মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২৩ ১৪২৬   ১৩ শা'বান ১৪৪১

মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ আজও ভুলতে পারি না : নাফিজ আশরাফ

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০১৮   আপডেট: ১৫ জুন ২০১৮

স্টাফ রির্পোটার (যুগের চিন্তা ২৪) : ৫০ বছর আগের ছোটবেলা আর ৫০ বছরের পরের বড়বেলার সাথে তো অবশ্যই পার্থক্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ছোটবেলার ঈদ উদযাপন ছিলো অন্যরকম। যুগের চিন্তা ২৪’র সাথে ঈদ আড্ডায় শৈশব আর এখনকার ঈদ উদযাপনের পার্থক্য নিয়ে কথা বলছিলেন এনটিভি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি নাফিজ আশরাফ।

 

তিনি জানান, মুলত আমার শৈশবটা কেটেছে গ্রামে। ছোটবেলায় নতুন পোশাকের প্রতি ঝোঁক ছিল। একেবারে যখন ছোট ছিলাম তখন একটা হাফ প্যান্ট-শার্ট পেতাম। তারপর যখন একটু বড় হলাম তখন পাঞ্জাবী-পায়জামা পেতাম। ছোটবেলার ঈদের কেনাকাটা স্মৃতি নিয়ে জানতে চাইলে নাফিজ আশরাফ জানান, আমার ঈদের জামাটা আসত চাঁদ রাতে। বাবা ঢাকায় থাকার সুবাদে বাবা যখন চাঁদ রাতে ফিরতেন তখনই আমাদের জন্য জামা কাপড় নিয়ে আসতেন। তারপর পরের দিন সকাল বেলা আমরা হাতে জামা পেতাম।

 

ঈদে ছোটবেলার সালামি নিয়ে নাফিজ আশরাফ জানান, ছোটবেলায় সালামি ব্যাপারটা সেভাবে কাজ করতো না। বড়দের সালাম করতাম তারপর চলে আসতাম। কিন্তু সালামির জন্য কখনও সালাম করতাম না। ঈদের দিনে ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাইলে নাফিজ আশরাফ জানান, ঈদের দিনের ব্যস্ততা নেই তেমন। ঈদের দিন আমি তেমন কোথাও বের হওয়ারও পরিকল্পনাও নেই। শুধু পরিবারকে সময় দেব। তবে বিকেলের দিকে বন্ধু ও সহকর্মীদের সাথে আড্ডা দিতে বের হব। সেটা প্রেসক্লাবে হতে পারে, খাজা মার্কেটের সামনে আমাদের একটা আড্ডার জায়গা আছে সেখানেও আড্ডা দিতে পারি। আবার ফতুল্লায় আমাদের বন্ধু আছে সেখানেও আড্ডা দেয়া হতে পারে। ঈদে বাসায় পছন্দের খাবার নিয়ে জানতে চাইলে নাফিজ আশরাফ বলেন, এখনতো মেয়েরা বড় হয়ে গেছে ওরা বিভিন্ন আইটেম তৈরী করে। এছাড়া আমার স্ত্রীও বিভিন্ন আইটেম তৈরী করে। তো অনেকসময় দেখা যায় এমন খাবার থাকে যে যেটার নামও আমি জানি না। তবে ছোটবেলায় মায়ের হাতে তৈরী একটা আইটেম ছিল সেটা হল দুধে ভোজানো খুরমা। সকালবেলা উঠে আমরা যখন গোসল করে নতুন জামা পড়ে বসতাম তখন মা আমাদের দুধে ভেজানো খুরমা খেতে দিতেন।

 

আমার খুব পছন্দ ছিলো। তারপর সেমাই খেতাম। দুুপুরে পোলাও রান্না করত। আসলে মায়ের হাতের রান্না কখনই তুলনা হয় না। মা যেকোনো তরকারী রান্না করত মাছ হোক,সবজি হোক ,মাংস হোক সব ধরনের খাবারই খুব ভালো লাগতো। মা মারা গেছে ২০০৭ সালে কিন্তু আজও মায়ের হাতের রান্নার যে স্বাদ ভুলতে পারি না। বিশ্বকাপ ফুটবলের পছন্দের দল নিয়ে জানতে চাইলে নাফিজ আশরাফ জানান, আমি কোনো দলই সমর্থন করছিনা। কারণ আমি কোনো দলকে আলাদা ভাবে প্রধান্য দেই না। তবে যে দল ভালো খেলবে আমি সে দলকেই সমর্থন করবো। পরিবার ছাড়া ঈদ উদযাপন প্রসঙ্গে নাফিজ আশরাফ জানান, পরিবার ছাড়া ঈদ উদযাপন হয়েছে যখন আমি সৌদি আরব ছিলাম।

 

প্রায় অনেক দিন ছিলাম সেখানে। তখনই আর কী পরিবার ছাড়া ঈদ উদযাপন করা হয়েছিল। ঈদ আড্ডার শেষ পর্যায় নাফিজ আশরাফ ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও নারায়ণগঞ্জবাসীকে উদ্দেশ্য করে জানান, সবার ঈদ ভালো কাটুক। আনন্দে এবং সুস্থভাবে কাটুক। আর অবশ্যই ঈদের সময়টা যাতে কোনো মাদকের উৎপাত না থাকে । পাশাপাশি ঈদের সময় যে ঈদের ডিজের ব্যাপারটা আছে এটা খুবই বিরক্তিকর। যদি শব্দদূষণের এই প্রক্রিয়াটা বন্ধ রাখা হয় তাহলে ভালো হয়।

এই বিভাগের আরো খবর