বৃহস্পতিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৯ ১৪২৬   ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

সিদ্ধিরগঞ্জ আ’লীগে প্রবীনদের কূট-কৌশলে আগ্রহ হারাচ্ছে নবীনরা

প্রকাশিত: ৭ ডিসেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন নিয়ে আগ্রহ নেই নবীনদের। দুই যুগ ধরে নেতৃত্বে থাকা বিতর্কিত প্রবীনরাই সক্রিয় হয়ে উঠেছে স্বপদে বহাল থাকতে। সম্মেলনের তারিখ নির্ধাণনের আগেই আধিপত্য ধরে রাখার কূট-কৌশল শুরু করেছে প্রবীনরা।

 

ফলে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে নতুনদের। সুবিধাবাদী ও অনুপ্রবেশকারিদের বিরুদ্ধে প্রদক্ষেপ গ্রহন করে নবীনদের নেতৃত্বে আনার দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের। কেন্দ্র ঘোষিত শুদ্ধি অভিযানের ছোঁয়া না লাগলে তৃণমূল নেতারা সম্মেলন নাটক মেনে নেবেনা এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

 

দলীয় একটি সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ মহানগরের আওতায়। তাই জেলা ও মহানগরের মারপ্যাচে সম্মেলন অনিশ্চয়তার সম্ভাবনা রয়েছে। পদে থাকা প্রবীনরা সম্মেলন বানচালের চেষ্টাই করছে। এমনিতেই দীর্ঘ দুই যুগ আগে গঠিত কমিটি দিয়ে চলছে থানা আওয়ামীলীগ।

 

একটানা ২৬ বছর ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মজিবুর রহমান। মাঝে ২০০৪ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে ইয়াছিন মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এর পর গত ১৫ বছর ধরে সহ-সভাপতি, সাংগঠনিক ও যুগ্ন সম্পাদকসহ অধিকাংশ বড় পদ ঠিক রেখে কিছু রদবদল আর মৃত্যুবরণ করা নেতাদের শূন্য পদ পুরন করা হয়েছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আশির্বাদপুষ্ট লোক দিয়ে।

 

অবমূল্যায়ন আর কমিটিতে ঠাই না পেয়ে দল থেকে মূখ ফিরিয়ে নিয়েছে অনেক ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতারা। দুর্দিনের কান্ডারি ও দলীয় কাজে সক্রিয় নেতারা মান অভিমানে রাজনৈতিক ময়দান থেকে হারিয়ে যাওয়ায় সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে থানা আওয়ামীলীগ। দলীয় পদ পদবীর প্রভাব খাটিয়ে যারা অন্যায় অপকর্ম করে দলের বদনাম করছে অর্থের জোরে তারাই কমিটিতে থাকার নীলনকশা করছে।

 

যেকারণে নবীনরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া প্রবীনরা সরে গিয়ে নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের। কিন্তু তৃণমূলের আশা আকাঙ্খার মূল্যায়ন না করে প্রবীনরাই তাদের পছন্দের লোক নিয়ে পকেট কমিটি গঠন করে সম্মেলন নাটক মঞ্চস্থ করার পঁয়তারা করছে।

 

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানায়, আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত শুদ্ধি অভিযানের ছোঁয়া লাগছেনা সিদ্ধিরগঞ্জে। ফলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ পন্থায় অর্থের পাহাড় গড়ে তোলা বিতর্কিত নেতারা ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করে বিএনপি জামায়াত থেকে আসা অনুপ্রবেশকারিদের নিয়ে কমিটি গঠনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তৃণমূলের সমর্থন পেতে বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতারা মেজবানী প্রতিযোগীতা শুরু করেছে।

 

একজন ৩ হাজার লোকের ভূড়িভোজের আয়োজন করলে আরেকজন করছেন ৪ হাজার লোকের। স্থানীয় নিহত নেতাকর্মী ও আয়োজকদের মা বাবার রূহের মাগফিরাতের জন্য করা হচ্ছে বলে দাওয়াত পত্রে উল্লেখ থাকলেও মূলত পদ ধরে রাখতে মনজয় করার কৌশল বলে কানাগুসা করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা।এসব ভূরিভোজ আয়োজন নিয়ে নানা সমালোচনাও চলছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বর্তমান কমিটির এক নেতা জানায়, দীর্ষদিন ধরে নেতৃত্বের পরিবর্তন না হওয়ায় অধিকাংশ নেতাকর্মীরাই ক্ষুব্ধ। যে কারণে কমিটির বর্ধিত বা অন্যকোন সভায় বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরে কোরাম পূর্ণ হয়না।

 

মূল কমিটির ১৫ থেকে ২০ জন উপস্থিত হয়। অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে করতে হয় আলোচনা সভা। দলের এই বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হলেও পদলোভী নেতাদের টনক নড়ছে না। এবারও আগে কমিটি গঠন করে পড়ে সম্মেলন করার ফন্দি ফিকির করছে তারা।

 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান জানান, সম্মেলনের মাধ্যমেই কমিটি হবে। যারা যোগ্য তারাই কমিটিতে স্থান পাবে। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পরে তারিখ নির্ধারণ করা হবে। শুধু সুদিনেই নয় দুর্দিনেও বহু ত্যাগ স্বীকার করে দলকে আগলে রেখেছি। বহুবার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চেয়েছি। কিন্তু নেতাকর্মীদের অনুরোধে ছাড়তে পারিনি।

 

সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া বলেন, ত্যাগী ও আসল নেতা বাঁছাই করতে চাইলে নেতা নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। আমরা চাচ্ছি সম্মেলন হোক। কিন্তু ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিল এখনো হয়নি বিধায় সম্মেলনের তারিখ ঠিক করা যাচ্ছেনা। কাউন্সিলে যদি নতুন কাউকে নেতা হিসেবে বেঁছে নেয় তাতে আপত্তির কি থাকতে পারে।

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, খুব শীঘ্রই সম্মেলনের তারিখ দেয়া হবে। দলের ত্যাগী নেতাদের প্রাধান্য দিয়ে এবং বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে প্রবীণ-নবীনদের সমন্বয়ে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য শক্তিশালী কমিটি উপহার দেয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর