সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪   ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

মুখ থুবড়ে পড়ছে মহানগরের বলয়ধারী নেতারা  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৪  

 

# একের পর এক বলয় ধরে এবার দিশেহারা বিদ্রোহী গ্রুপ

 

 

প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নারায়ণগঞ্জ মহানগরে বিভিন্ন বলয়ধারী নেতারা মুখ থুবড়ে পরেছে। নানা বলয়ের নানা ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ নানা মত ইচ্ছার কারণে তাদের সাথে একত্মতা প্রকাশকারী মাঠ পর্যায়ের কর্মী ও পরীক্ষিত নেতারা দিন দিন নিষ্ক্রিয়তার দিকে ঝুঁকছেন।

 

যাকে ঘিরে তাদের কর্মকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠন ক্রমেই ব্যক্তি কেন্দ্রিক সংগঠনে পরিণত হচ্ছে বলেও দলীয় পরিমণ্ডলেই অভিযোগ উঠছে। এমনকি বলয়ধারী নেতাদের নানা ভুলের কারণে ও দলটির নেতাদের নিজস্ব সিন্ডিকেট ও অবহেলার কারণে প্রতিদিনই বিএনপির সমর্থন দিন দিন কমছে বলেও মনে করছেন ত্যাগী নেতারা।

 

জানা গেছে, দীর্ঘদিনে নানা হাঁক ডাক দিয়ে মহানগর বিএনপির মূল কমিটির সাথে বিদ্রোহ করে কালাম বলয় ও খন্দকার বলয়ের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়া নেতাকর্মীরা বর্তমানে কোনভাবেই বেশি একটা সুবিধা করতে পারছে না। গুটি কয়েকজন ব্যাতিত বিদ্রোহী বেশিভাগ নেতাদের নেই কোন খোঁজ খবর, গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে কয়েক দফায় ২ মাস ব্যাপী হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি কেন্দ্রীয়ভাবে আসলে ও বলয়ধারী বেশিরভাগ নেতাদের দেখা যায়নি আন্দোলনের মাঠে।

 

সকলেই ছিল যার যার মতো নিজস্ব কাজে ব্যস্ত কিন্তু বিগত দিনে যারা রাজপথের আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন তারা বলয়ধারীদের সাথে থেকে কোনঠাসায় পরছে সেই নেতারা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বলয়ের মধ্যে রয়েছে কালাম-মুকুল বলয়, খন্দকার বলয়, জাকির খান বলয়ে এই তিন বলয়ে পিষ্ঠ হচ্ছে মহানগর বিএনপি একাধিক সাবেক নেতারা। এদিকে সাবেক এমপি কালাম অসুস্থ থাকায় তার ভাই আতাউর রহমান মুকুল তার সেই পুরনো কালাম বলয়কৃত নামটি ধরে রেখেছে।

 

এদিকে এই আতাউর রহমান মুকুল বিগত দিন থেকেই লাঙ্গলের নেতা সেলিম ওসমানের সাথে সুসম্পর্কে জড়িয়ে আছেন। ২০১৪-২০১৮ সালের নির্বাচনগুলোতে প্রকাশ্যে সেলিম ওসমানের নির্বাচনী প্রচারনাসহ তার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে কাজ করেছেন। এদিকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ও এই মুকলকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি বন্দরে একটি নির্বাচনী বৈঠকে লাঙ্গলের এমপি সেলিম ওসমান সকলকে বলেছেন মুকুল বহুবার আজকে এখানে আসতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি আসতে না বলেছি।

 

কিন্তু জানা গেছে, তারই পক্ষে তার সহযোগী হান্নান, সুলতান,মুরাদ সেখানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সেলিম ওসমান মঞ্চে আরো বলেছিলেন আমি মুকুলকে বলেছি সে যেন নির্বাচনের ১১টি গরু কেটে বন্দরে তার উপজেলাবাসীকে খাওয়ায় তার এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আর সেখনে মুকুলের ঘনিষ্ট নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকায় সেই অনুষ্ঠানের পর পরই হারিয়েছেন দলীয় পদ পদবী। হয়েছেন দল থেকেই বহিস্কার। তবে তিনি একা নন, সেখানে উপস্থিত থাকার তার সহযোগীদের কেন্দ্রীয় বিএনপির বহিষ্কার করেছেন।

 

