বুধবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা বন্দরের সাবদি

আবু সুফিয়ান

প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারি ২০২৩  


ফুলকে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। যুগ যুগ ধরে মানবসভ্যতায় ফুলকে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়। এজন্যই ফুল ভালোবাসার প্রতীক, পবিত্রতার প্রতীক। ফুলের গন্ধে মন মাতায়, প্রাণ জুড়ায়। ফুলের ঘ্রানে যেন মন ভরে যায়। এমনই ফুলের গন্ধে ঘুম কেড়ে নেয়া নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ফুলের গ্রাম খ্যাত সাবদি, যেখানে ফুলে ফুলে মধু আহরণ করে শত শত মৌমাছি।

 

 

মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলের অপরুপ সৌন্দর্যে কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাঁসি। প্রতিটি সরিষার ফুলে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। হলুদের মাঠে কৃষকের স্বপ্ন খেলা করছে এখন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। কৃষকের চোখে এখন লাভের হাতছানি।

 

 

বন্দরের সাবদিতে সরিষার হলুদ ফুলে সজ্জিত বিস্তির্ণ মাঠ। যেদিকে চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। ক্ষেতের পর ক্ষেতে সরিষা ফুলের এমনই নয়নাভিরাম দৃশ্য। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। মন চায় সেই হলুদের মাঝে হারিয়ে যেতে। প্রকৃতি যেন নতুন রূপে হলদে শাড়ি পরে আছে।

 

 

পৌষের সকালের মিষ্টি রোদে ঝলমল করা সরিষা ফুলের অবারিত সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। গাঢ হলুদে সোনালি রোদ মিলেমিশে এ এক অনিন্দ্য সৌন্দর্য। চোখ জুড়ানো হলুদের মেলা প্রকৃতিকে সাজিয়েছে অপরূপ সাজে।মাঠের পর মাঠ যেন শুধু সর্ষে ফুলের হলুদ হাঁসিতে রাঙিয়ে দিয়েছে পুরো উপজেলাকে।

 

 

সরিষার ক্ষেতে ছবি তুলতে দলবেঁধে ছুটে আসছে স্কুলের ছাত্র,তরুন,শিশু এমনকি বয়স্করাও। নিজেদের পছন্দমত ছবি তুলছে মোবাইলে।কেউ কেউ তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছে। সাবদি, দিঘলদীতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে সরিষার হলুদ ফুলের সীমাহীন বাগান।

 

 

চির সবুজের বুকে এ যেনো কাঁচা হলুদের আলপনা। দুর থেকে ভেসে আসছে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ। মধু সংগ্রহে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে মৌ মাছির দল। তাদের গুনগুন সুরে বিমোহিত চারদিক।

 

 

এখানকার সূর্যমুখী ফুলেও যেন সূর্যের হাসি ফুটে উঠেছে কৃষকের মুখে। এই নয়নাভিরাম দৃশ্য কেবলই সবাইকে কাছে টানে। সারি সারি ফুলের গাছ। লাল, হলুদ, বেগুনি আর সাদা রঙের ফুল এবং সবুজ পাতায় মোড়ানো অজস্রগাছ। পুরো মাঠ যেন রংয়ের মেলা। চারদিক থেকে হাওয়ায় ভেসে আসছে বাহারি ফুলের গন্ধ।

 

 

তেমনি ফুলের গন্ধে মৌ মৌ করা গ্রাম বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদি, দিঘলদী। যেদিকে দু’চোখ যায় কেবল ফুল আর ফুল। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। ফুলের সুবাসে যেন মন ভরিয়ে দেয়। এ গ্রামের আশপাশের সব জমি ও বাড়ির আঙ্গিনায় কাঠমালতি, গাঁদা, ডালিয়াসহ হরেক রকমের ফুলের বাগান।

 

 

সাবদি গ্রামসহ আশপাশের আরো গ্রামগুলোতে কেউ পা রাখলেই বিস্মিত হয়ে ওঠে। গ্রামগুলোকে ঘিরে শুধু বাগান আর বাগান। কয়েক বর্গমাইল এলাকাব্যাপী কাঠমালতি, গাঁদা, ডালিয়া ও জিপসি ফুলের গুচ্ছ গুচ্ছ বাগান। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে গ্রামগুলোর রাস্তার দুই ধারে হাজারো কাঠমালতির সারি সারি বাগান। সারা গ্রামের সব জমিতে ফুল আর ফুল।

 

 

