সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   ভাদ্র ৩১ ১৪২৬   ১৬ মুহররম ১৪৪১

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমামসহ গ্রেফতার ৬

প্রকাশিত: ৭ আগস্ট ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মসজিদের ইমামসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।
 

বুধবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টায়  ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন, মসজিদের ইমাম ও নেত্রকোনা কেন্দুয়া থানার সরাপাড়া গ্রামের মৃত রিয়াজউদ্দীনের ছেলে ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও তার সহযোগী রমজান আলী (৪৯), মোঃ গিয়াস উদ্দিন (৫২), হাবিব এ এলাহী ওরফে হবি (৫৫), মোঃ মোতাহার হোসেন (৪৮) ও মোঃ শরিফ হোসেন (৪৫)।
 

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া অফিসার) মোঃ আলেপ উদ্দিন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
 

এর আগে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা চাঁনমারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিশুটি নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
 

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়েটার দিকে  বোরকা পরিহিত অবস্থায় এক ব্যক্তি র‌্যাব-১১ অফিসে এসে এই মর্মে একটি অভিযোগ দেয় যে, তার মেয়ে  মসজিদের ইমামের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।  ধর্ষণের পর ইমামের অনুসারীরা আমার মেয়ে ও আমাকে মেরে ফেলার জন্য হাসপাতালে গিয়ে খুঁজছে।
 

পরে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফতুল্লায় অভিযান চালিয়ে  ইমাম ও তার ৫ সহযোগিকে গ্রেফতার করা হয়।
 

গ্রেফতারকৃত আসামীদের  জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়,  নির্যাতনের শিকার শিশুটির বয়স ৮ বছর সে মাদ্রাসায় ২য় শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। শিশুটি রাতের বেলায় বিভিন্ন প্রকার দুঃস্বপ্ন দেখে কান্নাকাটি করত। বিভিন্ন প্রকার কবিরাজি চিকিৎসা করে ভালো না হওয়ায় ভিকটিমের বাবা জানতে পারে যে, অভিযুক্ত মসজিদের ইমাম মো. ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎঝাড়ফুঁক ও পানিপড়া দেয়।
 

এরই প্রেক্ষিতে ভিকটিমের বাবা ভিকটিমকে এর আগে ২ থেকে ৩ বার ধর্ষক ফজলুর রহমানের কাছে ঝাড়ফুঁক পরিয়ে নেয়। তারপরও তেমন উপকার না হওয়ায় ধর্ষক ফজলুর রহমান ভিকটিমের বাসায় গিয়ে "বাড়ি বন্দি'' নামক চিকিৎসা করে আসে। ঘটনার আগের দিন মাগরিবের সময় ভিকটিমের বাবা ধর্ষক ফজলুর রহমানকে ফোন দিয়ে মেয়ের চিকিৎসার ব্যাপারে আসাতে চাইলে সে পরের দিন ফজরের আযানের সাথে সাথে মসজিদে আসতে বলে।
 

কথা অনুযায়ী পরের দিন সকালে ভিকটিমের বাবা মেয়ে শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে চলে আসে। ফজরের নামাজের পর ধর্ষক শিশুটি তার বাবাকে নিয়ে মসজিদের ৩য় তলায় ইমামের কক্ষে নিয়ে যায়। এরপর হালকা ঝাড়ফুঁক করে পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমের বাবাকে  ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এক প্যাকেট আগরবাতি ও একটি মোমবাতি আনার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দেয়।
 

ওই সময় দোকানপাট খোলা না থাকায় শিশুটির বাবা কোনোভাবেই মোমবাতি ও আগরবাতি কিনতে পারছিলেন না। এর মধ্যে সময় ক্ষেপন করার জন্য ধর্ষক ফজলুর রহমান শিশুটির বাবাকে ফোন করে পান আনতে বলে ও মসজিদের মোয়াজ্জিনকে ফোন করে নিচের গেটে তালা লাগিয়ে দিতে বলে।
 

এর মাঝে  শিশুটির দুই হাত পিছনে বেধে ও মুখে টেপ লাগিয়ে ধর্ষণ করে। প্রমান মুছে ফেলার জন্য মসজিদের ছাদে নিয়ে শিশুটিকে পানি দিয়ে পরিস্কার করে দেয় এবং  শিশুটির গলায় ছুরি ধরে তার বাবা মাকে না বলার হুমকি দেয় এবং বললে জবাই করে ফেলবে বলে হুঁশিয়ার করে।
 

এদিকে শিশুটি অসুস্থ হয়ে গেলে তাড়াহুড়া করে তার বাবাকে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেয়। ধীরে ধীরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া শুরু হয়।  পরে বিষয়টি শিশুটি তার বাবা মাকে খুলে বললে এবং ভূক্তভোগী পরিবারটি শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে এসে বিচার দিলে মসজিদ কমিটির কিছু সংখ্যক লোক ও আশেপাশের অভিযুক্ত ইমামভক্তরা মিলে শিশু ও তার পরিবারকে মারাত্মকভাবে হেনস্থা করে এবং ভূক্তভোগী পরিবারটি যেন থানা বা হাসপাপতালে যেতে না পারে  সে ধরণের পরিস্থিতি তৈরী করে।  
 

শিশুটির অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকলে শিশুটির পরিবার গোপনে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে খবর পেয়ে অভিযুক্ত ফজলুর রহমান ও তার অনুসারীরা শিশুটিকে হত্যা ও অপহরণ করার উদ্দেশ্যে কয়েক দফায় চেষ্টা চালায়। হাসপাতালের অভিযুক্ত ইমামের অনুসারীরা হাসপাতালের এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে শিশুটিকে হাসপাতালে লুকিয়ে রেখে শিশুটির বাবামাকে দীর্ঘসময় ধরে হাসপাতালের টয়লেট ও বেডের নিচে লুকিয়ে থাকতে হয়।
 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া অফিসার) মো.আলেপ উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
 
 

এই বিভাগের আরো খবর