এছাড়া ও বিএনপির আন্দোলনের প্রথম থেকে শেষ মুহুত্ব নির্বাচন এর মধ্যে একদিনের জন্য সরকারের এই নির্বাচনী বিরোধী আন্দোলনের সাথে বিএনপির কোন নেতার সাথে একত্মতা প্রকাশ করেনি তিনি। যার কারণে তার সাথে মহানগর বিএনপি থেকে বিদ্রোহী করা কেউ আন্দোলনের কোন ভূমিকায় অংশগ্রহণ করেনি।

 

এছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির সাথে বিদ্রোহ করেছিলেন যে ১৫ জন জানা গিয়েছিলো তারা বিএনপির সাবক নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের বাড়িতে বসেই তাদের বিদ্রোহের বিষয়ে বৈঠক করে মহানগর বিএনপির মূল কমিটির সাথে বিদ্রোহ করেন। কিন্ত তৈমূর আলম খন্দকার যখন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ছিলেন তার বিএনপি তাকে ডাকেনি তখন তিনি বিদ্রেহীদের কথা চিন্তা না করেই বিএনপি থেকে বেড়িয়ে প্রায়ত নেতা নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপিতে মহা-সচিব হিসেবে যোগদান করেন।

 

যাকে ঘিরে বিদ্রোহী নেতারা বেকায়দায় পরেন। তারপর থেকে তারা তৈমূল বলয় থেকে পুরো পুরো বেড়িয়ে কালাম-মুকুল বলয়ে সাথে বেশি মেশা শুরু করেন। যাকে ঘিরে বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের ছোট ভাই যিনি এখনো বিএনপিতে আছে কাউন্সিলর খোরশেদ তার সাথে ও কোন যোগসাজশে যায় না। কিন্তু এবার মুকুল ও তার সহযোগীরা বিএনপি থেকে বেকায়দায় পরলে এখন দিশেহারা হয়ে আছেন বিদ্রোহ কর নেতাকর্মীরা।

 

এরই মধ্যে মহানগর বিএনপির আরেকটি বলয় হিসেবে পরিচিত জাকির খান বলয় যারা একদিন মহানগর বিএনপির মূল কমিটির সাথে থাকে আবার তারাই আবার যায় বিদ্রোহ গ্রুপের সাথে। কিন্তু মহানগর বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদলের কমিটি গঠনের মাধ্যমে জাকির বলয় অনেকেই ছিটকে পরেছেন রাজনীতির বাহিরে যার মধ্যে রয়েছেন যুবদল নেত পারভেজ মল্লিক, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারন সম্পাদক জিয়াউল উদ্দিন জিয়া ছাড়া অনেকে কিন্তু যেহেতু মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আছেন জাকির খানের চাচা মনির খান।

 

সেই পরিপ্রেক্ষিতে মনির খানের ছেলে লিংকন খান ও লিং রাজ খান তারা মহানগর বিএনপির মূল কমিটির সাথে একত্মতায় আছেন। এদিকে বলয়ধারী নেতারা যে এক কোনভাবেই মহানগর বিএনপির মূল কমিটির সাথে কুলিয়ে উঠতে পারবে না। সেই কথা আগে থেকেই চিন্তা করে মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এড. জাকির ও যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী নূর উদ্দিন তারা বিদ্রোহী দল থেকে বেড়িয়ে মহানগর বিএনপির মূল কমিটির সাথে একত্মতা প্রকাশ করেছিলেন।

 

আর যারা এখনো মহানগর বিএনপির মূল কমিটির সাথে একত্মতা প্রকাশ না করে একের পর এক বলয়ের সাথে মিশে বেড়াচ্ছেন তারা এবার রাজপথে মুখ থুবড়ে পরেছেন। তারা চিন্তা করেছিলেন যেহেতু কালাম বলয়, খন্দরকার বলয়, জাকির খান বলয় তাদের সাথেই ছিল যাকে ঘিরে মহানগর বিএনপির মূল কমিটির কোন দরকার নেই।

 

কারণ কেন্দ্র মহানগর বিএনপি হিসেবে এই বলয়কেই চিনে কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি কেন্দ্র এবার আরেক দিকে চলে গেছে এবার রাজপথে কে আে সেদিকে লক্ষ্য করেই চলছে কেন্দ্র কে বিগত দিনে রাজনীতিতে অনড় ভূমিকা রেখেছে। সেটা দেখার সময় এবার নেই। সেটা বুঝতে পেরেই খন্দকার বলয় ও জাকির খান বলয় এক ভাগ মূল কমিটির সাথে চলে গেছে। আর খন্দকার বলয় একটি বিএনপির বাহিরে একটি আছে ছন্নছাড়া হিসেবে আর কালাম বলয়ে মুকুল ও কালাম বলয়ের সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে।