ফুলের সাম্রাজ্য সাবদি ছাড়াও দেখা মেলে দিঘলদী, সেলশারদী, মাধবপাশা, আইছতলাসহ সোনারগাঁও উপজেলার সম্ভুপুরা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে। এসব গ্রামে কাঠমালতি, গাঁদা, বেলী ও জিপসি ফুলের বাগান করে শতাধিক মানুষের পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। তাই সাবদি ও দিঘলদী গ্রামকে এখন সারা দেশে ফুলের গ্রাম নামে পরিচিতি লাভ করে।

 

 

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সাবদি, দিঘলদী গ্রামগুলোর পাশ ঘেঁষেই বয়ে চলেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। নদের পশ্চিম ধারে সারি সারি কাঠমালতির বাগান। ফুলের চাষাবাদ করে এ এলাকার লোকজন তাদের ভাগ্যের চাকার পরিবর্তন করেছে।

 

 

বদলে গেছে এ গ্রামের দৃশ্যপট। ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা শান্ত পরিবেশের গ্রামগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় পাঁচ-ছয় হাজার লোক জড়িত আছে ফুলবিষয়ক বাণিজ্যে। তারা ফুল উৎপাদন, ফুলের মালা তৈরি ও ফুল বিক্রিতে সরাসরি জড়িত আছেন।

 

 

প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ফুল ঢাকা শাহবাগ ও চট্টগ্রামের ফুলের আড়তে যায়। এখানকার ফুল রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের সব প্রান্তের চাহিদা পূরণ করে থাকে। এমনকি চাষকৃত ফুল কয়েকটি দেশে রফতানিও করা হয়। এতে যেমন কৃষকের লাভ বেড়েছে তেমনি অন্য দিকে বেড়েছে দেশের সুনাম। সরকারও লাভবান হচ্ছে।

 

 

বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় চাষিদের ব্যস্ততা খুব বেড়ে যায়। জানা গেছে, দিঘলদী গ্রামের বেকার যুবক সুধেব চন্দ্র দাস প্রথম এ গ্রামে ফুলের চাষ শুরু করেন। পরে আরো কয়েকজন বেকার যুবক ওই গ্রামে সুধেবের দেখাদেখি ফুলের চাষাবাদ করেন। ওই গ্রামের রহমতউল্লাহ ১৯৯২ সালে ডেমরার বাওয়া জুট মিলের চাকরি চলে যাওয়ার পর তিনি ঢাকায় ফেরি করে ফুলের ব্যবসায় শুরু করে।

 

 

পরে ওই গ্রামের অপর ফুল ব্যবসায়ী মোতালেবের উৎসাহে ১৯৯৫ সালে তিনি গ্রামে এসে বার্ষিক ইজারা ভিত্তিতে অন্যের জমিতে ফুল চাষ শুরু করেন। বর্তমানে রহমতউল্লাহর ফুল চাষ করে নিজে ২০ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। রহমতউল্লাহর মতো ওই গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক লোক কাঠমালতি গাঁদা, জিপসি ও বেলী ফুলের চাষ করছেন।

 

 

এ ফুল চাষের পেশার সাথে জড়িয়ে আছে আরো প্রায় এক হাজার শ্রমিকের জীবিকা। এ ফুল চাষে পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা ও স্কুলেপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা জড়িত রয়েছে। তারা প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে কাঠমালতির ফুল বাগানে কলি আহরণের উদ্দেশ্যে যায়। সাংসারিক সুখ-দুঃখের আলাপচারিতার ফাঁকে ডালা ভরে ফুল কলি তুলে যার যার বাড়িতে ফিরে আসে।

 

 

কাঠমালতির ফুল দিয়ে গাজরা ও ফুল কলির লহর বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সাবদি, দিঘলদীসহ ওই এলাকার সব মহিলা। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও সকাল ৯টা পর্যন্ত কলি তুলে স্কুলে যায়। তারা আবার বিকেলে বাড়ি ফিরে ফুলের লহর বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ দিকে, ফুলচাষিরা বাগান থেকে তুলে আনা ফুল বাড়ির আঙ্গিনায় মালা গেঁথে সেগুলো সন্ধ্যায় সাবদি বাজারে নিয়ে জড়ো করে।

 

 

সাবদি বাজার থেকে ট্রাকে করে পাইকাররা প্রতি রাতে এসব ফুল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায় বিক্রির জন্য। তিন ধাপে কাঠমালতি ফুল বাজারজাত হয়। প্রথম ধাপে বাগান করা, দ্বিতীয় ধাপে ফুল ক্রয় করা এবং তৃতীয় ধাপে তা শাহবাগে এবং চট্টগ্রামের ফুলের হাটে কাঠমালতির ফুলকলি বাজারজাত করা হয়।

 

 

