বুধবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

মামলায় জামিনের পর রাজপথে নামা শুরু করবে বিএনপি

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৪  

 

 
দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাহিরে অবস্থান করছেন বিএনপি যাকে ঘিরে নানা হামলা-মামলার নির্যাতনের পর সরকারের বিরুদ্ধে নানা ইস্যু নিয়ে ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে টানা একের পর এক কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটির নেতাকর্মীরা। মহাসমাবেশের মধ্য দিয়েই গত ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর নিস্কিয় থাকা দলটি আবারো রাজপথে কঠোর হয়। পরবর্তীতে একের পর নানা কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

 

 

এরই মাঝে আন্দোলনের মাঝে মাঝে সরকার পতনের কয়েক দফা ডেট লাইন ও দেওয়া হয়েছিল যা ইতিপূর্বে সফল হয়নি। তারই মাঝে জেলা বিএনপি-মহানগর বিএনপিসহ নানা অঙ্গসংগঠনের কমিটি দেওয়া হয়। যার ফলে রাজপথে কঠোরভাবে নানা আন্দোলন নিয়ে মাঠে নামে, তা ছাড়া দেখা গেছে আন্দোলন হলেই বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাসহ নানা হয়রানি সুনিশ্চিত ছিল।

 

 

যাকে ঘিরে সব দিক দিয়েই ম্যানেজের মাধ্যমে টানা দেড় বছর কর্মসূচি চালিয়ে গেছে জাতীয়তাবাদী দলটি। এরই মধ্যে গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সমাবেশকে কেন্দ্র করে জনমনে বিশাল আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিলো। আওয়ামী লীগ বলেছিলেন বিএনপিকে সেদিন ঢাকায় অবস্থান করতে দেওয়া হবে না, তাদের বসতে ও দেওয়া হবে না।

 

 

এদিকে বিএনপি বলে ছিলেন এই মহা-সমাবেশের মাধ্যমেই বিএনপি আন্দোলনে কঠোর ভূমিকায় যাবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির মহা-সমাবেশকে লক্ষ্য করে সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে ও পুলিশি ধরপাক্কর ও মামলার কবলে পরে বিএনপি। যার কারণে আগে থেকেই আত্মগোপনে থেকে মহা-সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু করে দেয় দলটি। আর সেই হিসেবেই মহা-সমাবেশের পূর্বের দিন নেতাকর্মীরা ঢাকার মাঠিতে অবস্থান করেন।

 

 

সেখানে অবস্থানে গিয়ে ও গ্রেফতার বিপাকে পড়েছেন বিএনপির বহু নেতাকর্মী। কিন্তু সমাবেশ সফল করার আকাঙ্খায় নেতাকর্মীরা ঢাকায় ছিলেন। এদিকে পুলিশি পারমিশন পেয়েই রাতে মহা-সমাবেশের ভেন্যু তৈরি শুরু করে দলটি। আর রাতেই নয়া পল্টনের রাস্তাঘাট জনসমুদ্রে পরিণত হতে থাকে। রাত পোহালে সকালেই বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে সমাবেশ সফলের প্রস্তুতি শুরু করে।

 

 

ধীরে ধীরে সমাবেশস্থলে লোকেলোকারন্ন হয়ে পরে আর সমাবেশ চলতে থাকে জানা গেছে, ডিএমপির পুলিশের দেওয়া সময় অনুযায়ী সমাবেশ শেষ করার লক্ষ্য হিসেবেই সমাবেশ শুরু করে। কিন্তু যখন সময় পেড়িয়ে দুপুর ১২টা সেই সময় হঠাৎ নয়া পল্টন এলাকায় বিএনপির সমাবেশ পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হামলা হয় এমনটাই জানিয়েছে নেতৃবৃন্দ।

 

 

এই সমাবেশে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এতে এক পুলিশ বাহিনী নিহত হয়েছে আর একজন বিএনপির নেতা নিহত সহ আরো অনেক আহত-গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। এক কথায় বলা চলে গত মাসের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিলো। সেই ধারাবাহিকতায় তার পর দিন ২৯ অক্টোবর সারা বাংলাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

 

সেদিন বিএনপির মহা-সচিবসহ মির্জা ফখরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার পর আবার ৩১ থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সর্বাত্মক অবরোধ ঘোষণা করে দলটি। এর পর থেকেই কঠোর আন্দোলনের লক্ষ্য হিসেবে একের পর এক হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে যায় বিএনপি যা সফল করতে ব্যর্থতার প্রমান দিয়েছে নেতাকর্মীরা শুধু ঝটিকা ছিল তাদের ভূমিকা।

 

 

যাকে ঘিরে বিএনপিকে নির্বাচনের বাহিরেই রেখেই এক তরফা নির্বাচন করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলো। কোনভাবেই নির্বাচন ঠেকাতে না পেরে দীর্ঘ ৩/৪ মাস যাবৎ আত্মগোপনে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজ নিজ বাসভবনে ফিরে আসছে এছাড়া ও যেহেতু মামলায় জর্জরিত অবস্থায় রয়েছে নেতাকর্মীরা সামনে আন্দোলনে রাজপথে নামতে যেন কোন পুলিশি হয়রানি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই মামলার জামিনের কার্যক্রম অবহৃত রেখেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

 

জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে নারায়ণগঞ্জের প্রায় ২ হাজারের অধিক বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে নাশকতা মামলা হয়েছিলো এর মধ্যে প্রায় ১ হাজারের বেশি নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। এদের জামিন করিয়ে কারামুক্ত ও যারা দীর্ঘদিন মামলা খেয়ে আত্মগোপনে ছিলেন তারা সকলেই তাদের জামিন মঞ্জুর করানোর কার্যক্রম অবহৃত রেখেছেন। তারপরই আবারো রাজপথে সভা-সমাবেশের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি।  

 


এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, অনেকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এই মুহুর্ত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাই কোর্ট-জজ কোর্টে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন মামলাগুলোর জামিনের জন্য।

 

 

শীগ্রই আশ করছি মামলাগুলোর জামিন হবে। তারপর কেন্দ্রেীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিবো। এখন কেন্দ্র আমাদের যে ধরনের কর্মসূচি দেয় আমরা রাজপথে থেকে সেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবো।

 


জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা বর্তমানে মামলায় জর্জরিত যাকে ঘিরে কেউ রাজপথে আসতে পারছেন না। সকলে এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন যাকে ঘিরে কেন্দ্র আমাদের কোন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করছে না। এখন বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এগুলো জামিন হলেই বিএনপির নেতারা আবারো নতুন আন্দোলন নতুন রূপে নিয়ে রাজপথে থাকবে।

এই বিভাগের আরো খবর