 

দলীয় সূত্র বলছে, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. শাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব হিসেবে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পরেছেন।

 

সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে ১৫ জন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। পদত্যাগকারী নেতারা হলেন- মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা আব্দুস সবুর খান সেন্টু, হাজী নুরুদ্দিন, বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা।

 

সেই সাথে সদস্য পদে থাকা পদত্যাগকারী নেতারা হলেন- আওলাদ হোসেন, হান্নান সরকার, অ্যাডভোকেট বিল্লাল হোসেন, মনোয়ার হোসেন শোখন, আলমগীর হোসেন, হাসান, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা, শহীদুল ইসলাম রিপন, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা, আমিনুর ইসলাম মিঠু, ফারুক হোসেন, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু, মো. ফারুক হোসেন।

 

এর মধ্যে এড. জাকির হোসেন ও হাজী নুরু উদ্দিন যখন দেখেছেন বিদ্রোহ কমিটি এখন আন্দোলনে নেই কোথাও নেই যে কোন টাইমে বেকায়দায় পরেত পারে সে দিকে লক্ষ্য রেখে তারা মহানগর বিএনপির মূল কমিটির একত্মতা প্রকাশ করেন। কিন্তু বাকিরা এটা না বুঝতে পেরে এবার কোনঠাসা হয়ে পরেছেন। তারা সকলেই একের পর এক বলয়ের সাথে গিয়ে ও কিছূ করতে পারেনি।

 

এদিকে কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আবুল কাউসার আশা তিনি যেহেতু কাউন্সিলর হিসেবে রয়েছেন যাকে উনি একটি কার্যক্রমে ব্যস্ত আছেন সে রাজনীতিতে না থাকলে ও কিছু আসে যায় না বললে ও চলে অপর দিকে তারই চাচা বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল তিনি আবার ও বন্দর উপজেলার নির্বাচনে অংশ নিবে আর যেহেতু উনি বহিষ্কৃত নেতা তার দল থেকে নির্বাচন করতে কোন পারমিশন লাগবে না।

 

আর যেহেতু উনি একজন এমপির ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে সু পরিচিত সেহেতু উনি এবার ও নির্বাচিত হতে ও পারে তা বলা যায় না, তিনি তার সহযোগী হান্নান সরকারকে ও তার থেকে রেখে দিবে কোন সমস্যা হবে তারও বিদ্রোহী নেতা ও মহানগর বিএনপির সদস্য মনোয়ার হোসেন শোখন সে তারা মাছের ব্যাবসা, কাঠের ব্যাবসা নিয়ে ব্যস্ত আছেন রাজনীতিতে এমন একটি গুরুত্ব দেয় না, সদস্য হাসান তিনি তার স্ত্রী কাউন্সিলর বিভার বড়াই দিয়ে রাজনীতি লাগবে না প্রভাব খাটিয়ে যাবে।

 

কিন্তু যারা বিগত দিনে রাজপথে ব্যাপক ভূমিকায় ছিলেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সবুর খান সেন্টু, আওলাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট বিল্লাল হোসেন, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা, শহীদুল ইসলাম রিপন, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা, আমিনুর ইসলাম মিঠু, ফারুক হোসেন, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু, মো. ফারুক হোসেন এরা যেহেতু বিগত দিনে রাজপথের একটি ভূমিকায় ছিলেন এখন তারা যাদের ভরসায় ছিলেন তাদের রাজপথ থেকে ছিটকে পড়ায় তাদের রাজনীতি যাবে এবার কোন পথে।

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, দল সবার সকলেরই দলের মধ্যে কাজ করার অধিকার রয়েছে। মহানগর বিএনপির সাথে যারা বিদ্রোহ করে আলাদাভাবে রয়েছে তারা যদি দলের শৃঙ্খলা মেনে আমাদের সাথে কাজ করতে পারে আর একত্মতা প্রকাশ করতে চায় এখানে আমাদের কোন বাঁধা নেই দরজা সকলের জন্য উন্মুক্ত আছে। যারা বহিষ্কৃত হয়েছে তারা ব্যাতিত কারণ তাদের বিষয়টা কেন্দ্রীয়ভাবে বুঝবে। এস.এ/জেসি

এই বিভাগের আরো খবর