বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২৫ ১৪২৬   ১৫ শা'বান ১৪৪১

মহিলা কলেজের বাথরুমে ছিটকিনি নেই

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের বাথরুমে ছিটকিনি নেই। নোংরা ও দুগর্ন্ধে এ বাথরুমগুলো ব্যবহার অযোগ্য। তারপরও বাধ্য হয়ে ছাত্রীদের তা ব্যবহার করতে ও নানা বিড়ম্বনা সইতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এখানে কলেজ ক্যাম্পাস বলতে কিছু নেই, শ্রেণিকক্ষে যথেষ্ট বেঞ্চ নেই, কলেজে বিশুদ্ধ পানি নেই, ক্যান্টিন সুবিধা নেই, ল্যবরেটরিতে পরীক্ষার প্রয়োজনীয় উপাদান নেই, সেখানে আলোস্বল্পতাও রয়েছে। এ কলেজে কোন বাৎসরিক এক্সটারনাল কারিক্যুলামও নেই। 

 

একাদশ, দ্বাদশ, অনার্স আর মাস্টার্স মিলে ১২ হাজার ছাত্রী এখানে লেখাপড়া করে। কলাভবন, প্রশাসনিক ভবন ও অর্নাস ভবনসহ এখানে তিনটি ভবনে চলছে কলেজ কার্যক্রম। কিন্তু নিয়ম আর প্রয়োজন অনুযায়ী ভবনগুলোর সব তলাতে যথেষ্ট বাথরুম (শৌচাগার) ব্যবস্থা নেই। যা আছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং অপরিচ্ছন্ন বলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার অনুপযোগী।

 

ছাত্রীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আমাদের এসব অভিযোগ নিয়ে যাদের কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টির কথা তারা এখানে নীরব। শিক্ষকরা এখানে প্র্যাকটিক্যালে নম্বর কম দেয়ার হুমকি দেন। কেউ চায় না তাদের রোষানলে পড়তে। তবে, বাথরুম নিয়ে সবার সাধারণ অভিযোগ রয়েছে। 

 

এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এখানে কোন বাথরুমের দরজা ভাঙা, কোনটায় ছিটকিনি নেই, কোনটায় ছিটকিনি আছে কিন্তু তা লাগানোর ব্যবস্থা নেই। কোথাও বেসিন আছে তো পানির সংযোগ নেই, আবার কোথাও পানি পড়ছে তো পড়ছেই। তা থামানোর ব্যবস্থা নেই। অনেকে জানান, তারা কলেজের বাথরুম ব্যবহার করেন না। কষ্ট হলেও বাসায় গিয়েই কাজ সারেন।

 

সরেজমিন তদন্তেদেখা গেছে, কলা ভবনের লাগোয়া বাথরুমটি একেবারে নোংরা ও ব্যবহার অনুপযোগী। প্রশাসনিক ভবনের প্রথমতলায় বাথরুমের অবস্থা আরো বেহাল। কোনোটার দরজা ভাঙা,কোনোটার দরজা আছে তো ছিটিকিনি নেই, আবার কোনটায় সবকিছু ঠিক থাকলেও ছিটিকিনি লাগানোর ব্যবস্থা নেই। এই ভবনের অন্যান্য তলার বাথরুমগুলোরও একই দশা। 

 

নতুন ভবন নামে পরিচিত অর্নাস ভবনে গিয়ে দেখা যায় একটি করুণ দৃশ্য। নোংরা ও দুর্গন্ধের জন্য বাথরুম ব্যবহার করা না গেলেও ফ্যাশন সচেতন মেয়েরা তাদের চুলের ছাট, শাড়ির পাট ও মুখের ঠাট বজায় রাখতে এখানে আয়নাটি ব্যবহার করতে আসে। এখানে আসা এক মেয়ে জানান, বাথরুম ব্যবহার অযোগ্য হলেও আয়নাটি ব্যবহার করা যায়। 

 

এ ভবনের প্রথম তলায় লাইব্রেরির পাশেই একটি নোংরা, আবর্জনা ও দুর্গন্ধময় বাথরুমের অবস্থান। কিন্তু তা নিয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই লাইব্রেরি কর্মকর্তা মমিনুল্লার। তার বক্তব্য, আমার কিছু করার নেই। বাথরুম ব্যবহার করতে হলে আপনাকে উপরে যেতে হবে। দ্বিতীয় তলার বাথরুমে চক্ষু চড়কগাছ। এগুলো নোংরা ও দুর্গন্ধে আরও বিপর্যয়কর। তবে, এ ভবনের ৩য় তলার বাথরুমগুলো কিছুটা ব্যবহারযোগ্য।

 

মুক্তিযোদ্ধা মো. সেলিম নামে এক অভিভাবকের অভিযোগ, এ কলেজে ছাত্রীদের নিজ ব্যাচে পড়তে বাধ্য করতে শিক্ষকরা নম্বর কম দেন। তার মেয়েকে একটি বিষয়ে পঞ্চাশে মাত্র বার দেয়া হয়েছে। তার মেয়ে গোল্ডেন ফাইভ পাওয়া ছাত্রী। সে বলেছে, কম হলেও উক্ত বিষয়ে তার ৩০ পাওয়ার কথা। এ ব্যপারে তিনি তার মেয়ের খাতা পুর্নমূল্যায়নের চেষ্টা করছেন। তবে, কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এ কলেজের প্রিন্সিপাল একজন সচিবের স্ত্রী। বোধ করি, প্রশাসনও তাকে তোয়াজ করে চলে।

 

নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের এসব সমস্যা নিয়ে আলাপকালে কলেজের অধ্যক্ষ বেদৌরা বিনতে হাবিব জানান, কলেজের মেথর অন্যান্য জায়গাতেও কাজ করে। সে অত্যন্ত ফাঁকিবাজ। ঠিকমতো কাজ করে না। এ কলেজের জন্য সরকারের কাছে একটি দশ তলা ভবনের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। সে ভবন হলে সকল সমস্যার নিরসন হবে। 

এই বিভাগের আরো খবর