বাসরঘর সাজানোর জন্য এবং বিভিন্ন পূজা আর্চনায় কাঠমালতি ফুল কলির ব্যাপক চাহিদা আছে বাজারে। তাছাড়া বর্তমানে আধুনিক তরুণীদের খোঁপায় কাঠমালতির ফুলকলির গাজরার ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এখন অনেক জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে। তেমনি নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার দীঘলদি ও সাবদী এলাকায় হচ্ছে ফুলের চাষ। মাঠের পর মাঠ জুড়ে ফুলের ক্ষেত। ফুলই যেন এখানকার ফসল।

 

 

বাতাসে ফুলের মিষ্টি সৌরভ, মৌমাছির গুঞ্জন, প্রজাপতির ডানার জৌলুস আর রঙের অফুরান সমাহার। শত শত বিঘা জমিতে গাঁদা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, কসমস, ডেইজি জিপসি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ আরো বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ। মনে হবে যেন এক টুকরো স্বর্গ। ফুলের তীব্র সুগন্ধ, অসংখ্য মৌমাছি আর প্রজাপতির ওড়াউড়ির দৃশ্য যেকারো মন কেড়ে নেবে।

 

 

সাবদিতে ঘুরতে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, এখানকার ফুলচাষিদের মন ফুলের মতো সুন্দর। যেকোনো বাগানে ঢুকে ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়ানো যায়, ছবিও তোলা যায়। কেউ কিছু বলবে না। বরং মিষ্টি হাসি দিয়ে তাকিয়ে থাকবে। তিনি জানান, বাগানে ঢোকার আগে অনুমতি নিলে খুবই খুশি হন ফুলচাষিরা।

 

 

আরেক বাগানে দেখা যায়, একজন ফুল চাষি খুব মনোযোগসহকারে ফুলের বাগানে কাজ করছেন। তাঁর মতো আরো অনেকেই এখন এখানে ফসলের পরিবর্তে ফুলের আবাদ করছেন। জানা যায়, আগে তাঁদের সংসারে দারিদ্র্য ছিল কিন্তু এখন নেই।

 

 

ফুল চাষ তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। সাবদির সবগুলো ফুলের বাগান ঘুরে দেখা যায়, অনেকেই এসেছেন ফুলের বাগানে ঘুরতে। কেউ সময় পার করছেন, আবার কেউ ছবি তুলছেন।


 

উপজেলা কৃষি দপ্তর ও এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফসলের চেয়ে ফুলে আয় বেশি হওয়ায় ধীরে ধীরে লোকজন ফুল চাষে ঝুঁকছেন। তবে ফুল চাষে পরিশ্রম খুব বেশি বলেও জানালেন চাষিরা। দিনরাত পরিশ্রম করতে হয়। বিশেষ করে প্রতিদিন বাজারে ফুল নিতে হয় বলে ফুরসত থাকে না।

 

 

আবার প্রতিদিন বিক্রি থাকে বলে নগদ টাকার প্রবাহই কৃষকদের পরিশ্রমে উৎসাহ জোগায়। ফুলের চাষাবাদ করে এ এলাকার লোকজন তাদের ভাগ্যের চাকার পরিবর্তন করেছে। বদলে গেছে এ গ্রামের সব দৃশ্যপট। ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা শান্ত পরিবেশের গ্রামগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫/৬ হাজার লোক জড়িয়ে আছে ফুলের বাগানের সঙ্গে।

 

 

তারা ফুল উৎপাদন, ফুলের মালা তৈরি ও ফুল বিক্রিতে সরাসরি জড়িত আছেন। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ফুল ঢাকা শাহবাগ ও চট্টগ্রামের ফুলের আড়তে যায়। এখানকার ফুল রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের সব প্রান্তের চাহিদা পূরণ করে থাকে। এমনকি চাষকৃত ফুল কয়েকটি দেশে রফতানিও করা হয়।

 

 

এতে যেমন কৃষকের লাভ বেড়েছে তেমনি অন্যদিকে বেড়েছে দেশের সুনাম। সরকারও লাভবান হচ্ছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় চাষীদের ব্যস্ততা খুব বেড়ে যায়। ফুলচাষী কৃষক আনোয়ারুল জানান, কাঠবেলী ফুলের চাষ বেশি হয়ে থাকে। কারণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও ভালোবাসা দিবসে এর চাহিদা থাকে। আর এ কারণে এ ফুল চাষের প্রতি চাষীদের আগ্রহ বেশি।

 

 

গ্লাডিওলাস ফুল এক বিঘা জমিতে চাষ করা হলে প্রায় আট হাজার স্টিক পাওয়া যায়। এছাড়াও এখানে ডালিয়া, জিপসি, আলমেন্দা, গাঁদা ও রজনীগন্ধা ফুলের চাষ করা হয়। ফুলচাষীরা জানান, তারা রবিশস্য চাষ করে যা পান তার থেকে আট-দশ গুণ বেশি লাভবান হচ্ছেন ফুল চাষ করে।

