মঙ্গলবার   ২৩ এপ্রিল ২০২৪   বৈশাখ ১০ ১৪৩১

শামীম ওসমানকে ছাপিয়ে দুই ধাপ উপরে আইভী

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২২  

 

# প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে মেয়রকে

 

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের দুই জনপ্রতিধিকে সারাদেশে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে এক নামে চিনে। শহরের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সচেতন মহল এই দুই ব্যক্তিকে উত্তর-দক্ষিন বলয় হিসেবে তাদের চিনেন। উত্তর বলয় হিসেবে পরিচিত চার বারের এমপি শামীম ওসমান অনুসারীরা। তার বিপরীতে দক্ষিণ বলয় হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। 

 

তবে তাদের মাঝে বিভিন্ন মত পার্থক্য থাকলেও তারা একই দলের রাজনীতি করেন। সেই সাথে এমপি শামীম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জের নগর মাতা আইভী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির অনুসারী। তারা বিভিন্ন সভা সমাবেশেও এই কথা বলে থাকেন। কিন্তু জেলার প্রভাবশালী এই দুই ব্যক্তির পাওয়া না পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেন রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল। 

 

একইসাথে দলের রাজনীতিতে কে এগিয়ে আছে তা নিয়েও দলীয় নেতা থেকে শুরু করে অন্যান্য দলে ব্যপক আলোচনা হয়। রাজনীতিতে মেয়র আইভীর আগে থেকে সক্রিয় সাংসদ শামীম ওসমান। তবে আইভী তার থেকে কোন ভাবে পিছিয়ে নেই। সচেতন মহলের মতে এখন সাংসদ শামীম ওসমানকে ছাপিয়ে দুই ধাপ উপরে মেয়র আইভী।

 

এদিকে দলীয় সূত্রে জানা যায়, এমপি শামীম ওসমান এবং মেয়র আইভী পূর্বে থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে পৈতৃক ভাবে পরিচিত। শামীম ওসমানের পিতা সামসুজ্জোহা এম.পি ছিলেন। অন্য দিকে মেয়র আইভীর পিতা আলী আহম্মদ চুনকা পৌর মেয়র ছিলেন। আশির দশকে ক্ষমতাসীন দলের হয়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন শামীম ওসমান। নব্বই দশকে শামীম ওসমান যখন এমপি নির্বাচিত হন তখন তাকে মন্ত্রীত্ব দিতে চাইছে কিন্তু তিনি তা নেন নাই। যা বিভিন্ন সভা সমাবেশের বক্তৃতায় তিনি বলে থাকেন।

 

কিন্তু তিনি এমপি ছাড়া এখনো সেই মন্ত্রীত্ব আর পাননি। শামীম ওসমান ৯৬’র নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনীত হয়ে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ এর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের কাছে পরাজিত হয়ে দেশ ছেড়ে চলে যান। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হওয়ার পর ২০১১ সিটি নির্বাচনে মেয়র আইভীর সাথে শামীম ওসমানের ভরাডুবি হয়। পরে ২০১৪’র জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন।

 

অপর দিকে, ২০০৩ সনে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পৌর মেয়র নির্বাচিত হন আইভী। এর পরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মেয়র আইভীকে। নারায়ণগঞ্জ যখন সিটি করপোরেশন ঘোষণা হলো তখন প্রথম নাসিক নির্বাচনে প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানকে পরাজিত করে ২০১১ সনে দেশের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। 

 

২০১৬ সনে বিএনপির প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে দ্বিতীয় বারের মত পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত তিনি। সর্বশেষ তৃতীয় বারের মেয়র নির্বাচতিন ২০২২ সনের ১৬ জানুয়ারি। প্রথমবার মেয়র হয়ে আইভী উপমন্ত্রী পদে মর্যাদা পান। সোমবার (৮ আগষ্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মেয়র আইভীকে উপমন্ত্রী থেকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা অনুমোদন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক আল মামুন মোর্শেদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। 

 

তাই নারায়নগঞ্জের সচেতন মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বোদ্ধামহল বলাবলি করছে এবার শামীম ওসমানকে ছাপিয়ে  দুই ধাপ উপরে উঠলেন মেয়র আইভী। শামীম ওসমান এখনো মন্ত্রীত্ব পান নাই, এমনকি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও তার ঠাঁই হয় নাই। তাই সব কিছু মিলিয়ে মেয়র আইভী শামীম ওসমানের থেকে এগিয়ে আছেন বলেই বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন। এন.এইচ/জেসি

 

 

এই বিভাগের আরো খবর