বুধবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

যত্রতত্র ডাইংয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট ইসদাইরের জনপদ

সাইমুন ইসলাম

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৩  


# লোকনাথ আরা ডাইং, সোনালি ওয়াশিং,এস এ ফাইবার টেক্স, মজুমদার ওয়াশিং, রুবেল ডাইংয়ে অভিশপ্ত গোটা এলাকা
 
 

ফতুল্লা থানাধীন ইসদাইর বাজার রেললাইন ঘেঁষে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ডাইং কারখানা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠা এসব প্রতিষ্ঠানের কবলে পড়ে ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের কালো ধোঁয়ার কারণে বাড়ছে শ্বাসনালীর সমস্যাসহ নানা স্বাস্থঝুঁকি অন্যদিকে এসব ডাইং এর পানির কারণে শুষ্ক মৌসুমেও হচ্ছে জলাবদ্ধতা।

 

 

সামনে বর্ষা মৌসুমে এসব অবৈধ ডাইং এর ক্যামিকেল মিশ্রিত পানির ফলে সবাই পড়বে ব্যাপক ভোগান্তিতে। রেললাইনের পাশে গড়ে উঠা ডাইংগুলো পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় কয়েকটা ডাইং এর  ইটিপি ব্যবস্থা থাকলেও তা যৎসামান্য। তবে বেশিরভাগেরই নেই কোনো ইটিপি। তারা কাঠ পুড়িয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যা একেবারেই নিয়ম বহির্ভূত।

 

 

এতে করে কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় পুরো এলাকা। শুধু তাই নয় এসব ডাইং এর কেমিক্যাল মিশ্রিত বিষাক্ত পানি ড্রেনের মধ্যো দিয়ে খাল হয়ে নদিতে পৌঁছায়। যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এসব ডাইং এর বিষাক্ত পানি রাস্তায় জমে থাকে দিনের পর দিন। এসব পানির সংস্পর্শে আসলে পা ঘা হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন চর্ম রোগে আক্রান্ত হতে হয়। 

 

 

এসব ডাইং এর ফলে এ জনপদ অভিশপ্ত হয়ে আছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্যমতে, এসব ডাইং গুলোর কারণে দিনের পর দিন কাশি, শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন জটিলতায় পড়তে হয়। ডাইং মালিকরা ব্যবসা করে এই এলাকাতেই বাড়ি করেছে কয়েকটা অথচ তাদের এসব প্রতিষ্ঠান এর ফলে এ জনপদের মানুষের অসুবিধা হচ্ছে সেটা তারা এড়িয়ে যাচ্ছে।

 

 

এসব ভাবার যেনো কেউ নেই। এ নিয়ে লোকনাথ আরা ডাইং এর সাথে কথা বললে তারা জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে তবে গ্যাস এর পরিবর্তে তারা কাঠ পুড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে নেন। 

 

 

মজুমদার ওয়াশিং এর মালিক জাহিদ জানান ,তাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ইটিপি নেই। তবে এ ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। তবে জলাবব্ধতার সমস্যাগুলো মেম্বার চেয়ারম্যানরা দেখবেন বলে তিনি জানান। কোনো ডাইং আবাসিক এলাকায় দিনের পর দিন নিয়মনীতি না মেনে এভাবে পরিচালিত হচ্ছে এর জন্য অনেকেই পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। 

 

 

এক ডাইং মালিক আক্ষেপ করে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের তৎপরতায় আমার ডাইং বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি কয়েক বছর আগে। তবে এখন এক সাথে এতগুলো ডাইং চলে এলাকা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিন্তু নিরব ভূমিকায় পরিবেশ অধিদপ্তর। 

 

 

অন্যদিকে রুবেল ডাইং এর মালিক রুবেল জানান, ইটিপি নেই তবে ইটিপি চালু করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরোও জানান, তাদের ডাইং এর পানিগুলো একটি পুকুরে যাচ্ছে। 

 

 

ইটিপি ছাড়া কোনো ডাইং চলছে এবং সেই  পানি সরাসরি পুকুরে যাচ্ছে। আসছে বর্ষায় সেই পানি বৃষ্টির পানির সাথে মিশে পরিবেশের ও মানব স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এ ব্যাপারে ফতুল্লা ৬ নং ওয়ার্ডের  মেম্বার মো. আব্দুল আউয়াল জানান, এসব ডাইংগুলো আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে।

 

 

এর জন্য এলাকার বাসিন্দারা তো বটেই, তিনি নিজেও বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতার জন্য এ ডাইং গুলো অনেকাংশে দায়ী। এ ডাইংগুলোর জন্য শুষ্ক মৌসুমেও জলাবদ্ধতা হচ্ছে। এসব পানির সংস্পর্শে যারা আসছে তারা চর্ম রোগের শিকার হচ্ছে। তিনি আরোও জানান, এ ব্যাপারে তিনি আগামি শনিবার ইসদাইর বাজারে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করবেন। 

 

 

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন যুগের জানান, ‘ইটিপিবিহীন এবং নিয়মনীতি অমান্য করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

 

 

তবে ইসদাইর বাসির প্রাণের দাবি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন প্রতিষ্ঠান অবিলম্বে বন্ধ করে বিশেষ করে বর্ষার আগে বন্ধ করে ইসদাইরবাসীকে প্রাণ খুলে নিশ্বাস নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। তাদের এমন অভিশপ্ত অবস্থা থেকে মুক্ত করা হোক।  এন.হুসেইন/জেসি

এই বিভাগের আরো খবর