বৃহস্পতিবার   ২৮ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭   ০৫ শাওয়াল ১৪৪১

মৃত্যু নিয়ে করোনা আতঙ্ক ! ভাতিজার মৃত্যুর পর, চাচাও অসুস্থ!

প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : গত বৃহস্পতিবার শহরের পালপাড়া এলাকার স্থানীয় এক যুবক জ্বর, ঠান্ডা এবং কাশিতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যায়। এমন সংবাদে পুরো এলাকা জুড়েই করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

 

তবে এ ঘটনার পর একই বাড়ির বাসিন্দা মৃত ঐ যুবকের চাচা জ্বরে আক্রান্ত হলে এলাকাবাসীর মাঝে এই আঙ্কের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। তাই পুরো এলাকাটি অঘোষিত লকডাউন করে দিয়েছে আশেপাশের লোকজন। কারণ সকলের ধারনা মৃত ঐ যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। 

 

জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে পালপাড়া এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় এক যুবক জ্বর এবং ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়। এসময় তিনি অসুস্থ শরীর নিয়েই নিজের কর্মস্থল, শহরের নয়ামাটির একটি পোশাক কারখারায় বেশ কয়েকদিন যাতায়ত করেন। 

 

তবে গত বুধবার জ্বর এবং ঠান্ডার প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে তাঁর অবস্থা জটিল হয়ে যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাহায্যে তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

 

এরপর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক অসুস্থ সেই যুবককে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তাই চিকিৎসকদের কথা অনুযায়ী প্রথমে সেই অসুস্থ যুবককে আলী আজগর হাসপাতারে নিয়ে যায় পরিবারের সদস্যরা। 

 

কিন্তু সেখানেও ভর্তি করাতে না পেরে অবশেষে ঠাই হয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে। আর গত বৃহস্পতিবার সকালে তীব্র জ্বর এবং ঠান্ডা নিয়েই সেই যুবকের মৃত্যু হয়। তবে সেই যুবকের মৃত্যুর পর তার চাচাও জ্বরে আক্রান্ত হওয়াতে মৃত যুবকের স্থায়ী ঠিকানা পালপাড়া এলাকাকে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। 


স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস এ বিষয়ে জানান, ঐ যুবক মারা যাওয়ার আগে ৭ থেকে ৮ দিন যাবৎ জ্বরে আক্রান্ত ছিলো। তবে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে সে সময় কোন হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। 

 

তবে গত বুধবার তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতারে ভর্তি করা হলে সেই যুবক মারা যায়। তবে একই যুবকের চাচা যখন আবার জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যায় তখন পুরো এলাকা জুড়েই একটি আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সকলেরই এখন ধারনা যে সেই যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

 

তিনি বলেন, এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে, সেই যুবক করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না। কারণ কোন পরীক্ষা ছাড়া তো আর সেটা বলা যাবেনা। তবে কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে মৃত ঐ যুবকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। 

 

এছাড়া মৃত ঐ যুবককে যারা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলো নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বাস্থ বিভাগ তাদেরও নমুনা সংগ্রহ করছে বলে আমার কাছে সংবাদ এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত পালপাড়া এলাকার অনেক লোকজন সেল্ফ কোয়ারেন্টিনে আছে।  
 

এই বিভাগের আরো খবর