বৃহস্পতিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৯ ১৪২৬   ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

সাপের পেট থেকে বেরিয়ে আসে অক্ষত দেহে !

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : গবেষণার স্বার্থে জঙ্গলে গিয়েছিলেন এক অভিযাত্রী। সঙ্গে ছিলেন একজন সহযোগী। কয়েক ঘণ্টা পরই হঠাৎ তাদের সামনে এসে দাঁড়ায় বিশালাকার অ্যানাকোন্ডা সাপ। প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ সাপটি দেখেই নড়াচড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। সেই সুযোগে আস্তে আস্তে তাকে পেঁচিয়ে ধরে সাপটি। বিশাল হাঁ করে একটু একটু করে গলাধঃকরণ করতে থাকে অভিযাত্রীকে! কী ভয়ঙ্কর !

 

তার পরেই ঘটে এক আশ্চর্য ঘটনা। অজগরের পেটের ভিতর উঠে বসেন ওই অভিযাত্রী। দক্ষিণ আমেরিকার অরণ্য-অধ্যুষিত এলাকার ঘটনা। বাইরে থেকে তার সঙ্গী স্পষ্ট বুঝতে পারছিলেন সাপের পেটের ভিতর কী ঘটে চলেছে। অভিযাত্রী উঠে বসতেই তিনি ক্যামেরা বের করে ঘটনাটির একটি ছবি তুলে ফেলেন।

 

বিস্ময়ের তখনো বাকি ছিল অনেকখানি! তিনি দেখেন, সাপের পেটের চামড়া আস্তে আস্তে হাঁ হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে সাপের পেট চিরে বাইরে বেরিয়ে আসেন প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত অভিযাত্রী। সাপের পেটের ভিতরে থাকা পাচন রস গা থেকে মুছে ফেলে হেসে অভিযাত্রী তার সঙ্গীকে বলেন, অ্যানাকোন্ডা বা অজগর জাতীয় সাপেরা তাদের শিকারকে চিবোয় না, সরাসরি গিলে ফেলে।

 

তিনি তাই সাপের পেটের ভিতরেও অক্ষত ছিল। জ্ঞানও হারাননি। উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে পকেট থেকে ছুরি বের করে তিনি চিরে ফেলেন সাপের পেটের চামড়া। বাইরে বেরিয়ে আসেন অক্ষত দেহে।

 

এমন একটি গল্প বেশ কয়েকমাস ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে অনলাইনে। কিন্তু এই ঘটনার ভিত্তি কী? সত্যিই কি ঘটেছে এমন কোনো ঘটনা? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই উদ্যোগী হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন অনুসন্ধানী। অনুসন্ধানের প্রথম ধাপেই তারা জানতে পারেন, উপরের ছবিটি আদৌ ফোটোশপের কারসাজি নয়। ছবিটা সত্যি। তাহলে প্রকৃত ঘটনাটা কি?

 

সর্প-বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো পরিণত বয়স্ক মানুষকে গিলে খেতে হয়, তাহলে সেই অ্যানাকোন্ডাকে অন্তত পক্ষে ১৩ ফুট দীর্ঘ হতে হবে। এত বড় অ্যানাকোন্ডারের দেখা সচরাচর মেলে না। তা ছাড়া অ্যানাকোন্ডার মানুষকে আক্রমণ করার মাত্র দু’টি ঘটনা আজ পর্যন্ত নথিভুক্ত হয়েছে।

 

তাহলে উপরের ছবিটির ব্যাখ্যা কী? খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সত্যিই অ্যানাকোন্ডা মানুষকে আক্রমণ করে কি না, তা হাতে-কলমে পরীক্ষা করে দেখার জন্য অভিযাত্রী পল রোজালি ২০১৪ সালে দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে পাড়ি দেন। তার এই গবেষণা একটি চ্যানেলে অনুষ্ঠান হিসেবে সম্প্রচারিতও হয়।

 

একটি স্নেক-প্রুফ পোশাক পরে সারা গায়ে শুয়োরের রক্ত মেখে তিনি একটি ২০ ফুট লম্বা অ্যানোকোন্ডার সামনে শুয়ে তাকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করতে থাকেন। প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টার পরে সাপটি তাকে লেজে পেঁচিয়ে ধরে খাওয়ার উদ্যোগ নেয়। সাপটি সত্যিই তাকে আস্ত খেতে পারে কি না, তা জানার আগেই পল টের পান, সাপের লেজের প্যাঁচের চাপে তার বা হাতটি ভেঙে গেছে। যন্ত্রণায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে তিনি চিৎকার করে সহযোগীদের ডাকেন। তারা এসে সাপটির মুখ থেকে উদ্ধার করেন পলকে।

 

পলের অনুসন্ধান অসমাপ্ত রয়ে যায়, কিন্তু সেই সময়েই ‘১-৮০০ কনট্যাক্টস’ নামের একটি মার্কিন কনট্যাক্ট লেন্স কোম্পানি একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করে। সেই বিজ্ঞাপনেই দেখা গিয়েছিল, একটি সাপ গিলে ফেলেছে একজন আস্ত মানুষকে। আর এক বিশেষজ্ঞ সাপের মুখটি হাঁ করে ধরে তার পেটের ভিতরে থাকা ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন।