সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ১ ১৪২৬   ১৬ মুহররম ১৪৪১

মোজাফফর আহমদের অনুপুস্থিতি রাজনীতিতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ‘অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এর রাজনৈতিক আদর্শ আমাদের চর্চা করতে হবে। আজকে মোজাফফর আহমদ এর আদর্শকে সামগ্রিকভাবে শুধু সমাজ নয়, রাজনীতি নয়, আমাদের সংস্কৃতিতে সেটা ফিরিয়ে আনতে হবে।

 

তার মতো আদর্শিক রাজনীতিবিদ আমাদের  দেশের জন্য বড় প্রয়োজন। তার এই চলে যাওয়া আমাদের রাজনীতিতে বড় ধরণের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। মোজাফফর আহমদ এর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি আজ বিভক্ত। আমরা দ্রুত ঐক্যবদ্ধ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি দেখতে চাই।’


শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের নগরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ নাগরিক স্মরণ পরিষদের উদ্যোগে ‘অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ নাগরিক স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।  


পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা রাষ্ট্রের স্থপতি। কিন্তু মোজাফফর, মনি সিংহ, জাতীয় চার নেতা এরা রাষ্ট্রের কারিগর। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এই রাষ্ট্রটা নির্মাণ করেছেন।

 

এই কথা অনেকেই বলতে পারবেন না। ৮০ বছরে বয়স পূর্ণ হয়ে আমার শখ, আহ্লাদ ও আনন্দের কিছু নেই। আছে শুধু একটি কর্তব্য পালন। এই অগণিত সমাজ বিপ্লবের গণমানুষমুখী মানুষকে কর্মী সমর্থক যারা যেখানে বিভক্ত হয়ে আছেন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করাই আমার অন্তিম কর্তব্য।

 

মৃত্যুর আগে আমি যাতে এটা করে যেতে পারি। মোজাফফর আহমদ ১৫ বছর বয়সে রাজনীতি শুরু করেছেন। তিনি যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নির্মাতা মাওলানা ভাষানী ও সোর্হওয়াদী। তিনি যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী আশরাফ উদ্দিনকে একবাওে গো হারা হারিয়েছিলেন। তিনি পার্লামেন্টে স্বায়ত্তশাসনের কথা তুলে ছিলেন।

 

৫৮ সালে সামরিক শাসনের অন্ধকার দিনগুলোতে তিনি ৮ বছর অজ্ঞাত বাস। আত্মগোপন করেছিলেন। কঠিন জীবন পার করেছিলেন। মানুষের লড়াই সংগ্রামের নেপথ্যে পাশে থেকে মদদ দিয়েছেন। সেই মানুষটি পাকিস্তানের সকল গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল আন্দোলনের অন্যতম বাতিঘর ছিলেন। সমস্ত পাকিস্তানব্যাপী ন্যাপের জন্ম।

 

সেখানে তার অবদান। এমনকি যেই স্বায়ত্তশাসনের জন্য আওয়ামী লীগের জন্ম, সেই স্বায়ত্তশাসন যখন আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে সেই পতাকাটা হাতে নিয়ে সংসদে স্বায়ত্ত শাসনের দাবি যেমন তুলেছেন। তিনি বলেন, বামগণতান্ত্রিক ঐক্য সমাজতান্ত্রিক ঐক্য এক হওয়ার কারণেই আমাদের ৯ মাসে মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন হয়েছিল।

 

যেখানে ভিয়েতনামের মতো দেশ স্বাধীন হতে ২০/২৫ বছর লেগেছে। তিনি সকল সমাজতান্ত্রিক শক্তিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এক করার জন্য কাজ করেছিলেন। যার ফলে আমরা ৯ মাসে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। তিনি বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে আনার সেই লক্ষ্যে ঐক্য দরকার। ২৩ পরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি।

 

কিন্তু  আজকে ৪ লাখ পরিবারের কাছে বাংলাদেশের ৯৯ ভাগ মানুষের সম্পদ যাবে-এটা মেনে নিতে পারি না। এজন লড়াই দরকার সংগ্রাম দরকার। দেশে জাতীয় শুণ্যতা, বিরোধী দলের শুন্যতা, সরকারী দলের শূণ্যতা, বিকল্পের শূণ্যতা প্রকট। এই বিকল্প শূন্যতা পূরণের জন্যই দ্রুত ঐক্যের প্রয়োজন।  


মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, আজকে মোজাফফর আহমদ এর আদর্শকে সামগ্রিকভাবে শুধু সমাজ নয়, রাজনীতি নয়, আমাদের সংস্কৃতিতে সেটা ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, মোজাফফর আহমদ এর রাজনৈতিক আদর্শ আমাদের চর্চা করতে হবে। আজকে মোজাফফর আহমদ এর ন্যাপ বিভক্ত।

 

তার ন্যাপ থেকে কিছু গণতান্ত্রিক পার্টিতে গেছেন, গণফোরামে গেছেন, আওয়ামী লীগে গেছেন, দুই একজন বিএনপিতেও গেছেন। তার পর ঐক্য ন্যাপের সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তার সেই ন্যাপকে ঐক্যবদ্ধ করা।

 

আমি অনুরোধ করি, বাংলাদেশের মনি সিংহ, ফরহাদ, মোজাফফর আহমদ তাদের পরিবারের সকল সদস্যের একান্ত কামনা তারা চায় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির একটি ঐক্যবদ্ধ পার্টি। যেই পার্টি আওয়ামী লীগকে রিপ্লেস করে বাংলাদেশকে সঠিক ধারায় অগ্রসর করবে। এই ঐক্যবদ্ধতা যেন খুব দ্রুত হয়, এই বছরের মধ্যেই হয়।

 

স্মরণ সভার আহবায়ক এবি সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব আওলাদ হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান, ন্যাপের  প্রেসিডিয়াম সদস্য এনামুল হক, আব্দুর রহমান, কৃষক সমিতির সভাপতি এস এ সবুজ, ন্যাপের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পরিতোষ দেবনাথ, ন্যাপ জেলা কমিটির সভাপতি এম এ ওহাব, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রহমান, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাবেক সভাপতি হালিম আজাদ, খেলাঘর আসর জেলা কমিটির সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মন্টু ঘোষ, সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, ওয়ার্কাস পার্টির  জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমুখ।


শহীদ মিনারে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এর অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 
 

এই বিভাগের আরো খবর