সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ১ ১৪২৬   ১৬ মুহররম ১৪৪১

রাখালরাজার কবরে লক্ষ চোখের পানি

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০১৯  

“ ইকরি মিকরি চামচিকরি / কাতুর কুতুর ছা,
 টুঙ্গিপাড়া শেখেরবাড়ি / উইড়া সেথায় যা ।
সেইখানেতে রাখালরাজার / ছোট্ট কবর খানি 
সকাল বিকাল ঝরায় কেবল/ লক্ষ চোখের পানি।”


১৫ আগস্ট এলেই মনে পড়ে যায় প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক খালেক-বিন-জয়েনউদ্দিন এর লেখা প্রাণস্পর্শী এই ছড়াটির কথা। অত্যন্ত আবেগ দিয়ে লেখা ছড়ার প্রথম চারটি লাইন পড়লেই বাংলার রাখালরাজা বঙ্গবন্ধুর ছবিটি চোখের সামনে ভেসে আসে। মনে পড়ে যায় কলঙ্কময় দিনটির কথা।


সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদত বার্ষিকী ছিলো গত বৃহস্পতিবার। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধাভরে দিনটি পালন করেছে। সরকারি এবং সেরকারিভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিলো দিবসটি ঘিরে। 


১৯৭৫ সালের এদিন ভোররাতে শরতের ঊষালগ্নে বাংলাদেশেরই কতিপয় লোভী, বিশ্বাসঘাতক, বিপথগামি সেনা সদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবনে বাংলার রাখালরাজা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরদিন ১৬ আগস্ট মৃত্যুঞ্জয়ী এই মহাপুরুষের মরদেহ তাঁর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় হেলিকপ্টারযোগে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তড়িঘড়ি মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে সামরিক তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়।


রাজনৈতিক হত্যার শিকার হয়েছেন পৃথিবীর অনেক নেতাই, কিন্তু কাউকেই বঙ্গবন্ধুর মতো সপরিবারে হত্যা করা হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে করুণ ও বেদনাময় ১৫ আগস্টের রাতে বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেলসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের ২২ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নির্বংশ করে দেয়াই ছিলো ঘাতকদের উদ্দেশ্য। 


কিন্তু রাখে আল্লাহ্ মারে কে ? বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বিশ্বের সবচেয়ে নিষ্ঠুর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে কাজটি করতে সাহস পায়নি সেই জঘন্য কাজটিই করেছে কিছু কুলাঙ্গার বাঙালি।


বাংলার মাটি গভীরভাবে ভালোবাসতেন বঙ্গবন্ধু। বাংলার মানুষের প্রতিও ছিলো অগাধ বিশ্বাস। আর এই বিশ্বাসই কাল হয়ে দেখা দেয় তাঁর জীবনে। বাঙালির হাতেই তাঁকে জীবন দিতে হবে , এমন চিন্তা বঙ্গবন্ধুর মাথায় আসেনি কখনো। আর সে কারণেই তিনি ঘনিষ্ঠজন এবং গোয়েন্দা সংস্থার অনুরোধ না মেনে ধানমন্ডির অরক্ষিত নিজ বাসভূমে বাস করতেন। রাষ্ট্রপতি হয়েও বঙ্গবন্ধু সবদিক দিয়ে সুরক্ষিত সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে থাকেননি।

  
ইউসুফ আলী এটম
লেখক : বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ছড়াকার