সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪   ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

সদরে কপাল পুড়তে পারে বর্তমান চেয়ারম্যানদের

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৪  

 

# প্রত্যেকেই কোন না কোন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে জরিয়েছেন
# দীর্ঘ সময় পেয়েও সদরের মানুষের সুখে-দুখে থাকতে পারেনি এরা

 

 

গত ৭  জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই এবার সারাদেশে উপজেলা নির্বাচন হওয়ার ঘোষনা জানায় নির্বাচন কমিশন চলতি মাসের শেষের দিকে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর মার্চের প্রথমদিকেই হতে পারে এই নির্বাচন। ইতিমধ্যেই নির্বাচন ঘিরে সারাদেশেই সকল উপজেলার প্রার্থীরাই প্রস্তুতি গ্রহন করেছে।

 

তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জেও ৫ টি উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও নতুন প্রার্থীরাও নিজেদেরকে জানান দিতে বিভিন্ন জায়গাতে লাগিয়েছে নির্বাচনী সালাম পোস্টার। তবে এই ৫ টি উপজেলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হলেও দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় যাবৎ নির্বাচন বন্ধ বয়েছে এই উপজেলার। তবে দীর্ঘদিন যাবৎ নির্বাচন বন্ধ থাকার কারণে এই সদর উপজেলা থেকে সুবিধা বঞ্চিত হয়ে আছে এই উপজেলার মানুষ।

 

শুধু তাই নয়, এতো বছর যাবৎ দায়িত্বে থাকার পড়েও  উপজেলার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির এই উপজেলার মানুষের আর্শিবাদ হয়ে আসেনি। তাই আগামী নির্বাচনে যদি তারা আসে তাহলেও তাদের প্রত্যাখ্যান করবে এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

 

তবে এই এলাকার মানুষ এবার বুঝে শুনেই তাদের ভোটাধিকার প্রদান করবেন। যে এলাকার মানুষের সুখে দুখে পাশে থাকবে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবে। তাই অনেকেই মনে করছেন যদি নির্বাচনে যোগ্য কেউ আসে কপাল পুড়তে পারে সদর উপজেলার এই তিন চেয়ারম্যানের।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস দীর্ঘ বছর বিএনপির রাজনৈতিকের জড়িত থাকলেও উপজেলা চেয়ারম্যান হবার পর আওয়ামী লীগের সাথে আতাঁত করেই চলতে হয়েছে। এতো বছর সময় পাওয়ার পরেও এই উপজেলার ভাগ্যে উন্নয়নে কোন পরিবর্তন আসেনি।

 

অন্যদিকে সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন নানান কারণে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হয়েছে। এলাকায় চাঁদাবাজি , ভূমিদস্যুতা সহ বিভিন্ন অপকর্মে জরিয়ে নিজেকে সব সমই জাহির করতেন। এমনকি তার কাছে বিভিন্ন বিষয়ে গেলে মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করেও বেশ কিছু ঘটনাও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভাইস চেয়ারম্যানের হিসেবে নিজেকে এক যুগের বেশি সময় পার করলেও সেবা পায়নি এই এলাকার মানুষ। তাই তিনি যদি নির্বাচনে আসেন তাহলেও ভোটারদের কাছ থেকে কোন রকম সারা মিলবে না।

 

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির ফতুল্লা থানায় ভিতরে গিয়ে পুলিশকে গালাগালি করে গ্রেফতার পর্যন্ত হয়েছিলেন পরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে তার মুক্তি মেলে। প্রতিবছর গরুর হাট হলে তাকে প্রকাশ্যে দেখা মেলে।

 

তথ্যমতে, সর্বশেষ ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ সময় বিএনপি  নেতা আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন গঠিত হলে সদর উপজেলার কিছু অংশ সিটি কর্পোরেশনে চলে যায়। এদিকে সদর উপজেলার কিছু এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন হওয়ায় ওই সব এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ (২০০৯ সনের ৩০ জুন সংশোধিত) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার সদর উপজেলা পুর্নগঠন করে।

 

২০১৪ সালের ৪ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। এ গেজেট অনুযায়ী কয়েকটি এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলার নতুন সীমানা নির্ধারণ হওয়ায় উচ্চ আদালতে একটি রিট করা হয়। যার পিটিশন নং-৩০৮৯। এ রিট করেন ফতুল্লা চৌধুরী বাড়ির মৃত সুলতান বক্স চৌধুরীর ছেলে মো. আসাদউদ্দিন চৌধুরী, পশ্চিম মাসদাইরের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে বজলুর রহমান ও কাশিপুর উত্তর গোয়ালবন্দের হেলালউদ্দিন মুন্সীর ছেলে মো. হামিম মুন্সী।

 

সূত্রমতে, রিট আবেদনকারী প্রত্যেকেই উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের লোক হিসেবে পরিচিত। আর তাদের করা সীমানা সংক্রান্ত এই মামলার অজুহাতে নির্বাচন না হওয়ায় দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন তিনি।

 

জানা যায়, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস বিএনপি নেতা হলেও তার সাথে আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের আস্থাভাজন। সভা, সমাবেশসহ বিভিন্ন আয়োজনে শামীম ওসমানের পাশে দেখা যায় আজাদ বিশ্বাসকে। তাদের সম্পর্কের বিষয়ে তিক্ত হয়ে উঠছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরাও।

 

তথ্যমতে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ইসদাইর বাংলা ভবনে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত এক সভায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছিলেন, ‘সংসদ নির্বাচন (একাদশ সংসদ নির্বাচন) শেষ করেই উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কাজ করবো। চেয়ারম্যানদের নিয়ে বসবো। সদর উপজেলার নির্বাচন হবে। সেখানে আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থী থাকবে। সেটা আমিই ঠিক করে দিব। কাজ করতে এসেছি। যাকে যে জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করতে হয় সে জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করে যাব। কখন হবে সেটা সময় বলে দিবে।’

 

এমন বক্তব্যের পর তৎকালীন সময়ে বহুল কাঙ্ক্ষিত সদর উপজেলার নির্বাচন হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা যায়। তার বলয়ের মধ্যে পরিচিত অনেক নেতাই উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য তৎপর ছিলেন। তবে শেষতক শামীম ওসমানের কথার বাস্তবায়ন হয়নি। সারাদেশে উপজেলা নির্বাচন হলেও তালিকায় ছিলো না নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নাম।

 

আওয়ামী লীগের অনেকের মতে, চেয়ারম্যান আজাদ বিশ্বাসের সাথে তার ঘনিষ্ঠতার কারণেই তিনি উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আর কাজ করেননি। তাদের ভাষ্যমতে, তার সদ্বিচ্ছা থাকলে সে বছরই মামলার জটিলতা শেষ করে নির্বাচন করা দেয়া সম্ভব ছিল। তবে  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকল রকমের জটিলতা শেষ করেই এবার এই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এস.এ/জেসি
 

এই বিভাগের আরো খবর