শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৯ ১৪২৬   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

সালেহা গার্মেন্টে ৩ ঘন্টা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রইলো শ্রমিক

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ফতুল্লার বিসিকে সালেহা কালার এপার‌্যাল নামক একটি প্রতিষ্ঠানে হিসাম উদ্দিন নামে এক শ্রমিককে বেধড়ক পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থাতে তিন ঘন্টা প্রতিষ্ঠানেই ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। রাতে অফিসে ঘুমাতে দেখে ফেলায় ফিডারম্যান রঞ্জু  প্লাস্টিকের মোটা পাইপ দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে আহত করে। ওই সন্ত্রাসী মেরে আহত করার সময় ঘটনাস্থলে ৭ জন উপস্থিত থাকলেও রক্তাক্ত অবস্থায় ৩ ঘন্টা ফেলে রাখার কারণে এঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত বলে মনে করছে ভুক্তভোগীর পরিবার।  শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৩ ঘন্টা পরে খবর পেয়ে ফতুল্লার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল করিমের নেতৃত্বে ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি টিম মুমূর্ষু অবস্থায় হিসামকে উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়। এসময় ওই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা পুলিশকেও বাধা দেয় বলে জানা গেছে। 

 

এদিকে হাসপাতলে জরুরি বিভাগে হিসামকে মুমুর্ষূ অবস্থায় নিয়ে আসার পর ওই প্রতিষ্ঠানের দুই শ্রমিক খুরশিদ ও  ফরিদুলও হাসপাতাল থেকে সটকে যাওয়ার চেষ্টা করে। 

 

৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডাক্তার জানান, ভোরে মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তার নাক, হাত, পায়ে ও ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আমরা তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য পপুলার হাসপাতালে পাঠিয়েছি।  

 

আহত হিসাম জানায়, অফিসে নিয়ম করে মিটিং বলেছে রাতে কেউ যাতে ঘুমাতে না পারে। এব্যাপারে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। রাতে ফিডার ম্যান ঘুমালে আমি তার ছবি তুলেছি। কিছুক্ষণ পর কিছু না বলে  ফিডারম্যান রঞ্জু  প্লাস্টিকের মোটা পাইপ দিয়ে এলোপাথাড়ি মারা শুরু করে। আমার নাকমুখ দিয়ে রক্ত পড়ে, হাত ও পায়ে বেধড়ক পিটিয়েছে রঞ্জ। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি ফ্লোরে শুয়ে আছি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য আকুতি করলেও কেউ আমাকে হাসপাতালে আনেনি। 

 

ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল করিম বলেন, একজন শ্রমিককে মেরে রক্তাক্ত করে রাখা হয়েছে এমন সংবাদে সালেহা কালার এপার‌্যালে যাই। গেটের দারোয়ান আমাদের প্রথমে সেখানে ঢুকতে দেয়নি। আমরা মারাত্মক আহত অবস্থায় হিশামকে আমরা উদ্ধার করি। রঞ্জুকে আটক করে নিয়ে আসার সময় সব মিটমাট করে দেবে এমন আশ্বাস দিয়ে রঞ্জুকে রেখে দেয় মালিকের লোকজন। আমাদের ব্যবহৃত অটোরিক্সাতেই আহত হিসামকে খানপুর হাসপাতালে পাঠাই। 

 

প্রতিষ্ঠানের  ম্যানেজার বাবুল বলেন, আমরা রাতে অফিসে ছিলামনা। অফিস থেকে আমাকে ফোনে বলা হয় মারামারির ছোট ঘটনা ঘটেছে। আমি বলেছি সকালে কাউকে যাতে যেতে না দেয়া হয়। আমি এসে সমাধান করবো। কিন্তু এতো বড় ঘটনা আমি জানিনা। আমার মনে হচ্ছে ক্ষোভের বসে হিসামকে এভাবে মারা হয়েছে। হাসপাতালে কেন নেয়া হলোনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। 

 

আহত হিসামের দুলাভাই মো.জাকির হোসেন বলেন, হাসপাতাল থেকে সকালে ফোন পেয়ে ছুটে গিয়েছি। গিয়ে দেখি তাকে খুব নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কেউ সাহায্যের জন্য হাত বাড়ায়নি। এঘটনায় আমরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। 
 

এই বিভাগের আরো খবর