শুক্রবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৮ ১৪২৬   ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪১

শামীম ওসমান : মৃত্যুর পরও আমরা ভাগ হবো না

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, রাজনীতি একটা কৌশল। এই কৌশলে অনেক সময় অনেক ধরনের কৌশল করতে হয়। এবং সেই কৌশলটা ইচ্ছে করেই মাঠ ছাড়তে হয় দেখার জন্য যে, কে কোন স্টাইলে খেলতে চায়। 

 

রোববার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে আদালতপাড়ায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দিপু-পলু প্যানেলের ১৫ প্রার্থীর আত্মসমর্থন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

দিপু-খোকন-চন্দন-বাদল-শামীম এক উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, আমরা এখানে রাজনীতি করতে আসছি। আর আমরা যারা রাজনীতি করতে আসছি ৭৫’র পরে তারা এই উদ্দেশ্য করে আসি নাই যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে। তখন নেত্রীও দেশে ফিরবেন এটাও আমরা জানতাম না। ৭৫’এ আমরা সেভেন-এইটের ছাত্র ছিলাম এবং ৭৯ সনেই আমরা রাজনীতিতের চরম আকার ধারণ করছিলাম। 

 

তখন আমরা কিছু না বুইঝা শুধু এইটুক বুঝতে পারছিলাম; আমাদের সিনিয়র নেতারা তোফায়েল ভাই, রাজ্জাক ভাই বলছিলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পিছনে জিয়াউর রহমানের হাত ছিলো। সেই করণে আমরা ৭৯ সনের শেষ দিকে জিয়াউর রহমানের গাড়িও এই ছয়-সাতজন মিলে আটকে দিয়েছিলাম এবং প্রচণ্ড নির্যাতিত হয়েছিলাম। ৮১ তে আমি তোলারাম কলেজের ভিপি হই তখন জিয়ার ১৯ জন মন্ত্রী তোলারাম কলেজে প্রবেশ করতে পারেনাই। এবং পারেনাই বিধায়, ৮১ সনে ২৫ শে মে তোলারাম কলেজের ভিতরে ঢুকেই গুলি করা হয়। 

 

তিনি উল্লেখ করেন, তখন ৯০০ ছেলে পরীক্ষার হলের মধ্যে। আবু আউয়াল নিহত হয়। বাদলসহ ৮৫জন গ্রেপ্তার হয় এবং শত শত ছেলে গুলিকাহত হয়! ওই জায়গা থেকেই কিন্তু আমরা রাজনীতিটা করতে করতে আসছি। আমরা একটা পরিবার। দিপু, চন্দন, বাদল, খোকন, শামীম এইটার মধ্যে কোন ডিফারেন্স নাই। মানুষের নামগুলির পার্থক্য আছে কিন্তু ভিতরে আত্মার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই এবং আমার বিশ্বাস মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঐ পার্থক্য হবেনা। 

 

শামীম ওসমান বলেন, কিছু জায়গায় কিছু শূন্যস্থান হয়। সেই শূন্যস্থান হইতেই পারে, কারণ আমরা একটা বড় দল। যেমন, পরিবারের মধ্যে তিনটা ভাই থাকলে তিন জনের মধ্যে তিনটা মত থাকতেই পারে। অনেক সময়  দেখা যায় অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন লোক বাদ দিয়েও অযোগ্য লোকটিকেও দিতে হয় কৌশল হিসেবে। নির্বাচন একটা কৌশল আর দল একটা কৌশল। 

 

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় একটা সমস্যা হয়ে গিয়েছিলো তখন আমি দেশের বাইরে ছিলাম এবং আমি আসছিই ১১ তারিখে। তখন অনেক কিছুই অলরেডি কমপ্লিট হয়ে গেছে। এখন যেই বিষয়টা আমি বলতে চাই সেটা হলো, আমি আশা করি আজকে আমার সাথে আমার ভাই এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু যাদের দিয়ে এই বার তিলে তিলে এই জায়গায় আসছে। আমরা মনে করি আদালতপাড়াটা হলো ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার একটা জায়গা। এবং আদালতে যেই কমিটি এরা মানুষকে ন্যায্যতা  দিতে পারে। এবং যারা রাজনীতি করে তাদের এই জায়গাটাতে থাকা দরকার। আমরা তা কোন সময় পারছি কোন সময় পারি নাই। কোন সময় হারছি তো কোন সময় জিতছি। কিন্তু গত কয়েট টার্ম ধরে আমরা আল্লাহর রহমতে জিতে আসছি। আজকে সকলের অক্লান্ত চেষ্টার ফলে এতবড় বার ভবন হতে যাচ্ছে এবং এটার জন্য অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার জনাব সেলিম ওসমান সাহেব।

 

শামীম ওসমান আরও বলেন, আমাদের পলু আছেন, আনোয়ার আছেন। এই আনোয়ার আজকের না আমি যখন শুরু করি তখন থেকেই এই আনোয়ার পিছে পিছে দৌঁড়ায়ে শ্লোগান দিতো ওদের পুরো বংশ আমাদের হয়ে কাজ করেছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সবাই মিলে এবং ঢাকা থেকেও ফোন করেছিলো। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঠিকাছে এবারে..। হ্যাঁ কিছু পরিবর্তন হয়তো করতে পারতাম কিন্তু সময় খুব অল্প। এখন পরিবর্তন করতে গেলে আমাদের বিপক্ষ শিবির হয়তো সে জায়গাটাতে সুযোগ নিতেও পারে।

