শুক্রবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৬   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১

লিংক রোডে লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তির নেপথ্যে এবিসি স্কুল  

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ যাতায়াতের একমাত্র ব্যস্ততম সড়ক হচ্ছে লিংক রোড। এই রোডটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে দ্রুত যাতায়াতের একমাত্র পথ বিধায় সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। সেই সাথে চলে হাজার হাজার যানবাহন। তবে এই সড়কটিতে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। আর এ যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কায়েমপুর সংলগ্ন এবিসি স্কুলের সামনের অবৈধ গাড়ির পার্কিং। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্কুলের শিক্ষার্থীদের গাড়ি স্কুলের সামনে জড়ো হয়। অবৈধ পার্কিং এ দীর্ঘ সময়ের যানজট সৃষ্টি হয়।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এবিসি স্কুলে নেই কোন পার্কিং ব্যবস্থা। ফলে শিক্ষার্থীর গাড়ি সড়কে যততত্র পার্কিং করে রাখা হয়েছে। সড়কে অতিরিক্ত গাড়ি পার্কিং থাকায় সড়ক সরু হয়ে দীর্ঘ যানযটের সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলের সামনে থেকে গাড়ি গুলো কায়েমপুর বটতলা পার্ক করে রাখা হয়েছে। যানজটের কারণে সড়কের এই অংশটি অতিক্রম করতে মাঝেমধ্যে আধা ঘন্টার বেশী সময় লেগে যায়। যেখানে সময় লাগত মাত্র দুই  মিনিট। অন্যদিকে এ সমস্যার সমাধানে স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে নেই কোন উদ্যোগ। স্কুল কর্তৃপক্ষ নিয়মনীতি না মেনেই গাড়ি পার্কের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অনিয়মের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছে সড়কে যাতায়াতকারী লক্ষাধিক মানুষ।  ভুক্তভোগীরা বহুদিন যাবৎ ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কোন সমাধান হচ্ছে না।

 

যানজটে পড়ে থাকা একজন যাত্রী দৈনিক যুগের চিন্তা ২৪ কে জানান,  প্রতিদিন এই সড়কের যানজট নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতো আইন থাকার পরেও আইনের তোয়াক্কা না করেই হরহামেশাই তারা সড়কে অবৈধ ভাবে গাড়ি পার্কিং করছেন। প্রতিদিন ব্যবসায়ের কাজের উদ্দেশ্যে সকালে ঢাকা যেতে হয়। যখনই যাই তখনই যানজটে পড়তে হয়। যাত্রীদের ভোগান্তিদের কথা ভেবে এই সমস্যা সমাধানে জরুরী প্রদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

 

সস্তাপুর এলাকার এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী শাহীন বলেন, এবিসি স্কুলের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই এই রাস্তায় যানজট বাড়ছে। আর এর কারণ হলো এবিসি স্কুলের সামনে গাড়ি পার্কিং। রাস্তার উপর অবৈধ ভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের কারনে প্রায় সময় যানজটে পড়ে যাই। কাজে সময়মত পৌঁছাতে পারি না। কাজে যেতে দেরি হয়। এ যানজট নিরসনে স্কুল কর্তৃপক্ষের সচেতন হওয়ার দরকার আছে।  

 

মানিক মিয়া নামে আরো এক ব্যক্তি বলেন, যানজট নিরসনে সরকার বিভিন্ন প্রদক্ষেপ নিলেও সকলের অসচেতনার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। তাই সকলের ট্রাফিক আইন মেনে চলা উচিত। 

 

যানজট সমস্যা নিরসনের বিষয় নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। এসময় যানজট সমস্যা নিরসনের লক্ষে ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে এবিসি স্কুলের সামনের অবৈধ পার্কিং এর বিষয়টি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও এ সমস্যার কোন সুরাহা হয়নি। তাই প্রতিদিনের যানজটের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে জনসাধারণ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। 

এই বিভাগের আরো খবর