়, এতে এক হাজার টাকার ৩ হাজার ৭০০টি নোট এবং ৫০০ টাকার এক হাজারটি নোট পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে ওই টাকার বিষয়ে জেলা প্রশাসক মনে করেন যে, জব্দ করা ৪২ লাখ টাকা দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট অর্থ। এবং ধারণা করা হচ্ছে এ কার্যক্রমের সঙ্গে ইউনিয়ন ভুমি অফিসের অমেদার, নায়েব, এসি ল্যান্ডের সার্ভেয়ার, কাননগো,নাজির সহ অন্য দালালদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

 

সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে ৪২ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত সার্ভেয়ারের গ্রেপ্তারের পর এবার ওএসডি করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এইচ এম সালাউদ্দীন মনজুকে। সোমবার (২২ জানুয়ারি) এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। ৩১ বিসিএস ব্যাচের এই কর্মকর্তা গত ২০২২ সালের ৫ জুন নারায়ণগঞ্জে যোগদান করেন। এস.এ/জেসি
 

এই বিভাগের আরো খবর