মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২৪ ১৪২৬   ১৩ শা'বান ১৪৪১

শহরে সচেতনতার পাশাপাশি চলছে উপেক্ষা

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশের গার্মেন্টস ও ডায়িং শিল্পে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পমালিক জানিয়েছেন, প্রস্তুতরত অবস্থায় বেশ কিছু অর্ডার বাতিল হয়েছে এবং নতুন কোন অর্ডার নেই। আগামী দিনগুলোতে যে সহসা আসবে, তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। এ দুটি খাতে এখন চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।পরিবহন খাতে ধ্বস নেমেছে। বাস চলছে কিন্তু যাত্রী নেই। দামি রেস্তোরাঁগুলো লোকসান গুনছে। ফুটপাতে হকারের রমরমা ব্যবসায়ও ভাটা লেগেছে। 


এসব কিছুর একমাত্র কারণ দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারী কোভিন-১৯। করুণ অবস্থা চলছে ইউরোপের ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানীতে। মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালি এখন চীনকে ছাড়িয়ে প্রথম স্থানে। এ রোগে বৃদ্ধরা বেশি মারা গেলেও বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান তরুণদেরও সাবধান করেছেন, ‘এ রোগের কাছে তারাও অজেয় নয় এবং তারাই পারে ঘরে থেকে অন্যদের সংক্রমন থেকে বাঁচাতে।’ ইতালির উত্তরের শহরগুলোর অবস্থা দেখে চীন থেকে যাওয়া এক করোনা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে অজ্ঞতার চেয়ে উপেক্ষা ভয়ঙ্কর’।

 

এদিকে, দেশে ‘সাট ডাউন’ ‘লকড্ ডাউন’ শুরু হয়েছে। কোন এলাকাকে অবরুদ্ধ করার এ দুটি বিদেশী শব্দ ইতিমধ্যে বাংলা হতে শুরু করেছে। একদিন আগে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারাও ঢাকা শহরে লকড্ ডাউন করার কথা বলেছেন। ঢাকা দক্ষিণ মেয়রের বাসায় একদিন আগে এ আলাপ হয়েছে। 

 

করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে নারায়ণগঞ্জে নানা উপকরণ ও সামগ্রী নিয়ে এগিয়ে এসেছে ছাত্র সংগঠন, কয়েকজন এনসিসি কাউন্সিলর এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। তারা মাস্ক, সেনিটাইজার, টিস্যু পেপার এবং মাস্ক ও সেনিটাইজার বানানোর প্রযুক্তি বিতরণ করছে। সামাজিক উদ্যোগে মসজিদগুলোর সামনে ও বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শহরে চলাচলকারীদের মধ্যে এখন মাস্ক পরিহিতের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি।

 

তবে, এদের মাঝেও অবহেলা বা উপেক্ষা রয়েছে। দেখা যায় পথে হাঁটছে, অথচ মাস্কটি এক কানের সঙ্গে ঝুলছে বা থুত্নীর নীচে নামানো। রাস্তাঘাটে থু থু ফেলা, ল্যাম্পপোস্টে সিন্কি মোছা, আবার সেখানেই চুন মোছা ইত্যাদিও চলছে সমানে। বোস কেবিনের মতো অভিজাত রোস্তোরাঁয়ও চলছে দু’জনে ভাগাভাগি করে এক কাপ চায়ের পর ভাগাভাগি করে সিগারেট পান। এ শহরে বেশির ভাগ লোকের মাঝেই রয়েছে, ‘আল্লাই ভাল রাখবেন’ বলে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা।

 

এদিকে, সমাবেশ বন্ধ রাখতে চায়াঢ়া শহীদ মিনার এবং রাসেল পার্ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শহরে বন্ধ হয়ে গেছে ওয়াজ মাহফিল, ওরস, সিনেমা ও মেলা। প্রশাসন থেকে সমাবেশ করার ব্যপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে, এ নির্দেশটিকে পুঁজি করেই পুলিশের পকেটপূর্তির অভিযোগ রয়েছে। গত শনিবার শহীদনগরে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হয় এবং হম্বিতম্বি শেষে নগদ নারায়ণ পেয়ে ‘এক ঘন্টার মধ্যে সব শেষ করেন’ বলে চলে আসে। 

এই বিভাগের আরো খবর