শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২১ ১৪২৬   ১০ শা'বান ১৪৪১

মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসছে নিজাম

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বিশেষ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে এখন বেশ সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন। সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা আগামীতে নেতৃত্বে আসছেন কারা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে কে যোগ্য, কে যোগ্য নয়, নেতাকর্মীদের কাছে কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি-এ বিষয়গুলো উঠে আসছে আলোচনাতে। 

 

তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মুখে মুখে ফিরছে কয়েকটি নাম। বিগত সাত বছরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের একটি ওয়ার্ড কমিটিও গঠিত হয়নি। এদিকে কেন্দ্রের নির্দেশ, আগামী ৬ মার্চের মধ্যে মহানগর কমিটি গঠন করতে হবে।  তারিখ ঘোষণার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দু’টি ব্লকে তোড়জোড় শুরু হয়েছে কমিটি নিয়ে। 

 

সভাপতি পদে আনোয়ার হোসেন, এড. খোকন সাহাসহ আরো কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে খুব জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে শাহ নিজাম, আহসান হাবিব, আহমেদ আলী রেজা উজ্জ্বল, জিএম আরাফাত ও জিএম আরমানের নাম।

 

এ সকল নাম ছাপিয়ে শাহ নিজাম আগামীতে মহানগরের নেতৃত্বে আসছেন বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বোদ্ধামহল। বিষয়টি শামীম ওসমান বলয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। শাহনিজামকে শামীম ওসমান বলয় সাপোর্ট দিবেন বলেও মনে করছেন অনেকে।  

 

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শামীম ওসমানের রাজপথের বিশ্বস্ত সৈনিক শাহ নিজাম। গতকাল রাতে তিনি যুগের চিন্তাকে বলেছেন, আমি যাঁর নেতৃত্বে রাজনীতি করি আমার নেতা শামীম ওসমানের হৃদয়ে ঠাঁই পাওয়ার জন্য রাজনীতি করি। শামীম ভাইয়ের হৃদয়ে স্থান পাওয়াই আমার জন্য বড় পোস্ট। তবে আমি সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশা করি। আশাকরি আমার নেতা শামীম ওসমানের পূর্ণ সমর্থন থাকবে আমার প্রতি। 

 

শাহ নিজাম আরও বলেন, সর্বোপরি দলের স্বার্থে শামীম ভাইয়ের যে কোন সিদ্ধান্ত আমি অবনত মস্তকে মেনে নিব। দলকে গতিশীল করাটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এ জন্য প্রথমে ইউনিটগুলোকে সাজাতে হয় আদর্শ, অনুগত, নিষ্ঠাবান লোক দিয়ে। ইউনিট শক্তিশালী হলে দল গতিশীল হবে। এ জন্য প্রত্যেকটা ইউনিট সম্মেলনের মাধ্যমে করতে হবে। ঘরে বসে কমিটি করলে দল গতিশীল হবে না। এ কারণেই নেতাকর্মীরা এবার পরিবর্তন চাইছেন।

 

কেমন চলছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি ? একটি সাদামাটা প্রশ্নের উত্তরে লুকিয়ে আছে কিছু ব্যর্থতা, হতাশা, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অল্প সাফল্য গাঁথা। মহানগর আওয়ামী লীগের কাছে জননেত্রী শেখ হাসিনার যতটুকু প্রত্যাশা ছিল তার ছিটেফোটাও পূরণ হয়নি। রাজধানীর অতি সন্নিকটে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সূতিকাগার নারায়ণগঞ্জে মহানগর আওয়ামী লীগের সার্বিক পারফরমেন্স অতি দুর্বল। এই নগরীতেই মহানগর আওয়ামী লীগের কাছে মহানগর নেতাকর্মীরা নিরাপদ নয়। দল ক্ষমতায় থাকার পরও সাংগঠনিক দ্যূতি নেই। ফলে মহানগর আওয়ামী লীগ নিয়ে নেতাকর্মীদের হতাশা দিন দিন বাড়ছে। 

 

সবাই একটা পরিবর্তন চাইছেন। এজন্য সবার আগে মহানগরে ডায়নামিক নেতৃত্ব আনার দাবিটি ক্রমশই জোরালো হচ্ছে। বর্তমান নেতৃত্বে কেহই সন্তুষ্ট নন। কাজেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও ডায়নামিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, মহানগরের কাছেই মহানগরের নেতাকর্মীরা নিরাপদ নয়। বর্তমান নেতৃবৃন্দ ঘরমুখি এবং সেকেলে। তারা যুগের সাথে তাল মিলাতে ব্যর্থ। নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে না।

 

সাংগঠনিকভাবেও ব্যর্থ। দলের কর্মসূচিতে নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতার চিত্র উঠে আসে বার বার। সিনিয়র নেতাদের ভাবখানা এমন যে, আমার কী ! এমন সেলফিস মনোভাব পোষণ করাটাই বর্তমান নেতাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে মহানগরে পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। সবাই চায় যুগোপযোগী তরুণ ও ডায়নামিক নেতৃত্ব। পুরণোদের সহ্য করা যায়না। 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শীঘ্রই জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। জেলা সম্মেলনের আগে আগামী ৬ মার্চের মধ্যে বিভিন্ন কমিটির সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য কেন্দ্রের লিখিত নির্দেশ রয়েছে। সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি গঠন করতে হবে উদ্দিষ্ট তারিখের আগে। তবে, নিয়ম মাফিক মহানগর কমিটি গঠনের আগে ওয়ার্ড কমিটি গঠনেরও আর সুযোগ নেই। সে হিসেবে গণতান্ত্রিকভাবে কাউন্সিল করে মহানগর কমিটি গঠনের সম্ভাবনাও কমে গেছে।

 

এদিকে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, আসন্ন মহানগর কমিটির সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বেশ কয়েক জনের নাম শোনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে আহসান হাবিব, আহমেদ আলী রেজা উজ্জ্বল, জিএম আরাফাত ও জিএম আরমানের নাম শোনা গেলেও এ পদে অনেকটাই এগিয়ে আছে শাহ নিজাম। 

 

এ ব্যপারে আলাপকালে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, আগামী কমিটিতে আমি কোন পদে প্রার্থী হচ্ছিনা। তবে, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা যদি মনে করেন এবং বলেন, মহানগরে আমাকে প্রয়োজন, তাহলেই আমি থাকবো। 

এই বিভাগের আরো খবর