 

 

এ কারণে অনেকেই বাপ-দাদার আদিম চাষ পরিবর্তন করে ফুল চাষের প্রতি ঝুঁকেছেন। আর এতে লাভও হচ্ছে। এ গ্রামের মানুষ ফুল চাষ করে তাদের পুরো এলাকার চিত্র পাল্টে দিয়েছে। গ্রামের সবাই এখন স্বাবলম্বী। একটু অবসর পেলেই দৃষ্টি এবং মন জুড়াতে চলে যেতে পারেন সাবদি এবং তার আশপাশের গ্রামগুলোয়। আপনার জন্য অপেক্ষা করছে অপরূপ সৌন্দর্যের অন্য এক ভুবন।


 

প্রত্যেকটি মানুষের ভালো লাগা-মন্দ লাগা আছে। কেউ একটা জিনিস পছন্দ করে, ভালোবাসে। আবার কেউ ওই জিনিসটাকে অপছন্দ করে, ঘৃণা করে। এটি একটি স্বভাবজাত বিষয়। যা সৃষ্টিগতভাবে আমাদের সবার মধ্যেই আছে। আর এ বিষয়ে সবাই অস্বীকার বা দ্বিমত পোষণ করবে না।

 

 

কিন্তু একটি বিষয়ে বেশির ভাগ মানুষই একমত হবে যে, কমবেশি আমরা সবাই ফুলকে পছন্দ করি, ভালোবাসি, তার সংস্পর্শে যাই ও তার থেকে সুঘ্রাণ বা সুবাস নেই। এ ছাড়া ফুলকে আমরা নানাভাবেই ব্যবহার করি। কারণ ফুল সবসময় আমাদের ভালো কিছুই উপহার দেয়। ফুল সবসময় আমাদের পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ায়।

 

 

একটি অগোছালো, অব্যবহৃত জায়গাকে আকর্ষণীয় ও প্রিয় করে তুলে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাস্তব সত্য হলো, আমরা ফুলকে নষ্ট করে তার সেই সৌন্দর্য শুধু কমাই। কখনো তো অপ্রয়োজনেও ফুলকে নষ্ট করি, আবার প্রয়োজনে ব্যবহার করলেও শেষটা ডাস্টবিনে বা অপরিচ্ছন্ন জায়গাতে ছুড়ে ফেলে খুবই অসম্মানজনক আচরণই করি। যা ফুলের সাথে আমাদের উত্তম আচরণ নয়।

 

 

কেননা, একজন বাংলা সাহিত্যিক বলেন, তাজা ফুলকে তুমি ভালোবাস, তাতে গৌরবের কী হলো। তাজা ফুলকে সবাই ভালো না বাসুক, পছন্দ করে। যে কেউ তাজা ফুলকে হাতে তুলে নেয়। সুবাস গ্রহণ করে। এটি ফুলের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা পাওয়ার মতো কিছু নয়। যদি পারো শুকনো ফুলকে ভালোবাসতে, যদি পারো ঝরা ফুলকে আলতো করে তুলে নিতে এবং চিরকালের জন্য আপন করে কাছে রাখতে, সেটি হবে গৌরবের।

 

 

আর তখনই তুমি পাবে পৃথিবীর বাগানের সব ফুলের কৃতজ্ঞতা। সত্যি! আমরা ফুলের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা পাওয়া তো পরের বিষয়, তার সঠিক ব্যবহার ও মর্যাদাই করি না। আমরা শুধু ফুলকে নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করি ও ব্যবহার শেষে যেখানে সেখানে ছুড়ে ফেলি। অথচ ফুলকে নষ্ট করা নয় বরং ফুলকে যত্ন ও সংরক্ষণ করা, ফুলের সৌন্দর্য ও সুবাস গ্রহণ করা এবং আশপাশের পরিবেশকে সুন্দর করা উচিত। অথবা ফুলের সঠিক ব্যবহারটুকু তো অবশ্যই করা উচিত।

 

 

অতএব, আমরা আমাদের পছন্দের ফুলের সংস্পর্শে আসি, ফুলকে ভালোবাসি, ফুলের গুণাবলি গ্রহণ করি, প্রয়োজনে ফুলকে ব্যবহারও করি, অপ্রয়োজনে ফুলকে নষ্ট না করি বরং ফুলকে বাঁচিয়ে আমাদের চারপাশের পরিবেশটা আরো সৌন্দর্যমণ্ডিত করি। সর্বোপরি ফুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও অর্জন করি। তাহলেই আমরা পাবো পৃথিবীর সব ফুলের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। এন.এইচ/জেসি

এই বিভাগের আরো খবর