 

তিনি বলেন, দিপুর সাথে আমার অনেকবার কথা হয়েছে। যেভাবে দিপু আমাকে গাইডেন্সটা দিয়েছে যে শামীম ভাই এভাবে করেন এবং আপনি জলদি আসেন। আপনারা জানেন প্রচণ্ড শোকাহত আমরা। আমরা একটা পরিবারের মতো আমৃত্যু এক সাথে থাকবো। এই পরিবারের সাথে ভাঙন দেয়ার জন্য অনেকে অনেকভাবে খেলার চেষ্টা করছে। টাকা, পয়সা কালো টাকা, বাজে টাকা, বন্দুক, হত্যা, বোমা হামলা, বহুকিছু দিয়ে চেষ্টা করছে। আল্টিমেটলি হয়তো কিছুতে আসর পরছে কিন্তু এই পরিবার কেউ ভাঙতে পারেনাই এবং আগামীতেও এই পরিবার কেউ ভাঙতে পারবেনা। এইবার এই বারের নিরঙ্কুস বিজয়ের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করবো যে, আমরা নারায়ণগঞ্জে যারা আওয়ামী লীগ করি..।

 

শামীম ওসমান বলেন, দিপুসহ যারা এখানে আছেন যারা রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনা থেকেই সেক্রিফাইস করলেন এদের কথায় আজকে আমি এখানে আসছি নয়তো সংসদে আমার বক্তব্য ছিলো। খোকন সাহা একটি ভালো রোল প্লে করেছে, বাদল একটি ভালো রোল প্লে করেছে। আর এই রোল প্লে করার মধ্যে দিয়ে একটা বিষয় আমরা উপলদ্ধি করেছি যে, আমাদের এই পরিবারকে এক থাকতে হবে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে নয় জনস্বার্থে। আমরা রাজনীতি করতে আসছি কিন্তু কোন চাওয়া পাওয়ার জন্য না। আমরা রাজনীতি করতে আসছি নারায়ণগঞ্জের মানুষকে কিছু দেওয়ার জন্য। সেই সেক্টরটা শুধু বারে হবেনা সব জায়গাতেই তৈরি হবে। 

 

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি আজকে এখানে যারা আইনজীবী আছেন দিপু এবং পলুর কাছে..। যোগ্যতার দিক থেকে যদি দিপুর সাথে তুলনা করা হয় তাহলে আমার সাথে তুলনা করা হলো। কারণ আমরা পরিবার। আমাদের উপর দিয়ে কেউ যদি মনে করে আওয়ামী লীগে দরদ দেখাবে সেটা সঠিক না। কিন্তু শিক্ষনীয় হচ্ছে জুনিয়রদের কাছে যে,এটাই হচ্ছে দলের জন্য সেক্রিফাইস।এই সেক্রিফাইসকে এবং এই সেক্রিফাইসের কৌশলটাকে, নির্বাচনে জয়ের জন্য কিছু কৌশল লাগে মাঝে মাঝে দেখেননা ফুটবল খেলার সময় সব আগায় যায় কেন? বল নিয়া ঢুইকা যায়া দেখে অফ সাইড। তো বিএনপি অফ সাইড হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।

 

শামীম ওসমান বলেন, কেউ যদি মনে করে আমার সাথে কথা কইয়া, খোকন সাহার সাথে কথা কইয়া, দিপুর সাথে কথা কইয়া ভাগ কইরা ফেলবে? ভাগ হবেনা। ওই ভাগ হবে আমাদের মৃত্যুরও পরে যখন আমাদের সাথে কারো দেখা হবেনা তখন। তার পরেও হবেনা। কবরস্থানে গিয়েও আমরা আমাদের সাথে কথা বলবো সেইটুক কমিটেড আমরা। কিছু কিছু পত্রিকা আমরা দেখলাম নারায়ণগঞ্জে খুব উৎসাহিত আরে বাবারে বাবা। মনে হলো কি খুশির খুশি! আসলে জামাতের পয়সায় চলেতো তাই অনেক খুশি। আবার কিছু কিছু পত্রিকা আছে ভালো। দুই একটা পত্রিকা অনেক খুশি যে, আচ্ছা এদের ভাগ হইসে। এই আশা কইরেন না। আমরা ক্ষমতায় থাকলেও ভাগ হবেনা আমরা ক্ষমতায় না থাকলেও ভাগ হবেনা।  

 

এর আগে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড.খোকন সাহা বলেন, নিজেদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমাদেও এখানে দু’টি প্যানেল হয়েছে। কিন্তু আমাদের নেতার নেতৃত্বে এখন আমরা একটি প্যানেলকেই.. করেছি। এবং আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি আগামীতে আমরা তাঁদের মূল্যায়ন করবো।

 

এসময় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এড.আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল (ভিপি বাদল), পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মাসুদুর রউফ, সদস্য শামসুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ দীপু-পলু পরিষদ প্যানেল ও মোহসীন-মাহবুব প্যানেলের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।  

এই বিভাগের আরো খবর