বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২৬ ১৪২৬   ১৫ শা'বান ১৪৪১

রূপগঞ্জে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ :  আহত ৬

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

রূপগঞ্জ (যুগের চিন্তা ২৪) : রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সময় স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। উভয় পক্ষের সশস্ত্র মহড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 


এসময় এক পক্ষ আরেক পক্ষের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বর্তমানে উভয় পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজকরছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে উপজেলার ভুলতা এলাকায় এঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দু’পক্ষের প্রায় ৬ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ মিয়া তার পারিবারিক অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ভূইয়ার মাসুমের মুড়া পাড়ার বাড়িতে যায়। সন্ধ্যায় আব্দুল আজিজ মিয়াকে নিয়ে শেখ ফরিদ মাসুম একটি প্রাইভেট কারে করে ভুলতা এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। 

এসময় প্রাইভেট কারের সামনে তাদের একটি মোটর সাইকেল ছিল। ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হামজালার পক্ষের লোকজন সামনে থাকা মোটর সাইকেলটি গতিরোধ করে। এসময় মোটর সাইকেল আরোহী বিপ্লব হাসানকে মারধর শুরু করে হামজালার লোকজন। পরে শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুম তার সহযোগী বিপ্লবহাসানকে মারপিট থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। 

এসময় মাসুমের সঙ্গে হামজালা লোকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ পরেই হামজালার লোকজন ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভুলতা থেকে নাহাটি এলাকায় একটি অস্ত্রের মহড়া দেয়। এরপর শেখ ফরিদ ভূইয়া মাসুম ও রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম সিকদারের লোকজন ও একত্রিত হয়ে পাল্টা মহড়া দেয়। 

এক পর্যায়ে ফয়সাল শিকদারের লোকজন হামজালার দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া একটি মুদি দোকানসহ বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এক পর্যায়ে ভুলতা ফাড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়। 


পুলিশ চলে যাওয়ার পর কিছুক্ষন পরই হামজালাসহ তার এক থেকে দেড় শতাধিক লোক রামদা চাপাতি চাইনিজ কুড়ালসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভুলতা রনাহাটি এলাকায় অবস্থিত রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিকদার এর অফিস ভাঙচুর করে। এসময় হামলাকারীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক এবং গোলাম মর্তুজা পাপ্পার ছবি ভাংচুর করেন বলে দাবি করেন শেখ ফরিদ ভুইয়া মাসুম। 

এছাড়াও নাহাটি এলাকার বেশ কয়েকটি দোকান পাট ভাঙচুর করে তারা। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সশস্ত্র অবস্থায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। 


এতে করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পরে ফের পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ’গ’ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহিন ফরাজী ও রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সূত্র আরো জানায়, এলাকার বিভিন্ন কাজ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে দীঘর্ দিন ধরে বিরোধ চলেআস ছিল। এ বিরোধের জের ধরে ঘটনা সূত্রপাত হতে পারে।

এ ঘটনার ব্যাপারে শেখ ফরিদ ভুইয়া মাসুম বলেন, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা ছাত্রলীগের কেউ নয়। বহিরাগত লোকজন দিয়ে আমার ও কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। যারা হামলা চালিয়েছে তারা চুরি ছিনতাইসহ অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

অপর পক্ষের ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হামজালার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

’গ’ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহিন ফরাজী বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ভুইয়া মাসুম ও হামজালার দুই গ্রুপের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

 এসময় দুপক্ষই একে অপরের অফিসে হামলা ভাংচুর চালিয়েছে দাবি করে তারা। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এই বিভাগের আরো খবর