শনিবার   ২৫ মে ২০১৯   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬   ২০ রমজান ১৪৪০

মাংসের বাজারে ক্রেতা বিক্রেতাদের হতাশা 

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪): রোজার আগেও বাজারে বিভিন্ন মাংসের দোকানে, গরুর মাংসের দাম ছিলো কেজিতে ৭০০ টাকা। এতে ক্রেতাদের মধ্যে একটা হতাশা  তৈরী হয়েছিলো। মাংস কিনতে এসে দাম শুনেই বাড়ি ফিরে গেছে । 


তবে মাহে রমজানে রোজা শুরু হতেই একটু একটু করে দাম কমতে থাকায় নগরীর ব্যস্ততম বাজারগুলোতে গরুর মাংসের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় আবারও বাড়তে শুরু করেছে।


১৪ মে নগরীর দিগুবাবুর বাজারে দেখা যায়, প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে। ঈদের আগে গরুর মাংসের দাম আরো বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন মাংসের দোকানে।


মাংস কিনতে এসে আবু জাফর নামে একজন বলেন, এলাকা ও শহরের অনেক জায়গাতে আলোচনা হচ্ছে যে ঈদের আগেই গরুর মাংসের দাম আবারো বাড়বে তাই দাম বাড়ার আগেই কিনে নিচ্ছি। এখন ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি মাংস। কিন্তু ৫০০ এবং এর নিচে থাকলে আমাদের মিডেল ক্লাস (মধ্যবিত্ত) দের জন্য ভালো হবে। 


অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিগুবাবুর বাজারের এক মাংসের দোকানের ম্যানেজার বলেন, আমারা দেশের বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চল গরু কিনে তারপর এখানে মাংস বিক্রি করি। সড়ক পথে এই গরুগুলো আনার সময় বিভিন্ন চাঁদা দিতে হয়। তাছাড়া গরুর হাট থেকেও যদি গরু কিনি সেখানেও চাঁদা দিতে হয়। 


এখন যে টাকায় গরু কেনা হয় তার সাথে যানবাহন ভাড়া সবমিলিয়ে গরুর দাম দ্বিগুন হয়ে দাড়ায়। তখন তো এই দামে ছাড়া মাংস বাজারে ছাড়তে পারি না। সরকার নির্ধারিত মূল্যে মাংস বিক্রির করতে বলছে কিন্তু চাঁদাবাজিটা তো বন্ধ করতে বলল না। যদি চাঁদাবাজি থামানো যায় তাহলে মাংসের দাম  কমানো সম্ভব।


এদিকে অধিকমূল্যের কারণে খাসির মাংসের দিকে কেউ তাকায়ও না বলে মন্তব্যে করেছে খাসির মাংস বিক্রেতারা। ১৪ মে বুধবার দিগুবাবুর বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস  বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকা এবং ভেড়া ও বরকি ৬৫০ টাকা। 


কিন্তু গরুর মাংসের বিক্রেতারা যেখানে ক্রেতাদের ভিড়ে নিশ্বাস ফেলারও সুযোগ পাচ্ছেনা! কিন্তু খাসির মাংসের দোকানগুলোতে ঝুলন্ত খাঁসি মাংস ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাওয়া যায়নি। মাটন হাউজের মালিক মো: আলম মিয়া বলেন,  বৃটিশ আমল থেকে আমার বাপ দাদারা এখানে খাসির মাংষ বিক্রি করেছে। এখন আমি করছি। 


আমার এই দিগুবাবুর বাজারে খাসির মাংসের ব্যবসা ৩০ বছর ধরে, কখনো লসে মাংস বিক্রি করি নাই। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে শুধু আমি নই এই বাজারে যে কয়জন খাসির মাংস বিক্রেতা আছে সবাই পারলে লসেই মাংস বিক্রি করছে। কারণ খাসির মাংসের দিকে কেউ তাকায়ও না।


রতন মিয়া নামে আরেক বিক্রেতা জানায়, খাসির মাংস এখন কিছু কিছু শৌখিন মানুষ ছাড়া অন্য কেউ খায় না। এর কারণটাও আমাদের যানা নেই কেন এমন হচ্ছে। তবে যদি এমনেই চলতে থাকে তাহলে আমাদের আর বেশিদিন ব্যবসা করা হবেনা।   
এছারা, বয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১৩০ টাকা এবং দেশি লাল মুরগি প্রতিকেজি ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।   
 

এই বিভাগের আরো খবর