শুক্রবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৮ ১৪২৬   ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪১

শীঘ্রই মেট্রোপলিটন, ‘এ’ ক্যাটাগরীর জেলা হচ্ছে না’গঞ্জ

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : খুব শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশকে মেট্রোপলিটন করা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলাকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলা ঘোষণা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জোরালো আলাচনা হয়েছে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়। 

 

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সম্মেলনকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জ মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব পুলিশ সদর দপ্তর থেকে  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

 

 প্রায় একই সময়ে প্রস্তাবনা দেয়ার পর গাজীপুর ও রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় উন্নীত হয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ মেট্রোপলিটন এলাকা করার ব্যাপারটি ঝুলে থাকে। নারায়ণগঞ্জ মেট্রোপলিটন পুলিশে একজন ডিআইজি, ২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৬ জন এসপি, ৭ জন অতিরিক্ত এসপি, ৪ জন এএসপিসহ ১২৪৮ জনবলের প্রস্তাব রয়েছে। 


আইনশৃঙ্খলা সভায় পুলিশ সুপার মো.জায়েদুল আলম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ মেট্রোপলিটন হলে এখানকার মানুষ আরো সুযোগ-সুবিধা পাবেন। সামনে এখানে সুন্দর দিন আসবে। 


গাজীপুরের মতো আগেই নারায়ণগঞ্জ মেট্রোপলিটন পুলিশ হওয়া দরকার ছিল। লোকসংখ্যার অনুপাতে নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা অপ্রতুল। মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন করতে আমি আইজিপি স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।’ একই বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো.জসিম উদ্দিন বলেন, ‘মেট্রোপলিটন এলাকা করতে জেলা প্রশাসন থেকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা আবারও চিঠি দেবো।’ 


না’গঞ্জ জেলাকে  ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীতকরণ : 

বিশেষ বা প্রথম শ্রেণিভুক্ত জেলা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব সূচকেই এগিয়ে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকেও নারায়ণগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ। নদীবন্দর হিসেবে রয়েছে এ জেলার বিশেষ পরিচিতি। তারপরও নারায়ণগঞ্জ ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলা। ঢাকার পর নারায়ণগঞ্জ সারাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করে।

রফতানি আয়ের ক্ষেত্রেও এ জেলা শীর্ষে। নারায়ণগঞ্জ কোন ক্যাটাগরির জেলা তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেক জেলা ওপরের ক্যাটাগরিতে উত্তরণের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জকে ‘বিশেষ’ ক্যাটাগরির বলে অভিহিত করে উদাহরণ টানে। ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলা হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ কম পাচ্ছে। 


আইনশৃঙ্খলা সভায় নারায়ণগঞ্জকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় পরিণত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  আইনশৃঙ্খলা সভায় বক্তারা বেশ কয়েকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বর্তমান ক্যাবিনেট সচিব নারায়ণগঞ্জের সন্তান। ‘এ’ক্যাটাগরির জেলা করার ব্যাপারে তিনিও আমাদের সহযোগিতা করবেন। 

‘এ’ক্যাটাগরির জেলা করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত করা হবে। খুব শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকেও ক্যাবিনেট সচিবের সাথে দেখা করে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলাতে উন্নিত করার ব্যাপারে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জিয়া হলের মেলা : 

সম্প্রতি জেলা প্রশাসন চাষাঢ়ায় জিয়া হলের অবৈধ মেলা উচ্ছেদ করে দিয়েছে। কিন্তু ইদানিং একটি চক্র বই মেলাসহ নানা মেলার প্রস্তাবনা নিয়ে জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাভের জন্য ধর্ণা দিচ্ছে এমন বিষয়টিও জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনায় আসে। 


মেলা না বসানোর ব্যাপারে রেজ্যুলেশনের কথাটিও আলোচনায় আসে। জিয়া হলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে জিয়া হলের কমিটির সভা আয়োজনেরও দাবি তোলা হয়। এবং সার্বিক আলোচনার ভিত্তিতে জিয়া হলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার উদ্যেগ গ্রহণ করার কথা বলা হয়।


অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ:    

শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশেপাশের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কোন দপ্তরের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা না থাকলে যেঁচে কাজ করবেনা বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পুলিশ চাইলে সাথে সাথে পুলিশ দেবো। তবে সার্বক্ষণিক ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে পুলিশ যেঁচে কাজ করবেনা। 


সবদপ্তরের চাহিদা মোতাবেক পুলিশ পাঠানো হবে। পুলিশ একা কোন কাজ করবেনা। নদী দখল উদ্ধারে বিআইডব্লিউটিএ, অবৈধ ফুটপাত দখল উদ্ধারে সিটি করপোরেশন, যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিআরটিএ চাহিদার ভিত্তিতে সাথে সাথে পুলিশ দেয়া হবে। পুলিশের সদস্য কম থাকায় যেঁচে পুলিশ কোন কাজ এককভাবে করবেনা, কেননা পুলিশের মূল কাজ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।


ডিজে পার্টি হলেই ব্যবস্থা :   

রাত সাড়ে ১০টার পর কোথাও ডিজে পার্টি হলে তা শক্তভাবে দমন করার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ডিজে পার্টির নামে আকাশে আতশবাজি কিংবা হৈ হুল্লোড় করলে জানার সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 


জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপস্থিত ছিলেন,  পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম , সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ, জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ, র‌্যাব-১১ এর এএসপি মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ-৬২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক  লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল আমিন, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এড.মাহবুবুর রহমান মাসুম, পাবলিক প্রসিকিউটর এড.ওয়াজেদ আলী খোকন, জেলা শিক্ষা অফিসার শরীফুল ইসলাম, সদর ইউএনও নাহিদা বারিক, বন্দর ইউএনও শুক্লা সরকার, সোনারগাঁ ইউএনও রাকিবুর রহমান প্রমুখ। 

এই বিভাগের আরো খবর