শুক্রবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৮ ১৪২৬   ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪১

শেখ হাসিনা ফিরলেই না’গঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের কাউন্সিল

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : বিষয়টি আরো স্পষ্ট হল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের কাউন্সিল হবে।

 

মার্চের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়া (কাউন্সিল) নিয়ে  জল্পনা-কল্পনা চলছিল নেতাকর্মীদের মধ্যে। বিষয়টি আরো স্পষ্ট করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  


আগামী মার্চের মধ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করার সময় বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। সম্মেলন নিয়ে চলতি মাসের শুরুতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের সাথে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারিদের আলাদা আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 


সেই বৈঠকে মার্চেই জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে এমন আভাস পাওয়া যায়। গত ২ ও ৪ ফেব্রুয়ারি আলাদা আলাদা দুটি বৈঠকের দু’দিন পরেই জেলা ও মহানগর সম্মেলন নিয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে অসমাপ্ত জেলা সম্মেলনগুলো নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।


তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ২৯টি জেলার কাজ করেছি। অসমাপ্ত জেলা সম্মেলনগুলো নিয়ে কাজ চলছে। আগামী চলতি মাসের ১২ ফেব্রুয়ারি ও ১৩ ফেব্রয়ারি প্রধানমন্ত্রীর নিজ এলাকা  কোটালিপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।


চট্টগ্রামের সম্মেলন বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সামনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। সে জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ এবং মহানগর সম্মেলন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরে হবে বলে স্পষ্ট করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। 

একাধিক সূত্রে জানাগেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরদিন গত ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গিয়ে মির্জা আজমের সাথে বৈঠক করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক এড.আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদল। এই বৈঠকে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সর্বশেষ জানতে চান মির্জা আজম। 

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাকে জানান, জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল করার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ কমিটির এখনো ৩ বছর মেয়াদ পূর্তি হয়নি। তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার এখনো কাউন্সিল শেষ করা যায়নি। সেখানে দুইটা গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। 


এছাড়া রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে কাউন্সিল হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। তারা বলেন, থানা কমিটিগুলোর কাউন্সিল শেষ না করা পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল করা ঠিক হবেনা। এ সময় মির্জা আজম পুনরায় তাদেরকে নিয়ে আবারও বসবেন বলে জানিয়ে দেন। 


এদিকে গত মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় গিয়ে মির্জা আজমের সাথে বৈঠক করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এড.খোকন সাহা। এই মহানগর কমিটির মেয়াদ দুই বছর আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় মার্চের মধ্যেই মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল করার তাগিদ দেন মির্জা আজম। 


মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারি ওই বৈঠকে বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত মহানগর অন্তর্ভূক্ত ২৭টি ওয়ার্ডেও কোন কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। মির্জা আজম এ তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেন। 


এতবছর পরেও কেন কমিটি গঠন হয়নি তা জানতে চান। তাদের কথায় মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে নেতাদের মধ্যে সুস্পষ্ট বিরোধের ইঙ্গিতও উঠে আসে। এবং বাহিরের থেকে কোন প্রভাবশলী নেতা কলকাঠি নাড়ার কারণে এপর্যন্ত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটিগুলো করা সম্ভবপর হয়নি। 


সূত্র জানায়, মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হলে সাবেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটিগুলো কার্যকরী ভূমিকা রাখবে কি না  তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে মির্জা আজম বলেছেন, দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে আছেন, তিনি দেশে ফিরলে তার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন মির্জা আজম। 


জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই যুগের চিন্তাকে জানিয়েছেন, ‘মির্জা আজমের সাথে ঢাকায় তাদের বৈঠক হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা ও অবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে তাদের। 

 

সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়েও তাদের সাথে মির্জা আজমের কথা হয়েছে। তবে যেহুতু জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ এখনো রয়েছে। সেহেতু দলের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা নেই নারায়ণগঞ্জ জেলার জন্য।’  


মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘কাউন্সিল অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের সাথে তাদের কথা হয়েছে।

 

তার কাছে মহানগর আওয়ামী লীগের যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আমরা উপস্থাপন করেছি। নেত্রী দেশে ফিরলে কাউন্সিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’  

এই বিভাগের আরো খবর