বুধবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

শামীম ওসমানের চোখরাঙানি ফেল!

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৪  

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের টানা তিন বারের নির্বাচিত এমপি একেএম শামীম ওসমানের নির্বাচনি এলাকায় খোলামেলা মাদক বিক্রি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহত্তর ইসদাইর এলাকায় তিনি খুবই জনপ্রিয়। ইসদাইর এলাকাটি অনেক বড়। ইসদাইর, পূর্ব ইসদাইর, উত্তর ইসদাইর, দক্ষিণ ও পশ্চিম ইসদাইর নিয়ে বৃহত্তর ইসদাইর এলাকা। শামীম ওসমানের একটা বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে বৃহত্তর ইসদাইরে।

 

বিশেষ করে পূর্ব ইসদাইর কেন্দ্রে তিনি সবচেয়ে বেশী ভোট পান। এই এলাকার কোন অনুষ্ঠানে ডাক পাওয়া মাত্র তিনি স্বশরীরে হাজির থাকেন। তিনি নিজে যেতে না পারলে তার স্ত্রী লিপি ওসমান তার শূন্যস্থান পূরণ করেন। বৃহত্তর ইসদাইরবাসী শামীম ওসমানের একান্ত অনুগামী ও বিশ্বস্ত। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় নেমে পূর্ব ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকায় অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, এই এলাকায় যদি কোন মাদকব্যবসায়ী কিংবা মাদকসেবী থেকে থাকেন, তবে আল্লাহ্র ওয়াস্তে এগুলো ছেড়ে দিয়ে ভালো হয়ে যান।

 

উঠান বৈঠক শেষে তিনি গাড়িতে ওঠার সময়ও উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে একই কথা উচ্চারণ করে বলেন, ‘মাদকব্যবসায়ীদের পিঠের চামড়া থাকবে না।’ কিন্তু তার জানার কথা নয় যে, ওই জনতার ভিড়ে কিছু মাদকসেবী এবং কারবারিও মুখ লুকিয়ে ছিলো।

 

দীর্ঘদিন থেকেই শামীম ওসমান মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বক্তব্য দয়ে আসছেন। এমন কি টানা তৃতীয়বার সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার কয়েকদিন পরেই নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালেও তিনি মাদকের প্রসঙ্গ টানেন। আলোচনার শূরুতেই তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করজোড়ে বলেন, ‘প্লিজ আমাকে মাদক নির্মূলে সহায়তা করুন।’ প্রেসক্লাবের নেতৃবর্গও তাকে এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহায়তা করার আশ্বাস দেন।

 

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সকলি গরল ভেল! মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদকাসক্তরা এমপি শামীম ওসমানের চোখরাঙ্গানিকে থোড়াই কেয়ার করে।  

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃহত্তর ইসদাইরের বেশ কয়েকটি স্পটে প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। স্পটগুলো হচ্ছে, রেল লাইনের পশ্চিম পাড়ে ইসদাইর বাজার, গাবতলি, কাপুড়িয়া পট্টি, বটতলা এবং রেল লাইনের পূর্ব পাড়ে জোড়া ট্রান্সফরমার এলাকা, বুড়ির দোকান, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা এবং সস্তাপুর এলাকায় মাদক বিক্রি করা হচ্ছে।

 

এদের অনেকেই আবার মাদকসহ পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছে। কিন্তু আইনের ফাঁক গলিয়ে কয়েকদিন পরই জামিনে বের হয়ে ফের এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। এসব মাদক ব্যবসায়ীর বেশীরভাগ নিজেরাও মাদকসেবী। মাদক বিক্রি করতে করতে এরা নিজেদের অজান্তেই মাদকে আশক্ত হয়ে পড়ে। 

 

জেল থেকে ছাড়া পাওয়া কয়েকজন মাদকব্যবসায়ীর সাথে আলাপ করলে জানা যায়, বিনাপূঁজিতে অধিক লাভ হওয়ার কারণেই তারা ঝুঁকি নিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এরা খুব ভালো করেই জানে যে, ধরা পড়লে তাদেরকে জেলে যেতে হবে। আবার তারা এটাও জানে যে, কয়েকদিন পরেই তাদের জামিন হয়ে যাবে। গ্রেফতার খুচরা মাদকব্যবসায়ীদের মহাজনেরা পুলিশকে টাকা দিয়ে দুর্বল চার্জশীট আদায় করে নেয়। ফলে মাদকব্যবসায়ীরা এখন এটাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে।

 

এমপি শামীম ওসমানের মাদকবিরোধী বক্তব্য প্রসঙ্গে ইসদাইরের একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে এমপি সাহেবের জিরো টলারেন্স সময়োপযোগী। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন, নিত্য তদারকি। তিনি যদি এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠন করে মাঝে মাঝে তদারকি করেন, তবে সুফল আসতে পারে। কারণ, মাদকের মহাজনেরা দলের  নাম ভাঙ্গায়, আবার কখনো এমপি সাহেবের নাম ভাঙ্গাতেও কসুর করে না। টাকার কাছে কমবেশী সবাই মাথা নত করতে বাধ্য হয়। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল তখনই সহজ হবে, যখন এটাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়া যাবে।’ এস.এ/জেসি
 

এই বিভাগের আরো খবর